মস্তিষ্কে প্রচন্ড আঘাত করা হয়েছে, প্রচুর রক্ত ক্ষরন হয়েছে। চোয়াল থেকে দাত গুলো ইট দিয়ে কেচে কেচে খুলে ফেলা হয়েছে। চোখটাও রক্ষা পায়নি। শরীরের অন্যান্য স্থানেও আঘাতের চিহ্ন।সে এখন ওপারে যাওয়ার জন্য নৌকায় উঠেছে........যেকোন সময় মাঝি তার নৌকা ছেড়ে দিতে পারে।তোমরা কি এই মেয়েটিকে চিনতে পেরেছো? বিদ্যাময়ী স্কুলের ছাত্রী ছিল, তারপর এইচএসসি আনন্দমোহন থেকে, এবার এই আনন্দমোহনেরই ১ম বর্ষের ছাত্রী সে, নাম তার স্বর্ণা। কি চিনতে পেরেছো? আমিও চিনতে পারছিনা তাকে, তার মুখমন্ডল তো এর আগে কখনো ফুটবলের মত গোল ছিলনা কখনো। হালকা পাতলা একটা মেয়ে....এক বর্বর পশুর কারনে গাল ফুলিয়ে অভিমান করে বসে আছে, আমাকে যেন বার বার বলছে, ভাইয়া, আমি কিন্তু আর তোমাকে পানি খাওয়াবোনা।
গতকাল দুপুর বারোটার দিকে ঘটনা, বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়েছিল এগ্রিভার্সিটি, সেখানে পিছু নেয় ঐ কুত্তার বাচ্চটা, যে তাকে অনেকদিন ধরেই বিরক্ত করে আসছিল, কিন্তু সফল হচ্ছিল না। পাচ মিনিটের জন্য সময় চায় একাকী কথা বলার জন্য। রাজি হচ্ছিলনা, যা বলার সামনেই বলতে হবে। এই সিদ্ধান্তই তো সঠিক ছিল, কিন্তু হলোনা.......... তোর পা ধরতে চেয়ে সময় আদায় করে তোকে যে ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া পরিকল্পনা করেছিল, তুই কি একবারও বুঝতে পারিস নাই। তুই এত বোকা কেন? এখন বুঝ্ , । আমি এত কিছু জানিনা, তোদের বাসায় গেলে যেন, প্রতিবারের মত টিউবয়েলের ঠান্ডা পানি তোকে এনে দিতে হবে।ময়মনসিংহের হাসপাতালে আইসিইউ তে তোর জায়গা হলোনা। রাতের মধ্যে ঢাকায়। বিপি নাই বললেই চলে তোর , স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসও বন্ধ করে রেখেছিস, কৃত্রিম ভাবে শ্বসন আর কতক্ষন চালাবি তুই।আর কতক্ষন? তোকে কিন্তু ফিরে আসতেই হবে....দেখিস, যে ছেলে তোর এই অবস্থা করেছে, তার শাস্তি হবেই। এই শহরের প্রতিটি মানুষ, দেখিস তোর পাশে থাকবে..........যখন তারা জানবে.......অবশ্যই তোর পাশে থাকবে।কল্যাণপুর ইবনে সিনায় তোকে আর শুয়ে থাকতে হবেনা। আমি সত্যিই আর কিছু লিখতে পারছিনা............
শেষ খবর , ডাক্তার বলছে...সম্ভবনা নাই
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


