ইদানিং জাফর ইকবাল স্যার এর একটা প্রবন্ধকে কেন্দ্র করে বহুদিন ধরে ওঁত্ পেতে থাকা একটি মহল তাকে পেয়ে বসার চেষ্টায় নিয়োজিত।তারা মূলত ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সাথে জড়িত একটি গোষ্ঠী।আর মূলত মননশীল ছাত্রসমাজ ও সংস্কৃতিমনা সচেতন নাগরিকদের বিশাল একটা অংশ তাদের এই হীন কার্যকলাপের প্রতিবাদে মুখর।
জাফর ইকবাল স্যার তার প্রবন্ধে আসলে কি বলতে চেয়েছেন সেটা নিয়ে এ যাবত্ অনেক লেখালেখি হয়েছে,আমি আর নতুন করে কিছু বলতে চাই না।স্যার যে ধর্মকে আক্রমন করে কোন কিছু বলেন নি তা ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলেই বোঝা যায়।বোরকা পরে পর্দা করায় তিনি সমস্যা দেখেন নি।এটা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়।তিনি সমস্যা দেখেছেন বোরকা পরিয়ে মেয়েদের ঘরে আটকিয়ে রাখার মানসিকতায়।তিনি সমস্যা দেখেছেন মানসিক দাসত্বে।
ওই বিশেষ মহল স্যারের প্রবন্ধের ভুল ব্যাখ্যা করে তাকে মানুষের সামনে নাস্তিক,ইসলাম বিদ্বেষী.ধর্মদ্রোহী হিসেবে তুলে ধরেছে।এবং এই মাস্টারপ্ল্যানের মূল অংশ হচ্ছে স্যারের আমেরিকা প্রবাসী মেয়ের ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ করে স্যারকে মানসিকভাবে পঙ্গু করা।কারন মানুষের সবচেয়ে দূর্বল জায়গা হচ্ছে তার পরিবার।স্যারের মেয়েকে আক্রমন করা মানে স্যরকে সবচেয়ে খারাপভাবে আক্রমন করা।আর বিভিন্ন ব্লগসাইটে এভাবে অপপ্রচার চালিয়ে তারা মূলত নিজেদের গোঁড়া মতাদর্শের প্রচারের কাজে স্যারকে উপলক্ষ বানিয়েছে।এবং দুঃখের বিষয় অনেক নিরীহ মানুষ তাদের ফাঁদে পা দিয়েছে।
তবে আশার কথা,বিরাট একটা অংশ তাদের নিজেদের সেই ফাঁদ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পেরেছে।তারা স্যারকে সমর্থন করে।তবে একটা নুতন ঝামেলা হল এদের মধ্যে গুটিকয়েক আঁতেল স্যারকে সমর্থন করতে এসে নিজেরা উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলছে যা স্যার কখনো বলেন নি।(যদিও তারা সংখ্যায় খুবই কম)তাদের কথা-বোরকা নিষিদ্ধ করা উচিত্,মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর অবস্থা ভালনা পর্দা-হিজাবের কারনে,এসব আরকি।তাদের মনে রাখা উচিত,স্যারকে সমর্থন দিতে এসে এমন কিছু বলা উচিত না,যা স্যারের বিরোধীপক্ষের অভিযোগকে সমর্থন করে।
মূল কথা,বিষয়টা এখন শুধুমাত্র স্যারকে নিয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না।ওটা এখন ধর্ম পর্যন্ত চলে যাচ্ছে।সবার কাছে একটাই অনুরোধ,বিষয়টা যাতে সহিংসতা পর্যন্ত না গড়ায়।তাহলে হয়তো স্যারই নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০১১ রাত ৩:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


