somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ষাড়ের লড়াই এর পিছনে রয়েছে অনেক কাহিনী, লাখ লাখ টাকার লেনদেন, আর রয়েছে আধ্যাত্মিক শক্তির লড়াই । (গত পোস্টের পর)

১৮ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ষাড়ের লড়াইয়ের ছবিসহ পূর্বের পোস্ট






ষাড়ের লড়াইয়ে বিজয়ীদের পুরষ্কার দেওয়া হয়ে থাকে রঙ্গীন টেলিভিশন, হোক সেটা ১৪ বা ১৭ ইঞ্চি। খারাপ কি? এই টিভির জন্য ৬০/৭০ কিঃমিঃ পর্যন্ত দুরের পথ পাড়ি দিয়ে আসাটায় একটু অবাক হই বটে, চমকিত হইনা। টাস্কি খেলাম ঠিক তখনেই, আমাদের পাশের লুঙ্গি আর গেঞ্জি পড়া লোকটি যখন বললো, “বাবুল মিয়া ইতিমধ্যে এই হাড়(ষাড়) দিয়া ১২ লক্ষ টেকা কামাই করছে, এই লড়াইয়ে ধরা ৫ লাখ টেকা ” । ৭/৮ হাজার দামের চায়না টিভি কয়টা হলে ১২ লক্ষ হয়, ১২ লক্ষের জন্য কয়টা লড়াইয়ে জিততে হয় অথবা আজকের ৫লাখ টাকার ব্যাপারটাই বা কেমন, সেই হিসাব মনে মনে শুরু করে দেই। আরে ফলাফল তো অসম্ভব ঠেকে! আমার সাথে নেত্রকোণার মদনের এক বন্ধু ছিল, সেই আমাকে হিসাব টা বুঝিয়ে দিল।

দুই পক্ষের গরুর মালিকদের ভিতর বাজি হয়, সেটা ৫০ থেকে লাখ, দুই লাখ, তিন লাখ পর্যন্ত উঠে। যেমন আজকে আড়াই করে পাচ লাখ। সেটা মালিকের ভিতর সীমাবদ্ধ থাকেনা, পক্ষ প্রতিপক্ষ ছাড়াও আশেপাশের যে কেউ “লাগবা বাজি” জুয়া চলে। যেমন বলা চলে, তাহার সাথে উহার সম্পর্ক খারাপ, অতএব, “সাহস থাকলে ধর দেহি বা বাপের ব্যাটা হইলে আউগ্যা দেহি”, ব্যাস্ । যে লোকটির কথা প্রথমে বললাম, সর্বশেষ লড়াই শেষে ফুর্তির ঠেলায় আমাদের চায়ের নেমন্তন করিলেন। উনি বাজীতে ১৫ হাজার জিতেছেন, কয়দিন আগে ১০ হাজার হেরেছিলেন, আসলের সাথে বোনাস ৫ হাজার। একজন দুজন নয়, এসকল লোক শয়ে শয়ে, এরা লড়াইয়ের হাড়ির খবর রাখে, যে এলাকায় লড়াই হয় সেখানে চলে যায়, জাস্ট বাজির নেশায়। যে ষাড়ের মালিকের টাকা থাকেনা বাজি ধরার, তার হয়ে বাজি ধরে প্রভাবশালী অন্যকেউ। যে গরু জিতে, তার দাম তখন আসলের চেয়ে ৩/ ৪গুন বেড়ে যায়। অতএব, বাজি ধরতে নেই মানা।

এই যে এত লাখ লাখ টাকার খেলা, বাজিকরেরা লড়াইয়ে অংশগ্রহনকারী যোদ্ধাদের উপর উপর ভরসা রাখেনা। তাহলে তারা কি করে? জ্বি স্যার, সাথে চলে আধ্যাত্মিক শক্তির লড়াই। লড়াই চলাকালীন সময়ে হঠাৎ ছবির সাদা জামা গায়ের লোকটিকে মাঠ থেকে বের করে দিচ্ছে স্বেচ্ছসেবকরা । হ্যাঁ, এই লোকটির অপরাধ, উনি মাঠে মন্ত্র পড়ছিলেন। উনি একজন তান্ত্রিক। লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের নিরীহ ষাড়টির উপর উনি জাদুমন্ত্র করছিলেন। আকাশ থেকে পড়ার মত অবস্থা, আমি ভাই বিজ্ঞানের ছাত্র, ভাগ্যে যদিও বিশ্বাস করি তারপরও মন্ত্র দিয়ে কার্য হাসিল করাটা মোটেই বিশ্বাস করিনা। চোখকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করছি, কানকেও তাই। আবারও বন্ধুর বয়ান,- ষাড় একটি, মালিক একজন, কিন্তু তান্ত্রিক থাকে ৮/১০ জন। একেকজনের কাজ একেকরকম, কেউ মিসাইল (মন্ত্র) ছাড়ে প্রতিপক্ষের ষাড়ের উপর, কেউবা প্রতিপক্ষের মিসাইল ঠেকায়, কেউবা প্রতিপক্ষের তান্ত্রিককে অকার্যকর করে। এসব লড়াইয়ে যদি ষাড় জিতে তো, তান্ত্রিকের ডিমান্ড বাড়ে, আর যদি হারে তো, বাজারে তার বেইল (কদর) নাই। কি ভাই, অবাক হচ্ছেন? পরের ছবিটি দেখুন, হাড়ির ভিতর কত কিছু আছে, তার ভিতর লেবুর উপর গেথে আছে অনেকগুলো আলপিন( দেখা না গেলে অনুবীক্ষন যন্ত্র লাগান)। ব্যাচারা তান্ত্রিক, শেষ রক্ষা করতে পারলোনা, তাদের ষাড় লেজ গুটিয়ে ভাগিছে। আফসোস, এই তান্ত্রিকের বাজার দর কমিয়া গেল। এসব কথা লিখছি, আর নিজেকে বার বার প্রশ্ন করছি, কিভাবে সম্ভব? আমরা তো এখন এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে মানুষ ভিন্ন গ্রহে আবাস গড়তে প্রস্তুত, ময়মনসিংহে বসে যে লেখাটি টাইপ করছি, সেটা হয়তো কিছুক্ষনের মধ্যেই পৃথিবীর অন্যপ্রান্তের কেউ এইমাত্র পড়া শেষ করবে।
তারপরও এটা আমার বাংলাদেশ, হয়তো এটাই আমার ঐতিহ্য, যাকে খুজে ফিরি সবসম, হোকনা সেটা বাস্তবতার বাইরে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ২:৩৮
১১টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×