আমি সাধারণত কোন নির্দিষ্ট বিষয়-বস্তু ধরে কিছু লিখিনা। আমার আশে-পাশের চেনা, অচেনা, অল্পচেনা মানুষজনের জীবনের গল্পটাকে নিজের ভাষায় সাজিয়ে লিখি। এজন্য এক বন্ধু আমার নাম দিয়েছে ‘চলমান ডায়েরী’। জীবনের চলতি পথে মানুষের সব আনন্দ-বেদনা, সুখগুলোকে নিজের মত করে লিখতে ভালো লাগে। ‘চলতে চলতে’-টা শুরু করেছিলাম আসলে নিজের দিনলিপি দিয়ে। পরে দেখলাম , সেখানে আসলে লেখার মত কিছু পাইনা। তারপর থেকে শুরু হলো অন্যের গল্প লেখা। ট্যাগে অবশ্য উল্লেখ থাকে কোন লেখাটা অন্যের জীবনের গল্প নিয়ে , কোনটা আমার নিজের। এ হলো ‘চলতে চলতে’-এর পেছনের কথা।
ভাঙা স্বপ্ন
একদিন আমার প্রিয় এক বান্ধবীর অনুভূতির গল্প শুনছিলাম। শুনতে শুনতে মনে হলো গল্পটা ও যেভাবে বলছে, সেটার চেয়ে আমার নিজের ভাষায় বলাটা আমার পক্ষে একটু কঠিনই হয়ে যায়। ওকে বললাম লিখে ফেলতে। যেহেতু ওর কোন ব্লগ অ্যাকাউন্ট নেই, তাই ওর অনুমতি নিয়ে লেখাটা আমার অ্যাকাউন্ট থেকেই ব্লগে দিয়ে দিলাম। লেখাটার সাথে একটা গানও জুড়ে দিলাম, যে গানটা এখন প্রায় সারাক্ষণই ওর আইপডে বাজতে থাকে। যদিও গানটার টাইটেলটা বাদে বাকি আর কথাগুলোর সাথে ওর গল্পের কি সম্পর্ক জানা নাই। তবুও গানের সুরটা ভালো লাগলো দেখে গানটাকেও জুড়ে দিলাম লেখার সাথে।
আমি জানি, তুমি এখন আর আমার জন্য নও। এইযে, এই গাছের নিচের বেঞ্চটায় বসে আছো, আমার অপেক্ষাতে নয় নিশ্চয়ই! আমি এটাও খুব ভালো করেই জানি, এখনই যদি তোমার সামনে গিয়ে দাঁড়াই বরাবরের মতই তুমি মিথ্যে বলে যাবে, “আমি তো তোমার অপেক্ষাতেই বসে আছি।“
ডাঁহা মিথ্যে কথা! অবাক হই - এত অবলীলায় মিথ্যে বলা শিখলে কিভাবে তুমি? নাকি প্রথম থেকেই এমনটা ছিলে? যতটা তুমি দেখিয়েছো, সবটাই ছিল অভিনয়! কখনোই আমি তোমার মনে জায়গা করে নিতে পারিনি। আমি ছিলাম শুধুই তোমার অবসরের সংগী। তোমার কাছে আমার আবেগগুলোর দাম ছিল না কখনোই। আফসোস হয়, একথাটা বুঝতে অনেক দেরী করে ফেলেছি আমি। নিজেকেই নিজের কাছে অনেক ছোট মনে হচ্ছে সেজন্য। অনেক হয়েছে, আর ছোট করতে চাইনা নিজেকে। ফিরিয়ে নিচ্ছি আমাকে তোমার পথ থেকে। এখন থেকে জানবে, আমি কখনো ছিলাম না। তুমি যেমনটা ভালোবাসোনি, তেমনটা আমিও বাসিনি। একটা মিথ্যেকে বারবার বলে নাকি সত্যিতে রূপান্তরিত করা যায়। ‘তোমাকে কখনোই ভালোবাসিনি’ – একথাকেই এখন সত্যিতে রূপান্তরের চেষ্টা করবো।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১১ বিকাল ৫:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


