প্রজনন স্বাস্থ্যের সুরক্ষা মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সর্বজনীন মানবাধিকারের অংশ। অথচ বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষেরই এ ব্যাপারে সচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করার জন্য সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে নানা উদ্যোগ থাকলেও যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করা এখনও লজ্জার বিষয়। বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার এখনও পৃথিবীর উন্নত দেশ সমূহের চেয়ে অনেক বেশী। জন্মনিয়ন্ত্রণের অপূর্ণ চাহিদা ও অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের কারণে বাংলাদেশে বছরে কয়েক লাখ নারীর মাসিক অনিয়মিত হয়ে পড়ে। অধিকাংশ নারীরা এক্ষেত্রে নিরাপদ ও পর্যাপ্ত এমআর সেবা থেকে বঞ্চিত। মাতৃমৃত্যু কমাতে ও নারীর স্বাস্থ্য উন্নয়নে এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ সেবাদানকারী ও সনাতন পদ্ধতিতে এমআর করাতে গিয়ে অধিকাংশ মহিলা দীর্ঘকালীন জটিলতায় ভোগেন। তদুপরি প্রয়োজনের তুলনায় সার্জিক্যাল এমআর সেবাও এখনও এদেশে ব্যয়বহুল। আশার কথা হলো চাহিদা ও বাস্তবতার নিরিখে প্রচলিত সার্জিক্যাল এমআর পদ্ধতির পাশাপাশি ঔষধের মাধ্যমে মাসিক নিয়মিতকরণ বা এমআরএম সেবা চালু হয়েছে। অনেক বে-সরকারী ও এনজিও ক্লিনিক বিশেষত মেরী স্টোপস বাংলাদেশ, বাপসা, এফপিবি, বিডাব্লিউএইচসি পরিচালিত ক্লিনিকে এমআরএম সেবা পাওয়া যায়। এছাড়াও প্রথম দিন থেকে ৯ সপ্তাহ পর্যন্ত ঔষধের মাধ্যমে মাসিক নিয়মিতকরণ (এমআরএম) এর ঔষধ বাজারে পাওয়া যায়।
আসুন এমআরএম সম্পর্কে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নেই। এমআরএম (MRM) হচ্ছে এমন একটি বিশেষ পদ্ধতি যার মাধ্যমে মেডিসিন/ঔষধ দিয়ে মাসিক নিয়মিতকরণ করানোকে বোঝায়। এমআরএম হচ্ছে নারী কেন্দ্রিক সেবা যা অত্যন্ত কার্যকর (৯৭%) এবং নিরাপদ, খুবই গ্রহণযোগ্য ও কম খরচে এ সেবা নেয়া যায়। বিশ্বব্যাপী সাধারণত দুইটি পদ্ধতিতে এমআরএম করানো গেলেও বাংলাদেশে শুধুমাত্র ট্যাবলেট Mifepristone ও ট্যাবলেট Misoprostol এর সমন্বয়ে এমআরএম করানো যায় এবং এই ব্যবস্থাপনাটি সর্বাপেক্ষা কার্যকরী। উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে একমি ল্যাবরেটরী, জিসকা ফার্মা, শরীফ ফার্মা এমআরএম ঔষধ প্রস্তুত ও বাজারজাত করছে এবং আরও বেশ কয়েকটি কোম্পানী এমআরএম ঔষধ বাজারজাত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি অনেক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান নিরাপদ এমআর ও এমআরএম এর জন্য প্রচারনার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টিতে অবদান রাখছে যা আরো বেগবান করতে হবে। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার, পরিবার পরিকল্পনা এবং নিরাপদ এমআর/এমআরএম বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সুশীলসমাজ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াকে আরো এগিয়ে আসতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ ও মানসম্মত সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে এদেশের মার্তৃমৃত্যুর হার হ্রাসে অবদান রাখার পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
এমআরএম, পরিবার পরিকল্পণা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যে কোন তথ্য ও পরামর্শের জন্য মেরী স্টোপস পরিচালিত ২৪ ঘন্টা কল সেন্টার নম্বর ০১৭৩-০৪৫০৬৭৮, ০১৭৫৫-৫৭৮২১৫, ০১৭৬২-৬৮৬৮৬৬ ফোন করতে পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


