somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবি কাজী নজরুল ইসলামের অজানা প্রেম

১৫ ই আগস্ট, ২০১৪ সকাল ৭:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কবি কাজি নজরুল ইসলাম প্রেমের কবি । তার সাহিত্য ও গানের বিশাল অংশ জুড়ে আছে প্রেমের কবিতা আর গান । কবির গান গুলো এত বৈচিত্রময় যে শুনতে এক ঘেয়েমি লাগে না । মনে হয় প্রতিটি গানের বাণী ও সুর যেন আলাদা আলাদা। তিনি ছিলেন কোমল হৃদয়ের প্রেমিক পুরুষ। তাই নারীর রুপ ও ব্যাক্তিত্ব তাকে আকৃষ্ট করত। তাইতো কবির জীবনে এসেছিল কয়েকজন নারী আসার খানম , ফজিলাতউন্নেসা , প্রমিলা । এরাই কবির জীবনের বিখ্যাত নারী। এর বাইরেও কিছু নারী কবির জীবনে এসেছিল ক্ষনিকের দখিনা হাওয়ার মত । আবার তারা সময়ে বারতায় হারিয়ে গেছে । তেমনই এক নারীকে নিয়ে আজ কবি কাজি নজরুল ইসলামের এক অজানা প্রেম কাহিনী।

কবি কাজি নজরুল ইসলাম রাজশাহী জেলায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন । এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহীতে এক নজরুল ভক্ত ব্যাকুল হয়ে গেলেন সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য । কারন প্রানের চেয়ে প্রিয়তম কবি নজরুলকে নিজ চোখে দেখে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া কে সার্থক করবেন।

ভক্তটি ছিলেন একজন তরুনী । শুধু তরুনী বললে কম বলা হয় তিনি ছিলেন যেমন সুন্দরী তেমন ব্যাক্তিত্ববান,ও শিক্ষিত । তিনি যেদিন খবর পেয়েছেন তার প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রাজশাহীতে আসবেন সেদিন থেকে তার অপেক্ষার প্রহর গুলি যেন হয়ে গেল দীর্ঘ ও অস্থিরময়। প্রতিটি ক্ষন যে আর ফুরাতে চায় না । কবে তার প্রিয় কবিকে দুই চোখ ভরে দেখবেন ? কারন এতদিন কবিকে তার গল্প কবিতা, গানের মাঝে ও পত্রিকায় দেখেছেন । বাস্তবে দুই চোখ ভরে দেখা হয়নি ।

তরুনী নির্দিষ্ট দিনে পদ্মার ঘাটে দাড়িয়ে থাকা স্টিমারে উঠলেন রাজশাহী যাওয়ার উদ্দেশে । পদ্মার পাক খাওয়া ঢেউয়ের ঘোলা জল কেটে এগিয়ে চলছে ষ্টিমার। তরুনি ষ্টিমারের রেলিংএ ঘেষে দাড়ি্যে আছেন । পদ্মার মাতাল বাতাসে তার দীঘল কালো চুল বেধে রাখা যাছ্ছে না । বার বার শাড়ির আচলের বাধন ছেড়ে নদীর মাতাল বাতাসের সাথে উড়ে যেতে চাইছে। তরুনী দুই হাতে অবাধ্য চুল গুলোকে বাধছেন আর ভাবছেন কিভাবে তার প্রিয় কবির সাথে দেখা করবে । দেখা হলে সে কি বলে কবিকে সম্ভাষন করবে। কবি কি তার সাথে কথা বলবে । এই ভাবনার মাঝেই, হঠাৎ মেয়েলি অনুভূতিতে বুঝতে পারল, কে যেন তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । মধুর ভাবনায় ছন্দ-পতন হল। মাথা ঘুরিয়েই তাকাতেই দেখতে পেল এক তরুন ভাবালু দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে । সুঠাম দেহ তার। বড় বড় দুই চোখে যেন রাজ্যর কাব্য ভেসে বেড়াছ্ছে । প্রশস্ত কাধের উপর ছড়ানো চুল তার পদ্মার বাতাসে উড়ছে । তরুনী নিজেকে সামলে নিল । যুবকটির অসভ্যতায় বিরক্ত বোধ করতে লাগল । তরুনী ঐ জায়গা থেকে সরে অন্য দিকে চলে গেলেন । সেখানে বসে আবার তার প্রিয় কবির ভাবনায় বিভোর হয়ে গেল । কবির সাথে দেখা হওয়ার আনন্দে সারা মন শিহরীত হয়ে আছে। এই সময় আবার যুবকটিকে দেখলেন । এবারও সে তার দিকে তাকিয়ে আছে। তরুনী এবার আর সরে গেল না । সাহস করে সোজা যুবকের দিকে এগিয়ে গেল । সরাসরি যুবকের সামনে এসে দাড়াল । তারপর যুবকের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বললেনঃ আপনি এমন করছেন কেন ? মেয়ে মানুষ কখনও দেখেননি ? লজ্জা করে না এভাবে পথে ঘাটে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকতে ?

