somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রহস্যগল্প 004

১০ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গাব্রিয়েল মগাদিশু চৌরাসিয়া মহাবিরক্ত। এ পাড়ায় রহস্যভেদী পরিচয় দেয়াটাই বোকামি হয়েছে তার। বাঙালি জাতিটা বড় পাজি, যত্তোসব খুচরা সমস্যায় ভরা তাদের জীবন, আর খালি মাগনা কাজ উদ্ধারের ফন্দি! পয়সা দেয় না শালারা।

তিনি গম্ভীর মুখে বললেন, "দেখুন, ছিনতাই ঠিক আমার বিষয় নয় ... নট মাই কাপ অফ টী। ছিনতাই একটা বিচ্ছিরি বাজে বর্বর ঘটনা, ওতে কোন রহস্যের ছোঁয়াচ নেই। আপনি পুলিশ, র্যাব, সাংবাদিক, মিউনিসিপ্যালিটি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, টিআইবি, সিআইএ ... যাকে খুশি তাকে ধরতে পারেন এ ব্যাপারে, কিন্তু আমাকে বাদে। আমি একজন রহস্যভেদী। মারদাঙ্গা সব রহস্য নিয়ে আমার কারবার, এইসব লুঙ্গিবদনাখুরপিমার্কা পাতি লুটের ঘটনায় গলানোর মতো নাক আমি আজও অর্জন করতে পারিনি। আই উড নেভার কনডিসেন্ড টু সলভিং সাচ আটার হোপলেস প্রবলেমস!" ভোগান্তির বোতলে চুমুক দেন তিনি, তারপর দন হুয়ানের সেই ভিকটিমা নারীর মতো বলেন, "আই উইল নেভার কনসেন্ট!"

কিন্তু পমি রহমান লোকটা সিনে সাংবাদিক, মহা নাছোড়বান্দা। কত নায়কের ক্যারিয়ারের বারোটা বাজিয়েছে, কত নায়িকার বিয়ে ভেঙে দিয়েছে সে। মগাদিশু চৌরাসিয়ার মতো ভোলেভালা আদমীকে সে হিসেবের মধ্যেই গোণে না। সে বলে, "আরে কিছু না শুনেই বলছেন রহস্য নেই! আমার তো মনে হয় এটা একেবারে আন্তজর্াতিক মাপের কিসসা। আপনার লায়েক রহস্য যাকে বলে।"

মগাদিশু চৌরাসিয়া পাত্তা দেন না পমি রহমানের সূক্ষ তৈলমর্দনকে। তিলকে তাল বলে তাঁকে তেলানোর ষড়যন্ত্র ধরে ফেলেন তিনি নিমেষেই। বলেন, "আপনার লুঙ্গি ছিনতাই হয়েছে, এর মধ্যে কী আন্তর্জাতিকতা থাকতে পারে বলে আপনার ধারণা?"

পমি রহমান সোৎসাহে বলে, "আরে ঘটনা না শুনেই কেসটার সান্ডেমান্ডে কোলোজ করে দিচ্ছেন। শুনেই দেখুন না!"

অতএব চৌরাসিয়াকে শুনতে হয়।

ঘটনা কিছু নয়, হপ্তাখানেক আগে পমি রহমান একটা সাদা লুঙ্গি পরে মোড়ের দোকানে সিগারেট কিনতে গিয়েছিলো। তখন সন্ধ্যা হয় হয়। একটা মশলা দেয়া মিষ্টি পান খেয়ে মুখে একটা সিগারেট ঝুলিয়ে ম্যাচ জ্বালিয়েছে, এমন সময় তার চোখে পড়ে এক ভুতুড়ে মূর্তি। আগাগোড়া নিনজা জামাকাপড় পরা, মুখে নিনজা নিকাব, মাথায় নিনজা হিজাব, হাতে একটা বিকট দর্শন ভোজালি, আর একটা সাদা কী যেন। ভয়ে পমি রহমান কাঁপতে থাকে, সে প্রায় পায়ে পড়ে যায় সেই অপমূর্তির, তার রগ না কাটতে শত অনুরোধ করে, অবশেষে সেই জীবটির দয়া হয়, সে সাদা জিনিসটি বাড়িয়ে দেয় পমি রহমানের দিকে। বস্তুটি আর কিছু নয়, একটি সাদা আন্ডারওয়্যার। পমি রহমান ঘাবড়ে গিয়ে সেটি পরে ফেলে, তখন সেই অপমূর্তি তার লুঙ্গি খুলে ফেলার হুকুম দেয়। লুঙ্গিটি খুলতে না খুলতেই সেটি নিয়ে এক ছুটে অন্ধকারে মিশে যায় নিনজা। পমি রহমান আন্ডারওয়্যার পরে একটা রিকশায় চড়ে চুপিসারে বাড়ি ফেরে।

