somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিন্দুদের ষড়যন্তের কারনে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের প্রথম জেল হয়েছিলো

০২ রা জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শেখ মজিবুর রহমান নিজেই স্বীকার করেছেন হিন্দুদের অত্যাচার নির্যাতনের কথা। এমন কি হিন্দু নেতা, পুলিশ অফিসার, এসডিও সবাই মিলে শেখ মজিবুর রহমানেকে জেলে যেতে হয়েছিলো।
আর আজ শেখ হাসিনা সেই হিন্দুদের কথায় মুসলিমদের, আলেম ওলামাদের নির্যাতন করছে। মুজিবের আদর্শের কথা বলেন। বাবার সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হয়েছে শেখ হাসিনার ।
শুনুন অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে মজিব নিজেই বলেছেন সেই ঘটনা।
শেখ মজিবুর রহমান তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লেখেছেন যে,
“ গোপালগঞ্জ শহরে হিন্দু গ্রাম ছিলো। দু’একজন মুসলমানের উপর অত্যাচারও করতো। আব্দিল মালেক নামে আমার একজন সহপাঠি ছিলো। সে খন্দকার শামছুদ্দিন সাহেবের আত্মীয় হত।
একদিন সন্ধ্যায় আমার মনে হয় মার্চ বা এপ্রিলে মাস হবে । আমি ফুটবল খেলে বাড়িতে এসেছি। আমাকে শামছুল হক ওরফে বাসু মিয়া মোক্তার সাহেব( পরে মহাকুমা আওয়ামীলীগের সভাপতি হয়েছিলেন) ডেকে বললেন মালেক কে হিন্দু মহাসভা সভাপতি সুরেন ব্যানার্ঝির বাড়িতে ধরে নিয়ে মারপিট করছে।
যদি পারো একবার যাও। তোমার সাথে ওদের বন্ধুত্ব আছেঅ। বলে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসো। আমি আর দেরি না করে কয়েক জন ছাত্র ডেকে নিয়ে ওদের ওখানে যাই। এবং ওনুরোধ করি ওকে ছেড়ে দিতে।
রামাপদ দত্ত নামে এক ভদ্র লোক আমাকে দেখেই গাল দিয়ে বসলো। আমিও তার কথার প্রতিবাদ করলাম। এবং আমার দলের ছেলেদের খবর দিতে বললাম”।
........................
“এর মধ্যে রামাপদরা থানায় খবর দিয়েছে । তিনজন পুলিশ এসে হাজির হয়ে গিয়াছে। আমি বলালা। ওকে ছেড়ে দিতে হবে, না হলে কেড়ে নিবো”।
........................
“এরমধ্যে আমাদের সাথে মারপিট শুরু হয়ে গেছে । দুই পক্ষই ব্যাপক মারপিট হয়। আম্রারা দরজা ভেঙ্গে মালেককে নিয়ে চলে আসি”।
........................
“ হিন্ধু নেতারা রাতে বসে হিন্ধু অফিসারদের সাথে পরামর্শ করে মামলা দায়ের করলো। হিন্ধু নেতারা থানায় বসে এজহার ঠিক করে দিলো।
তাতে শামছুল হক ওরফে বাসু মিয়া মোক্তার সাহেব হুকুমের আসামি, আমি খুন করার চেষ্টা করেছি, দাঙ্গাহাঙ্গামা লাগিয়ে দিয়েছি........................।
ভোরবেলায় আমার মামা, খন্দকার শামছুদ্দিন সাহেব, মোক্তার সাহেব, এম এল এর সাহেবের মুহুরী জহুর শেখ, আমার বাড়ির কাছের বিশেষ বন্ধু শেখ নুরুল হক ওরফে মানিক মিয়া, সৈয়দ আলী খন্দকার, আমার সহপাঠি আব্দিল মালেক এবং অনেক ছাত্রের নামে এজহার দেয়া হয়েছিলো।
কোন গন্যমান্য লোকের ছেলেদের বাকী রাখে নাই। সকাল নয়টায় খবর পেলাম আমার মামাসহ কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করে ফেলেছে। ..................
আমার ফুফাতো ভাই, মাদারিপুর বাড়ি, আব্বার কাছে থেকেই লেখাপড়া করতো। সে আমাকে বলে মিয়া ভাই পাশের বাসায় একটু সরে যাও না। আমি বললাম যাব না পালাবো না, লোকে বলবে আমি ভয়ে পেয়েছি”।.....................।
‘’এই সময় আব্বা বাড়ি থেকে ফিরে এসেছেন । তার সাথে দারোগা বাবুও তার পিছনে পিছনে বাড়িতে ডুকে পড়েছে । আব্বার কাছে বসে আস্তে আস্তে সব কথা বললেন। আমার গ্রেপ্তারি পরয়ানাও দেখালেন।
আব্বা বললেন নিয়ে যান। দাড়োগা বাবু বললেন ওখেয়ে দেয়ে আসুক, আমি একজন সিপাহি রেখে যেতেছি। এগারোটার মধ্যে যেন থানায় পোছে যায় । না হলে জামিন পেতে অসুবিধা হবে।
আব্বা জিঙ্গাসা করলেন মারামারি করছো। আমি চুপ থাকলাম । যার অর্থ করেছি’। আমি খাওয়া দাওয়া করে থানায় গেলাম। যেয়ে দেখি আমার মামা, মানিক, সৈয়দ আরও সাত আটজন হবে তাদের পূর্বেই গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আমার পোছার সাথে সাথে কোর্টে পাঠিয়ে দিলো।“
“কোর্ট দারোগা হিন্দু ছিলেন আমাকে দেখেই বললেন মুজিব খুব ভয়ানক ছেলে। ছোরা মেরে ছিলো রামাপদ কে । কিছুতেই জামিন দেয়া যেতে পারে না।“
“আমাদের জেল হাজতের পাঠানোর হুকুম হলো। এসডিও হিন্ধু ছিলো জামিন দিলো না।“ অসমাপ্ত আত্মজীবনী, লেখক শেখ
মজিবুর রহমান , পৃঃ ১২-১৩।
ইতিহাস বলে--
হিন্দু একটা সম্প্রদায়িক জাতি। তা ঐ কালেও ছিলো আর এই কালেও আছে । শুধু পার্থাক্য হলো ঐ সময়ের মুসলিম নেতারা সতর্ক ছিলো এবং সাহসিকতার সাথে মুসলিম স্বার্থ রক্ষার কাজ করেছে। আর আজ হিন্দুদের ডেকে এনে সব দিয়ে দিতে পারলেই সফল মনে করে। নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারে। খাল কেটে কুমির আনার মতো অবস্থা ।ইনসাফ করা হলে একটু হলেও শান্তি পাইতো মুসলিমরা। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমরা আধিকারে আজ সংখ্যালগিষ্ঠ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১:৫৩
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×