somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের সিনেমার পাঁচালি

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্রাউন থিয়েটারে অদ্য রাত্রি হইতে এক অদ্ভুত দৃশ্য প্রদর্শিত হইবে। ব্রেডফোর্ড সিনেমাটোগ্রাফ কোম্পানি এরূপ সজীব চিত্র প্রদর্শন করিবে যাহা দেখিয়া নিতান্ত বিস্ময় জাগিবার সম্ভাবনা.. ১৮৯৮ সালের ১৭ এপ্রিল সাপ্তাহিক "ঢাকা প্রকাশ" খবরটি প্রকাশ করে। ঐ দিনের বিস্ময় জাগানিয়া অদ্ভুত দৃশ্যই হলো - ঢাকায় প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। তারপর এক শতাব্দির বেশী সময় অতিক্রান্ত হলো। নানা উত্থানপতনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া এই শক্তিশালী গনমাধ্যমটি আজ খানিকটা বিবর্ণ, কিছুটা ফ্যাকাশে; কিন্তু অতীতটা ছিল বর্ণিল।

পুর্ববাঙলার চলচ্চিত্র
ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম চলচ্চিত্র নির্মান করেন পশ্চিমবাঙলার হীরলাল সেন, ১৯০০ সালে। তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে সীতারাম, আলীবাবা, সরলা, ভ্রমর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। পুর্ববাঙলা তখন অনেক পিছিয়ে। হতাশাজনক এই সময়কে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্থবির যুগ বলা যায়। তবে এই সময়ে পিকচার হাউজ(শাবিস্তান), সিনেমা প্যালেস(রূপমহল), লায়ন, মুকুল(আজাদ), মানসী, চিত্রলয়, নিউ প্যারাডাইস, নাগরমহল(চিত্রামহল), মায়া(স্টার), গুলিস্তান, ডায়মন্ডসহ পূর্ববাঙলার বিভিন্ন জায়াগায় আরো অনেক সিনেমাহল তৈরী হয়েছিল। এসব হলগুলোতে কলকাতায় নির্মিত বাংলা ছবি ছাড়াও হিন্দি ও উর্দ্দু ছবি প্রদর্শিত হতো।

১৮৮৯ সালে ঢাকায় প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ৫০ বছরে মাত্র ৩টি চলচ্চিত্র নির্শিত হয়। ১টি স্বল্পদৈর্ঘ্য আর ১টি পূর্নদৈর্ঘ্য। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির নাম "সুকুমারী", নির্মিত হয় ১৯২৭-২৮ সালে। পরিচালক ছিলেন অম্বুজপ্রসন্ন গুপ্ত আর চিত্রগ্রাহক ছিলেন ঢাকা নবাব পরিবারের খাজা আজাদ। কিন্তু এই ছবিটির জন্য কোনো নায়িকা পাওয়া যায়নি। ফলে নায়িকার ভুমিকা নিতে হয় একজন পুরুষকে - তার নাম আবদুস সোবহান। নায়কের ভুমিকায় ছিলেন খাজা আদেল এবং খাজা নসরুল্লাহ। নির্বাক এই চলচ্চিত্রটির একটিমাত্র প্রিন্ট করা হয়েছিল, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই প্রিন্টটিও হারিয়ে গেছে।

নবাব পরিবারের উদ্যোগে ঢাকায় ইস্ট বেঙ্গল সিনেমাটোগ্রাফ কোম্পানি গঠিত হয়। এর প্রযোজনায় ১৯২৯ সালে অম্বুজপ্রসন্ন গুপ্ত নির্মাণ শুরু করেন নির্বাক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র "দ্য লাস্ট কিস"। খাজা আজমল, খাজা আদিল, খাজা আকমল, খাজা শাহেদ, খাজা নসরুল্লাহ, শৈলেন রায় বা টোনা বাবু ছিলেন এই চলচ্চিত্রের অভিনেতা। তবে এতে নারীচরিত্রে নারীরাই অংশ নেয়। নায়িকা চরিত্রে ছিলেন লোলিটা বা বুড়ি নামের এক যৌনকর্মী। চারুবালা, দেববালা বা দেবী নামের আরও দুই যৌনকর্মী এতে অভিনয় করেন। হরিমতি নামে একজন অভিনেত্রীও এতে অভিনয় করেন। শুটিং শেস হলে এইসব অভিনেত্রীরা ফিরে যান পুর্বপেশায়, তারপার তাদের খবর কেউ রাখেনি। ১৯৩১ সালে এই চলচ্চিত্র মুক্তি পায় ঢাকার মুকুল সিনেমা হলে (অধুনা আজাদ হল)। ছবিটিরও একটিমাত্র প্রিন্ট করা হয়েছিল, এটিও হারিয়ে যায়।

এরপর প্রায় দুইযুগ এদেশে কোন পুর্ণদের্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়নি। এর মধ্যে ঘটে যায় অনেক ঘটনা - রক্তাক্ত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও পরবর্তী সমেয় দেশবিভাগ।

চলবে...

ছবি: ১৯৬৪ সালে নির্মিত "সুতরাং" সিনেমাতে কবরী
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৫৪
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×