আজ শাখামৃগের সাথে রফা করার জন্যে দফা ছাড়ছি। শোমচৌ-এর লেখায় মন্তব্য ঝেড়ে এসেছিলাম। বিষয়, শাখামৃগ।
শাখামৃগ বলতে আমরা বুঝি বানরকেই। কিন্তু প্রাণীবিজ্ঞানীরা বানরকূলকে ভাগ করেছেন কয়েকটি বিশেষ ভাগে, সেই ভাগগুলোর সীমানা বাংলা ভাষায় বুঝি খুব স্পষ্ট নয়। তাই আজ বানরসংক্রান্ত কিছু শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ প্রস্তাব করছি।
প্রথমেই বলি, শিম্পাঞ্জি বানর নয়। শাখামৃগ কথাটি তার ক্ষেত্রে খাটানো যায়, কারণ শাখায় চলাচলে সে যথেষ্ঠ পারঙ্গম। তবুও, দিনের বেশির ভাগই তার কাটে মাটিতে। মাটিতে চলাফেরায় সে লাঙ্গুলধারী বানরদের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষ। শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাং ওটান ... এরা বানর নয়, ভিন্নর [আমার প্রস্তাবিত শব্দ]। ভিন্নরকে ইংরেজিতে বলা হয় APE। আর বানরকে আমরা বলছি MONKEY। তফাৎ হচ্ছে লেজে। তাই হনুমান, বেবুন ... এরা বানর, শিম্পাঞ্জি ভিন্নর।
দ্্বিতীয় শব্দটি হচ্ছে বর্ক্ষিক [আমার প্রস্তাবিত শব্দ], যাকে ইংরেজিতে বলা হয় PRIMATE। বর্ক্ষিক পরিবারের মধ্যে রয়েছে মানুষ, ভিন্নর, বানর, লিমার এবং আরো কয়েকটি প্রজাতির জীবিত ও বিলুপ্ত প্রাণীসমূহ। বর্ক্ষিক নামটিই বলে দিচ্ছে, এই পরিবারের সদস্যদের পূর্বপুরুষ একসময় বৃক্ষচারী ছিলো। তবে বৃক্ষচারী মাত্রেই বর্ক্ষিক নয়। বর্ক্ষিক পরিবারে সিঁদ কেটে ঢোকার উপায় নেই, সদস্যপদ খোলা শুধু তাদের জন্যে, যাদের পূর্বপুরুষের রয়েছে অতি উঁচুদরের বিবর্তিত দ্্বিলোচনিক দৃষ্টি [ BINOCULAR VISION ], আঙুলের ব্যবহার, এবং ক্রমশ উন্নত মস্তিষ্কের ঐতিহ্য।
আজ আপাতত এটুকুই। তবে শিম্পাঞ্জির কোন বাংলা প্রতিশব্দ নেই, আমরা কি একে সংক্ষেপে "ওয়া" ডাকতে পারি?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



