somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুন্না সন্দ্বীপী
স্বদেশপ্রেম এবং বাস্তবতা প্রকাশের চেষ্টা করি। অবসর সময় কবিতা লিখা একটা অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। চেষ্টা করি সবাইকে ভালবাসতে এমন কি ভাসিও,কিন্তু কাছের মানুষ যখন দুঃখ দেয় তখন কেমন লাগে সেটা বলে বুঝাতে পারবনা।হবে হ্যাঁ সবসময় সত্যের জন্য সব সময় লিখব,যতই বাধা আ

ধর্মীয় বন্ধনে বার্ষিক মাহফিল, নব্য ব্যবসা!!

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ধর্মীয় বন্ধনে বার্ষিক মাহফিল, নব্য ব্যবসা


আজকের নিবন্ধনের শিরনামে আমাকে হয়তো ধর্ম বিরোধী হিসাবে আখ্যায়িত করা হবে ( যতি তারা আমার বক্তব্যর বিষয় না বুঝে) । কিন্তু সত্য প্রকাশে আমি বন্দিু মাত্র পিছপা হবো না।
যুগ যুগ ধরে চলে আসা আমাদের ইসলাম ধর্মে ধর্মীয় বার্ষিক মাহফিল হচ্ছে। দেশ খ্যত বিখ্যাত মুফতি মুহাদ্দিস, মাওলানা এনে তাদেরকে দিয়ে ইসলামিক বিভিন্ন বিষয়ে নসিয়ত করতে বলা হয়। এবং তারাও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রতি বছর মাদ্রাসায়,মসজিদ, যুবসমাজ আয়োজিত অনেক মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তার সুফল আম জনতা পাচ্ছেনা। কেন পাচ্ছেনা সেটার ও অনেক কারণ আছে।
অনেক সময় দেখা যায় ধর্মীয় ইতিহাসের কোন বিষয়ে কথা উঠলে মুখে এক শব্দ বলার পর আকি অংশ নিজে বলা লাগেনা পাশে বসা অর্ধশিক্ষিত বা শিক্ষিত ব্যক্তি ঐ ইতিহাসকে নিজে হুবাহুব বা বিকৃত ভাবে ইতিহাস উপস্থাপন করেন। কিন্তু এটার একমাত্র কারন তারা প্রতি বছর মাহফিলে ওয়ায়েজ শুনেন ,এতে করে তাদের এ বিষয় মুখস্ত হয়ে গছে কিন্তু তাকে যদি জিজ্ঞাস করা হয় ফরজ গোসল করছেন বা কি করে ফরজ গোসল করতে হয় ?
তখন মুখের দিকে হা করে থাকে, আর মুখের থেকে কোন কথা বের হয়না। তা হলে মাহফিল তাদের কে কি দিল ?
ইতিহাস জেনে কি পবিত্র হওয়া যায় ?
আমি বলতে পারব শত করা ৯০ ভাগ মাহফিলে ইতিহাস ব্যতিত অন্য কিছু আলোচনা হয়না। মধুর কণ্ঠে প্রাচীন ইতিহাস শুনতে কতইনা ভাল লাগে। ইতিহাস শুনে আমি পরিপূর্ন ইসলামে প্রবেশ করব, ইসলামের পথে চলব এমন তাৎক্ষনিক ভবে মন ভাব পাল্টে যায় ,কিন্তু ফজরের পর সব ভাবনা ঘুমের সাথে সাথে নিশ্বেষ হয়ে যায়। আরে বেটা তুই যদি বা ফরজ গোসল করতে না পারস তা হলে কি করে বা ইসলামের ফরজ কাজ গুলো পালন করবে ?
ওয়ায়েজের শিক্ষা কি ভাবে বাস্তবায়ন করবেন ?
কিন্তু আমাদের আলেমরা তাদের আলোচনার মধ্যে একবারও বলেন না গোসলের ফরজ, অজুর ফরজ, নামাজের সঠিক নিয়ম ইত্যাদি। কি করে বা বলেব ?
এসব বলতে তো আর মধুর কণ্ঠে বলতে পারবেনা যে ভাবে ইতিহাস বলাযায়। আর কন্ঠ মধুর না হলে তার ভবিষ্যৎ ধান্দা বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে দেখা যায় ওয়াজের নামে আমাদের সম্মানিত মেহেমান,রা ১০ থেকে শুরু করে ৫০ হাজার এমনকি এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিয়ে যায়। আরে ভাই আপনারা ইসলাম প্রচারের জন্য এত আগ্রহ থকে তা হলে কেন আপনি ২ / ৩ ঘন্টা মধুর কণ্ঠ ছড়িয়ে এত টাকা নিয়ে যাবেন ?