যুবক কিছুই বললেন না । তরুনীর কথায় তার মোহনীয় মুখখানা পদ্মার নদীর পানির কালো রং ধারন করল। তারপর ধীর পায়ে তরুনির কাছ থেকে দুরে সরে গেল। এরপর আর সামনেও এল না তরুনীও সাছ্ছন্দ বোধ করল।

তরুনী যথা সময়ে অনুষ্ঠানে পৌছলেন। প্রিয় কবিকে দেখার জন্য সে সভার একেবারে সামনের দিকে বসলেন। কিছুক্ষন পর অনুষ্ঠান শুরু হল । অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ একজন একজন করে মন্চে উঠতে লাগল । এই সময় একটু হালকা শোরগোল শোনা গেল । দর্শকরা দেখতে পেল তাদের প্রিয় কবি কাজি নজরুল ইসলাম বন্ধু পরিবেষ্টিত হয়ে মন্চে উঠে আসলেন। দর্শক সবাই দেখতে পেল সুঠাম দেহের অধিকারী , কাধ ছোয়া বাবড়ি চুল , বড় বড় টানা টানা দুই চোখ , সারা মুখ জুড়ে নিষ্পাপ হাসি মাখা কবি কাজি নজরুল ইসলাম তার নির্দিষ্ট আসনে বসলেন। আর তরুনী দেখতে পেল তার কবি কাজি নজরুল ইসলাম আর কেউ নয় পদ্মা নদীতে ঢেউ কেটে চলা সেই ইষ্টিমারের তার সহযাত্রী। যাকে সে অপমান করেছিল তার দিকে তাকিয়ে ছিল বলে।

নজরুল মন্চে বসে সরাসরি তরুনীর দিকে তাকালেন । চোখাচোখি হল দুজনের । চোখাচোখি হল কবি ও তার অচেনা ভক্তের । কবি নজরুলের চোখে চোখ পড়তেই তরুনী লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল। হায় হায় একি করেছে সে । যাকে সারা জীবন পুজা করেছে প্রিয় কবির বেদিতে রেখে, তার সাথে সে না জেনে না বুঝে একি আচরন করল ।

এই সময় মন্চ থেকে ভেসে এল উপাস্থপকের ঘোষনা এখন সংগীত পরিবেশন করবেন আমাদের প্রিয় কবি কাজি নজরুল ইসালাম।

বেজে উঠল হারমোনিয়াম আর তবলার সম্মিলীত আওয়াজ । তার কিছু পড়েই যোগ হল কবির ভরাট কন্ঠের গান। সম্পূর্ন নতুন গান ।

কবির সব গান তরুনী কন্ঠস্থ, কিন্তু এই গান সম্পূর্ন নতুন যা আগে কখনও সে শুনেনি । তার মানে কবি এখনই এই গান খানা রচনা করেছেন । যা কবি কাজি নজরুল ইসলামের জন্য স্বাভাবিক ব্যাপার।

তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয় সেকি মোর অপরাধ ।

চাদেরে হেরিয়া কাদে চকোরীনি ,

বলে নাত কিছু চাদ।

তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয় সেকি মোর অপরাধ ।

চেয়ে চেয়ে দেখি ফোটে যবে ফুল ,

ফুল বলে নাত সে আমার ভুল।......

