somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামরিক অর্ডিন্যানেসর কষণ শুরু, ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি গ্রেফতার

১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সামরিক কষণ ইতিমধ্যে ভালোমতই শুরু হয়ে গেল। যদিও পাবলিক খুশি কিন্তু বাস্তবতা এই যে আমাদের সকল সম্ভাবনা তৈরি হবে গণতন্ত্রকে কেন্দ্র করেই। আমাদের দুর্ভার্গ্য যে জুয়াড়ী রাজনীতিবিদরা তাদের সিন , আনসীন খেলার ধুপকাষ্ঠে বলি দিল গণতন্ত্রকে। আমার এ মন্তব্যের সাথে হয়তো অনেকেই একমত হবেন না; বলবেন ভালোইতো আছে দেশ। নৈরাজ্য নেই। শীর্ষ সন্ত্রাসীরা পালাচ্ছে। জনমনে ফিরে এসেছে শান্তি। কিন্তু এই শান্তিই খুব দ্রুত কবরের শান্তিতে রূপ নেবে।
একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, যে ধরণের গনতন্ত্র আমাদের দেশে চালু ছিলো তা ভঙ্গুর, জনগনের সত্যিকার মতামতকে প্রতিফলিত করেনা এবং আরো নানাবিধ সমস্যায় পরিপূর্ন। কিন্তু একথাও সত্য যে দীর্ঘ দেড় দশকের সামরিক শাসনামল আমরা পার করে এসেছি। সন্দেহাতীত ভাবে সে পরিস্থিতি ছিলো আরো ভয়াবহ। সুতরাং যত খারাপ গণতন্ত্রই থাকুক না কেন আমরা মনে করি গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে সামরিক শাসনের অবসান পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক ধারার প্রত্যাবর্তন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অর্জন। এ অর্জনকে আমরা প্রায় মুক্তিযুদ্ধের সমপরিমাণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। অন্তত দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম।
পৃথিবীর প্রায় সবদেশেই গণতন্ত্রকে একটি দীর্ঘ অভিযাত্রার মধ্য দিয়ে থিতু হতে হয়েছে। সে হিসেবে আমাদের গনতন্ত্র একবারেই নবীন। তাছাড়া এর ভিত্তি তৈরি হয়েছে সামরিকতন্ত্রের জান্তব বলাৎকারের ঘা শুকাতে না শুকাতেই। এর সাথে যুক্ত ছিলো অপরিপক্ক মুক্তবাজারী অর্থনীতির পাপ ওবিরামহীন বিদেশী ষড়যন্ত্র। সুতরাং এই গণতন্ত্র সদর্পে মাথা উচু করে দাড়াবে এটা আশা করাই ঠিক না। রাজনীতিবিদরা দোষীতো বটেই তবে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এই দানবেরা ছাড়া অণ্য কারো জায়গা করারই সুযোগ ছিলোনা।
অনেক কথা বলা যায়। একসাথে সবকিছু বলার দরকার নেই। উপসংহার টা এরকম যে একটি দৃশ্যমান নিয়তি যা কোনভাবেই কাম্য নয়, নানা ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে সেই নিয়তিটিকেই আমাদের সামনে হাজির করা হল। আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখলাম। রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে একটি পূর্বলিখিত চিত্রনাট্যের চমৎকার মঞ্চায়ন হলো। যখন ইয়াজউদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে চারিদিকে তীব্র ক্ষোভ এরকম একটি সময়ে ঢাকায় এসেছিলেন মার্কিন পররাস্ট্রমন্ত্রী( দক্ষিন এশিয়া বিষয়ক) মার্ক বাউচার। সংবাদ সম্মেলনে তিনি পূর্ন সমর্থন জানালেন ইয়াজউদ্দিন সরকারকে। দোদূল্যমান পেন্ডুলামটা আবারো তখন ইয়াজউদ্দিনের দিকেই হেলে পড়লো। নৈরাজ্যের পথ তরান্বিত হলো। সর্প হইয়া দংশন করে এখন এলেন ওঝা হইয়া ঝাড়তে।

যদি খুব দ্রুত নির্বাচনের তফসিল হয় তাহলে আমার এই আলোচনা অর্থহীন হয়ে যাবে। আমি সেটাই চাই। চকরাবকরার দাপট আর দেখতে চাইনা। এটা যেন হয় যে সে সময় আমরা পার করে এসেছি। তবে ঘটনাপ্রবাহ আশাবাদী হতে দিচ্ছেনা। কারো অর্ডিন্যানস ইতিমধ্যে জারি করা হয়েছে। আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এখন হুমকির মুখে। বলা উচিৎ প্রায় শেষ। গ্রেফতার করা হয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি সজ্জনকে। সুতরাং আশার গুড়ে যে আপাতত বালি তা বলাই বাহুল্য। দেখা যাক সামনে কি আছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫



মসজিদে বসে মদ খেতে দাও, অথবা সেই জায়গাটা দেখাও যেখানে আল্লাহ নেই।

বহুদিন ধরে গল্প লেখা হয় না!
অথচ আমার গল্প লিখতে ভালো লাগে। সস্তা প্রেম ভালোবাসা বা আবেগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×