রাসুল (সা.) ইসলাম প্রচার করতে শুধু শ্রম দিয়েছেন কিছু নেন নি এটা কি আপনি জানেন না!! জানলেও আপনি বলবেন না। ধান্দ বলে একটা কথা আছে! টাকা গুলো যে নিচ্ছেন আর যে সব ইতিহাস বলছেন এ সব সবারই জানা আছে । তাই ভাল কিছু বলে টাকা গুলো হালাল করে নিলে ভাল হয় না!!
অনেকে হয়তো বলবেন টাকা তাদের কে সম্মানি হিসাবে দেওয়া হয় তারা কিন্তু ইচ্ছা করে বলে টাকা নিচ্ছেন না। তাদের জন্য একটা প্রমাণ “যেমন আপনি এ বছর একজন ওয়ায়েজ কে দাওয়াত করে আনলেন কিন্তু যাওয়ার সময় তাকে কোন অর্থ দিলেন না, তখন হয়তো সে লজ্জায় কিছু বলবেন না। কিন্তু পরবর্তী বছর যখন ওনাকে দাওয়াত করবেন ওয়ায়েজ করার জন্য তখন ঠিকি সে আপনাকে সময়ের বাহানা দিবেন। আমি ১০০% শিউর সে আপনাদের কে ওয়ায়েজ শুনানোর জন্য সময় দিতে পারবেন না । তা হলে বাস্তবতা কি বুঝা গেল?
গত বছর টাকা দেন নি তার এফেক্ট এখন হচ্ছে এ হল আমাদের নব্য ব্যবসায়ী আলেমদের কার্যক্রম। আরে ভাই তাবলীগ যারা করে তাদের থেকে শিক্ষা নিন!! তারা নিজের অর্থে ইসলাম প্রচার করছেন । কারো কাছ থেকে কোন টাকা নিচ্ছেনা । এ ব্যতিত তারা মসজিদে, বাড়িতে, দোকানে গিয়ে ইসলামের মূল বিষয় শিক্ষা দিচ্ছেন। আর আপনি ইতিহাস বলে হাজার হাজার টাকা নিয়ে যাচ্ছেন । আপনার লজ্জা করা উচিৎ আমদের এক মাসের আয়ের টাকা ২ ঘন্টা ইতিহাস বলে নিয়ে যাচ্ছেন !! (তবে অল্প কিছু সংখ্যক ওয়ায়েজ এর ব্যতিক্রম )
আমি একটা কথাই বলব প্রতি বছর মাদ্রাসায়,এলাকায় দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা খরচ না করে এলাকার মসজিদের ইমামদের কে নিয়ে বাড়িতে গিয়ে ইসলামের মূল বিষয় গুলো শিক্ষা দেন ইনসাআল্লাহ তখন ইসলামিক সমাজ কায়েম হবে। মসজিদের ইমামদের কে শুধু মিলাদের মাধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন না ।তাদের ও অনেক যোগ্যতা আছে ইসলাম প্রচার করার শুধু শুধু দূর দূরান্ত থেকে মাওলানা এনে টাকা খরচ করার কোন মানে হয়না।
আর অত সংখ্যক টাকা দিয়ে মাহফিল শেষে বিরিয়ানি মত কাকের খাদ্যের জন্য যুদ্ধ না বাধিয়ে উক্ত টাকা মাদ্রাসর কাজে, এলাকার উন্নয়ন বা গরিব দুঃখিদের কর্মসংস্থানের কাজে ব্যয় করুন ,দেখবেন ইসলাম অবশ্যয় কায়েম হবে। অবশেষে আমরা যেন সার্বিক ভাবে ইসলামারে আদর্শ অর্জন করেতে পারি আল্লাহ যে আমাদের কে তৌফিক দান করেন। আমিন!
[আমার উক্ত লিখাতে কারো মনে কষ্ট লাগলে আমাকে হৃদয় থেকে ক্ষমা করবেন । আমি আলেম দের বিরুদ্ধে লিখিনাই আমি লিখেছি কিছু সংখ্যক অনিয়মের বিরুদ্ধ। আমি অবশ্যয় চাই ইসলাম প্রচার হউক ,কিন্তু সেটা সঠিক পন্থায়। ]

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৩৯
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×