somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিরুপায় আমি…………

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ এ নেয়া প্রতিটা নিঃশ্বাসের দায়বদ্ধতা থেকে আর ক্ষণিকের মানসিক শান্তি লাভের আশায় আমার লেখার তরীর যাত্রা শুরু এখান থেকে।আশা করি তরী নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছুবার আগে থামবেনা। সৌভাগ্যক্রমে আমার প্রথম লেখাটা শুরু এমন এক দিনে,যেদিন স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাংগালী।
১৯৭১ থেকে ২০১০ পার হয়ে গেছে আটত্রিশ বছর। স্বাধীনতা স্বাদ সম্পূর্ণ না পেলেও পরাধীনতার গ্লানি এখন আমাদেরকে আর বয়তে হয়না।এখন কেঊ এসে পারে না ধর্মের দোহাই দিয়ে আমাদের সংস্কৃতিতে নগ্ন হস্তক্ষেপ করতে,পারে না আমাদের প্রতিবাদী কলমকে রুখে দিতে,পারে না আমাদেরকে ভাতের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে।তারপরও আমরা পৌছুতে পারি নাই সেই জায়গাতে যেখানে যেতে বঙ্গবন্ধু সপ্ন দেখতেন,সাত কোটি মানুষকে সপ্ন দেখাতেন।কিন্তু সব সপ্ন পূরণের জন্য নয় বা পূরণ করতে দেয়া হয় না।১৯৭৫ সাল এর পর থেকে দেশীয় হায়েনারা বিষ দাঁতের কামড় বসিয়েছিল বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানে,রাজাকারদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করে দেশের মাটিকে করেছিল কলুষিত আর সাথে সাথে চালিয়েছিল অপপ্রচার।এভাবে এদেশের মানুষ হয়েছিল বিভ্রান্ত ।সরে এসেছিল নিজেদের স্বকীয়তা থেকে। আচ্ছাদিত করেছিল হায়েনাদের ছলচাতুরী।এভাবেই কেটে গেল ১৬টি বছর।

১৯৯১ সালঃ গণতন্ত্রের পথে আবার যাত্রা শুরু।আবারও স্বপ্ন দেখা শুরু।৭১ এর পর সকল বাংগালী আজ একই প্লাটফরমে।এবার আমাদের অগ্রযাত্রাকে কেঊ আর রুখতে পারবে না।
নির্বাচন ২৭ ফেব্রুয়ারী।অনেকের ধারনা ছিল ১৮ বছর পর আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসতেছে।কারন সে দলের নেতৃত্বে এখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। কিন্তু সে ধারনা ভুল প্রমাণিত হল ২৭ ফেব্রুয়ারী রাতেয়।
বাংলাদেশের মানুষ এখনও পারে নাই অপপ্রচারের বেড়াজাল ছিন্ন করতে।যদিও আওয়ামীলীগ পেয়েছিল ৩০.০৮% ভোট যেখানে বি এন পি পেয়েছিল ৩০.৮১%।
ক্ষমতায় এসে বিএনপি হয়ে উঠল হিংস্র। চারিদিকে অস্ত্র এর ঝনঝনানি।ক্ষমতার মেয়াদ শেষের দিকে।শুরু হয় ক্ষমতা আকড়ে ধরার ষড়যন্ত্র।সাথে সাথে শুরু হয় সর্বদলীয় আন্দোলন।নেতৃত্বে যেহেতু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেহেতু এ আন্দোলন ব্যর্থ হবার নয়।
কিন্তু অপর পক্ষে আছেন আপোষহীন নেত্রীর তকমা লাগানো বেগম খালেদা জিয়া।যে কোন উপায়ে তাকে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই হবে।কারণ দলটির সৃষ্টি হয়েছেতো ক্ষমতার লোভ আর বিশ্বাসঘাতকতা থেকে।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী।বাংলাদেশের গনতন্ত্রের কালোদিন।বাংলাদেশের গনতন্ত্র নতুন করে চলার পথে পাঁচ বছরের মাথায় হোঁচট খেলো।কিন্তু গনতন্ত্র এর মানস কন্যা যেখানে আছেন সে দেশে গনতন্ত্র কে স্থায়ী ভাবে কেউ নস্যাৎ করতে পারবে না।
জয় হল হাসিনার এবং এদেশের আন্দোলনরত মানুষের।২৭৮ সিট নিয়েও ক্ষমতাই থাকতে পারল না বিএনপি।

১৯৯৬ সাল ১২ জুনঃ
এটি একমাত্র নির্বাচন যার ফলাফল আগে থেকেই জানা ছিল সবার।২৩ বছর পর ক্ষমতাতে আসবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। ধরাশায়ী হবে বিএনপি কিন্তু ফলাফল দেখে সবাই অবাক। বিএনপি পেল ১১৬ সিট আর ৩৩.৬০% মানুষের সমর্থন।এত কিছুর পরও মানুষ আওয়ামীলীগকে বিশ্বাস করতে পারেনি।ক্ষমতায় গেলেও আওয়ামীলীগকে সমর্থন করেছে মাত্র ৩৭.৪৪% মানুষ।
প্রধান মন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা।এর পরের আমার লেখার মত আর কিছু নাই।কারন সৃতিতে ঐ দিনগুলা সবার ই ঊজ্বল।সন্ত্রাস দমনে সফল হলেও হাজারী,ডাঃ ইকবাল এর মত নেতাদের জন্য তা ম্লান হয়ে যায়। আর সবক্ষেত্রে সফলতার চিহ্ন রাখতে সক্ষম হয়ে ছিল শেখ হাসিনার সরকার।