গাব্রিয়েল মগাদিশু চৌরাসিয়া কিছু বলেন না।

শুধু তাই নয়। দু'দিন পর ঘটে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবার ছিনতাই হয় পমি রহমানের লাল লুঙ্গিটি। একই ভাবে লাল আন্ডারওয়্যার পরে রিকশায় পড়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে। তবে আগে কেউ খেয়াল করেনি, এবার উলটাদিকের বাড়ির মিসেস অর্ধকুমারী তাকে দেখে ফেলে এবং হাতছানি দিয়ে ডাকে। পমি রহমান চোঁ চাঁ দৌড় মেরে নিজের ফ্লাটে ঢুকে পড়ে।

মগাদিশু চৌরাসিয়া ভোগান্তিতে চুমুক দ্যান।

পমি রহমান থামে না। কারণ গতকাল তার সবুজ লুঙ্গিটি একইভাবে ছিনতাই হয়েছে। বিনিময়ে অবশ্যই তার একটি সবুজ জাঙ্গিয়া জুটেছে, আর কালকে হরতাল ছিলো বলে সে রিকশা পায় নি, হেঁটে বাড়ি ফিরতে হয়েছে, পাশের ফ্ল্যাটের মিস মঞ্জুময়ূরী মিষ্টি হেসে স্বাগতম জানিয়েছে তাকে, সে অজুহাত দিয়েছে সে সবুজ আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করার জন্যেই এই সুপারম্যানবৃত্তি করে বেড়াচ্ছে।

চৌরাসিয়া কিছু বলেন না।

পমি রহমান ক্ষেপে ওঠে। বলে, "এই লুঙ্গিপাগল হাইজ্যাকারের হাত থেকে আমাকে রক্ষা করুন। আর পারি না। আমার ভালো ভালো তিনটা লুঙ্গি ঝেড়ে দিলো শালা। আর নাখাস্তা তিনটা জাঙ্গিয়া গছিয়েছে আমাকে, ওগুলি না পারি ফেলতে, না পারি পরতে! ... দেখবেন ওগুলি?"

চৌরাসিয়া বলেন, "ওগুলি দেখে আমি কী করবো?"

পমি রহমান বলে, "যদি কোন ক্লু টু পান?"

চৌরাসিয়া বলেন, "আপনি ওগুলি একবার পরিধান করার পর ওগুলি আর কোন ক্লু এর যোগ্য আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। আপনি এখন আসুন। আপনার আর কোন লুঙ্গি ছিনতাই হবে না। আর এতো লুঙ্গি পরেন কেন, আমার মতো হাফপ্যান্ট পরতে পারেন না?"

পমি রহমান তেঁটিয়া কিসিমের লোক, বলে, "কিভাবে আপনি বুঝলেন আমার আর কোন লুঙ্গি ছিনতাই হবে না?"

চৌরাসিয়া গম্ভীর হয়ে বলেন, "বিশ্বকাপ শেষ। কাল ইতালি জিতেছে। দেখুন, উলটা দিকের ফ্ল্যাটের ছাদে পতপত করে উড়ছে ইতালির পতাকা। সবুজ, সাদা, লাল। যান, বাড়ি যান।"

পমি রহমান দাঁতে দাঁত পিষে হাতে কিল মেরে উঠে পড়ে। চৌরাসিয়া হতাশ মনে মাথা দোলান। রহস্যভেদ করলেও পয়সা জোটে না। কী আশ্চর্য কান্টাদের দেশ এইটা। তিনি ভোগান্তির বোতলে চুমুক দিয়ে তাকান উলটা দিকের বাড়ির দিকে। ছাদে উড়ছে ইতালির পতাকা। সেই বাড়ি, যেখানে একটি ফ্ল্যাটে বাস করে সেই দুরাত্মা কার্বন মাঝি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×