বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মার্কিনবিরোধী আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীরা এ ধরনের ভাইরাস সংগ্রহ করছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের দোসর দেশগুলোতে এসব জীবাণু প্রয়োগ করতে পারে।
চলতি সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে এশিয়ার 37টি দেশের পুলিশ শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এক কর্মশালা আয়োজন করেছে ইন্টারপোল। নভেম্বরে একই ধরনের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়।
সোমবার শুরু হওয়া সিঙ্গাপুরের সম্মেলনে প্রতিনিধিরা ল্যাবরেটরির নিরাপত্তা এবং জীবাণু অস্ত্রের হামলা প্রতিরোধে আইন প্রণয়নে আলোচনা করবেন। এছাড়াও কীভাবে এধরনের হামলার বিরুদ্ধে সাড়া দিতে হবে এনিয়ে খুঁটিনাটি আলোচনা হবে।
2002 সালে ডাকযোগে অ্যানথ্রাক্স জীবাণু পাঠানোর মাধ্যমে 5 জন নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র বায়োটেরোরিজমের বিরুদ্ধে আইন পাস করে। যদিও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সন্ত্রাসী দলগুলো প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহার করছে, তবু যুক্তরাষ্ট্র চায়, জীবাণু নিয়ন্ত্রণ এবং এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে এশিয়ার দেশগুলোও আইন পাস করুক।
কিন' আল-কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন সন্দেহভাজন বন্দি সাবেক মালয়েশিয়ান সেনা ক্যাপ্টেন ইয়াজিদ সাফাত (যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বায়োকেমিস্ট) রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তান থেকে ফেরার পর ইয়াজিদকে 2001 সালে আটক করা হয়।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ রোহান গুনারত্নে জানান, ফিলিপাইনে জামেয়া ইসলামিয়ার হ্যান্ডবুকে দেখা যায়, তারা সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবহার করার জন্য রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এটি মারাত্দক উদ্বেগের বিষয় কিন' এর অর্থ এ নয় যে তারা এ ধরনের হামলা করতে সক্ষম। কেননা, সন্ত্রাসীদের প্রথমে প্যাথোজেন সংগ্রহ ও তা দিয়ে কার্যকর অস্ত্র বানাতে বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয়, যা তারা সহজে পাচ্ছে না।
এশিয়ার অনেক দেশ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বায়োমেডিকেল রিসার্চ শুরু করেছে। ফলে মেডিকেল ল্যাবরেটরির এসব স্পর্শকাতর বস' ভুল লোকের হাতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিকাগোর ডিপল ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ল-এর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষেশজ্ঞ ব্যারি কেলম্যান জানান, বায়োটেরোরিজম প্রতিরোধের প্রধান সমস্যা হচ্ছে, বায়োসায়েন্সের আইনগত দিক দেখাশোনা ছাড়া পুলিশ কী করতে পারে।
চীনে প্রযুক্তির বিস্তার ও এ বিষয়ে দুর্বল বিধিবিধানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। কারণ এসব প্রযুক্তি জীবাণু অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র আরো বলেছে, উত্তর কোরিয়ার জীবাণু অস্ত্র কর্মসূচি রয়েছে এবং তা কমিউনিস্ট দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহে দ্রুত অ্যানথ্রাক্স, স্মল পক্স মহামারী আকারে দেখা দিতে পারে।
যদি কেউ অসদুদ্দেশ্যে জীবাণু কিংবা বিষ প্রয়োগ করে তবে তার যাবজ্জীবন জেল দেয়ার আইন পাস করেছে সিঙ্গাপুর।
নয়াদিলি্লর ইনস্টিটিউট অব পিস এন্ড কনফ্লিক্টের মঞ্জুনাথ কেএস বলেন, একটি সমস্যা হচ্ছে বাজারে কিছু শিল্প প্রযুক্তি সহজলভ্য যা জীবাণু অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে। তিনি আরো জানান, বিয়ার তৈরির মেশিনও মারাত্দক বিষ উৎপাদনে ব্যবহার হতে পারে।
সূত্র:এপি
ট্রান্সক্রিয়েশন হ রবিউল ইসলাম
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