তরুনী বুঝতে পারল গান খানা তাকে নিয়ে কবি রচনা করেছেন । অবাক হয়ে মাথা তুলে তাকাতেই দেখতে পেলেন, কবি তার দিকে তাকিয়েই গান গেয়ে যাছ্ছেন । কবির আশে পাশে তার বন্ধুরাও তাকিয়ে আছে আর মিটিমিটি হাসছে। এত সুন্দর গান শুনেও তরুনীর মনে হল হে ধরণী দ্বিধা হলে ভাল হত।

তরুনী এরপর ওভাবেই মাথা নিচু করে পুরো অনুষ্ঠানটা শেষ করল । অনুষ্ঠান শেষে, আর কিসের কবির সাথে দেখা করা আর কথা বলা , এখন পালাতে পারলেই সে যেন বেচে যায় ।

ইষ্টিমারে ফিরতি পথে রওয়ানা দিল তরুনী। মনের মাঝে চলছে উথাল পাথাল আত্ম সমালোচনার ঢেউ । যার জন্য এত কিছু । যার সান্নিধ্য কিছু সময় কাটানোর জন্য কত প্রহর আর ক্ষন বিনিদ্র রজনী কেটেছে । তার সাথে প্রথম দেখায় সে একি আচরন করল। সেত পত্রিকায় কবির ছবিও দেখেছিল তারপরও কেন চিনতে পারল না ।কবির সাথে নিজকৃত আচরনের জন্য তরুনী কিছুতেই নিজেকে ক্ষমা করতে পারছে না। অনুতপ্ত হৃদয়খানি তার বার বার এর প্রায়শচিত্ত করার জন্য তাগাদা দিছ্ছে ।এই ঘটনায় তরুনী তার নিজের স্বাভাবিক বিচার বুদ্ধি হারিয়ে ফেলল । এক পর্যা্যে সে নিজের জীবন নিয়ে এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল । তাকাল পদ্মা নদী পাক খাওয়া ঘোলা পানির দিকে । পৃথিবীর এই জমিনে যেন তার থাকার এতটুকু জায়গা নাই । পদ্মা নদীর বুকেই যেন সব শান্তি । নদীর অশান্ত জল যেন তার সকল গ্লানি মুছে দিয়ে তাকে দিবে চির শান্তির আস্বাদন।

কবি কাজি নজরুল রাজশাহীতে থাকা অবস্থায় শুনতে পেলেন তার অচেনা সেই তরুনী ভক্তের পদ্মা নদীতে আত্মহত্যা করার করুন কাহিনী । সেই তরুনী ভক্তের মৃত্যুতে তার কবি হৃদয়ে হাহাকার করে উঠল।

জন্ম নিল আরেকটি কালজয়ি গান।

পদ্মার ঢেউরে __________এ ।

মোর শুণ্য হৃদয় পদ্ম নিয়ে যা যারে ,

পদ্মার ঢেউরে ,

এই পথও ছিলরে যার রাংগা পায়,

আমি হারায়েছি তারে,

আমি হারায়েছি তারে,

পদ্মার ঢেউরে __________এ ।

মোর শুণ্য হৃদয় পদ্ম নিয়ে যা যারে ,

পদ্মার ঢেউরে ,
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০১৪ সকাল ৭:১৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিএনপি একটি বেঈমান আর গাদ্দারদের দল।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫০

‘বিএনপি ৭৫এর যোদ্ধাদের রক্ষা করেনি, ২৪ এর যোদ্ধাদেরও রক্ষা করবে না।’ ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×