সামাজিক বিবর্তনের সামপ্রতিক প্রবণতা: আমাদের ভূমিকা
আবর্তন ক্রিয়েটিভ সেল।।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তন:
সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যোগযোগ ব্যবস্থা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশেষ করে রাস্তা- ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও উন্নয়ন তরান্বিত হয় ও সমাজে পরিবর্তন দেখা যায়। এ পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় দেখা যায় অবকাঠামোগত পরিবর্তনসহ ইলেক্ট্রিক জগতে ব্যাপক পরিবর্তন সংঘটিত হচ্ছে। ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধি, সাবমেরিন ক্যাবল চালু ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার জীবনযাত্রার গতিশীলতা, জানমালের নিরাপত্তা জোরগার ও ক্ষেত্র বিশেষে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। সামাজিক পরিবর্তনে যোগাযোগ ব্যবস্থার যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিদ্যমান তাতে উপরিউক্ত প্রবণতা ছাড়াও দেখা যায় যে, মানুষের জীবনযাত্রার তথা জানমালের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামীণ মানুষের শহর কেন্দ্রীক অকৃষি পেশা গ্রহণের প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থাৎ পেশার বহুমাত্রিকতা ঘটছে।
প্রায় 90 শতাংশ মুসলিম অধু্যসিত কৃষি প্রধান বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যে সব বিষয় নির্ধারকের ভূমিকা পালন করে তম্মধ্যে উপরিউক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও উৎপাদনের উপকরণের পরিবর্তনশীলতা, ভৌগোলিক পরিবর্তন, সময়ের ব্যবধানে চাহিদার পরিবর্তন, সাংস্কৃতিক বিনিময়, পাশ্ববতর্ী দেশের প্রভাব ইত্যাদি অন্যতম।
সামাজিক পরিবর্তন যেহেতু সাধিত হয় সমাজস্থ মানুষের আচার-আচরণ, চাল-চলন ও সার্বিক কর্মকান্ডের প্রভাবে এবং মানুষই যেহেতু অন্যান্য সমস্ত উপাদান ও অনুসঙ্গগুলোর বিনির্মাণ, পরিচালন, পরিবর্ধনের একমাত্র মূল নিয়ন্ত্রক ও নিয়ামক শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। কাজেই সামাজিক পরিবর্তনের গতি প্রকৃতি, অবস্থা, ভবিষ্যৎ, কর্মপ্রক্রিয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো সমাজের মানুষ যেভাবে চান সেভাবে গড়ে তুলতে পারেন। মুসলমানগণ আল্লাহর এই জমিনে আল্লাহরই প্রতিনিধি হিসেবে খেলাফতের দায়িত্ব পালন করতে গেলে সেখানে আল্লাহ নির্দেশিত পন্থায় পরিচালিত হয়ে ঈমানের সর্বোচ্চ শিখড়ে আরোহন করে সম সাময়িক সময়ে সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীল,বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন, শৌর্য- বীর্যের অধিকারী, শক্তি-সামর্থ ও প্রভাব প্রতিষ্ঠায় সবের্াত্তম জাতি হিসেবে নিজেদেরকে প্রমাণ ও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এক্ষেত্রে সমাজ পরিবর্তনে আল্লাহ নির্দেশিত পথ ও পন্থা যেমন অনুসৃত হবে, তেমনি সুস্থ্য, সভ্য, বিবেকবান প্রাণী হিসেবে মানুষের বসবাস যোগ্য সুন্দর ও মনোরম আবাসস্থল/পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য আমাদেরকে সর্ব প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি করতে হবে তা হচ্ছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা তথা বর্তমান সময়ে জ্ঞানের রাজ্যে প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করে জ্ঞানের প্রতিটি শাখায় বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসাবিদ্যা, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস-দর্শন, কলাসহ সব ক্ষেত্রে ছাত্র নয় বরং শিক্ষকের ভূমিকা পলন করতে হবে। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের বর্তমান এই সময়ে সব কিছুই যখন ইহুদি ও পাশ্চাত্যের বস্তু পুঁজারিদের দখলে তখন আমাদের হাত গুটিয়ে থাকার অর্থই হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত আমানতের সুস্পষ্ট খিয়ানত। সামাজিক পরিবর্তনকে যদি আমরা নিজেদের মতো করে দেখতে চাই তাহলে মানুষের চিন্তার রাজ্যে পরিবর্তকারী বিষয়গুলোর প্রতি সুক্ষ্ন দৃষ্টি দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ের সাহিত্য থেকে আরম্ভ করে শিল্প, সংস্কৃতির প্রতিটি শাখায় যেমন লেখক, সাহিত্যিক, গায়ক, চিত্রশিল্পী, নাটক, গান, কবিতাসহ প্রতিটি সেক্টরেProductive, Dadicative man power তৈরী করতে হবে। সামগ্রিকভাবে মুসলিম জাতির মধ্যে মিশন ও ভিশনের অভাব পরিলক্ষিত হয় এবং আমরা আমাদের মূল ও নিগুঢ় সমস্যা গুলোকে চিহ্নিত করতে পারিনা কিংবা চিহ্নিত করলেও তার উত্তম সমাধানের পথ নির্ধারন করতে আমরা ধৈর্যহারা কিংবা অদুরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে থাকি। আমরা যদি স্রোতের বেগ ও বাতাসের গতিকে ঘুরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা ও হেকমতের সাথে অগ্রসর হই তাহলে সমাজ পরিবর্তনের মতো স্বাভাবিক কাজটিতে আমাদের চরিত্র ও মেধা, আমাদের আদর্শ ও লক্ষ্য আমাদের মিশন ও ভিশনের প্রতিফলন দেখতে পাবো।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