২০০১ :
এই প্রথম বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন সরকার শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করল। বিএনপি বুঝতে পেরেছিলো এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব না।সেজন্য জোটবদ্ধ হল । সাথে নিল ৭১ এর রাজাকারদের।আওয়ামীলীগকে হারানোর হাতিয়ার হিসাবে বেছে নিল ধর্ম কে। সারাদেশ ঢেকে গেল নোংরা পোষ্টার এ।মানুষকে সচেতন করার মত ইলেকট্রনিক মিডিয়াও ছিল না দেশে।ফলাফলঃ-নোংরা প্রচারণা মানুষকে বিভ্রান্ত করল।
তারপরও শেখ হাসিনা বিশ্বাস রাখলেন এ দেশের মানুষের উপর। নীতিতে অটল থেকে জোটবদ্ধ হলেন না কোন দলের সাথে।

পহেলা অক্টোবরঃ
দিনটির কথা এখনো মনে আছে।আমি ছাড়া বাড়ি সবাই আওয়ামীলীগ এর সমর্থক।সত্য বলতে আমি তখন রাজনীতি সম্পর্কে কিছু জানতাম না। জানার জন্য আগ্রহ ছিল কম।আমি ঘুমিয়ে পরে ছিলাম।সকালে উঠে শুনতে পারি বিএনপি জামায়াতের বিশাল বিজয়ের কথা।কিন্তু সে নির্বাচনে সত্যি কি আওয়ামীলীগ পরাজিত হয়েছিল?
যতই কারচুপির কথা বলা হোক না কেন আমি মনে করি নির্বাচন ফলাফল ঠিক ছিল।আওয়ামীলীগ হেরেছিল জোটের রাজনীতিতে ভোটের রাজনীতিতে না।এর ব্যাখা পরের লেখাগুলাতে দেবার চেষ্টা করব।

২০০১-২০০৬ :
সবার ই জানা।তাই এক কথায় বলতে চায়———–আর কোন খারাপ কাজ করতে বাকি রাখেনি বিএনপি-জামায়াত জোট—————

২০০৮ :
দিন বদলের স্বপ্ন দেখালেন শেখ হাসিনা। এ বার আর অপপ্রচারে কাজ হল না।কারন মানুষ এখন অনেক সচেতন।২০০১ এর মত ভুল করলামনা আমরা।২৯ ডিসেম্বর আমার আনন্দের দিনগুলার একদিন।৫৭% মানষের সাথে আমিও স্বপ্ন দেখলাম দিন বদলের।দৃষ্টি তখন ২০২১ সালের দিকে।ভেবেছিলাম এমন বাংলা দেখবো যে বাংলায় কেউ পাপ করবে না অথবা পাপ করে রেহাই পাবে না।
স্বপ্নের আকাশ থেকে মাটিতে নামতে আমার বেশিদিন সময় লাগেনি।আমি এখন স্বপ্নবাজ না,বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমি এখন নদীর পানিতে ভেসে যাওয়া খঁড়কুটা।আমি এখন আর আশায় বুক বাঁধিনা যে, ছাত্রলীগের কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে যাবে।স্বপ্ন দেখিনা দুর্নীতি মুক্ত,ক্ষুদা মুক্ত বাংলাদেশের।আশা করি না হানাহানি মুক্ত রাজনীতির,স্বপ্ন দেখি না আমার উজ্বল ভবিষৎ এর।

তবে বিশ্বাস করি আওয়ামীলীগ কখনো জামায়তের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে আমাদের স্বাধিনতা কে ভুলন্ঠিত করবে না।আশা করি— “মুক্তিযুদ্ধ না ৭১ এ গৃহযুদ্ধ হয়েছিল” এ ধরনের কথা বলে ধৃষ্টতা দেখানো অমানুষগুলোর বিচার হবে।এখনো বিশ্বাস করি আওয়ামীলীগ শাসন আমলে কোন কিবরিয়া,আহসান উল্লাহ মাষ্টার কে প্রতিপক্ষের ধ্বংসাত্বক রাজনীতির কারনে জীবন দিতে হবেনা আর সনাতন ধর্মাবলীরা নিজেদের কে সংখ্যালঘু মনে করবেন না।
আরো বিশ্বাস করি এ পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আর কোন ২১ আগষ্ট আসবে না। ফুলবাড়ি,শিবগঞ্জের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে।তাদের কে আর আন্দোলন করতে হবে না। আন্দোলন করলেও এ স্বাধীন বাংলাদেশে তাদেরকে পুলিশ এর গুলি খেয়ে শহীদ হতে হবেনা।আর আশা করি শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।
২০১৪ সালে নির্বাচনে কে জিতবে জানি না।হইত শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হবেন অথবা খালেদা জিয়া ।মানুষ ভুলে যাবে ২০০১-২০০৬ কথা।এমনও হতে পারে ২০০৯-২০১৩ সাল তাদেরকে ভুলিয়ে দেবে পাঁচ বছর আগের স্মৃতি।কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া কখনো পারবেননা জামায়াতের মায়াজাল ছিন্ন করতে।হয়ত একদিন পারবেন কিন্তু সেদিন অনেক দেরি হয়ে যাবে।ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের স্বাধীনতার চেতনা।

হয়ত মানুষ সব কিছু ভুলে আবারো রাজাকারদের ক্ষমতায় আনবে।তখন তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রাখা আর চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না আমার। কিন্তু আমি তখনও আওয়ামীলীগ কে সমর্থন করবো।কারন—————
আমি যে নিরুপায়

সুদীর্ঘ একবছর পর সেফ হয়েছি।যে লেখা দিয়ে আমার ব্লগিং শুরু করেছিলাম,সেই লেখাটা কোনরকম পরিবর্তন না করে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×