somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে নিয়ে একটি সমালোচনার জবাব

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান না ফেরার দেশে চলে গেছেন গত শনিবার দিবাগত রাতে। বাংলাদেশের সর্বজনগ্রাহ্য লোকদের মধ্যে তিনি একজন। মূলত বিচারপতি হলেও সাহিত্যজগতে তার বিচরণ ছিল চোখে পড়ার মতো। কবি, চিন্তক, ভাষাবিদ, গবেষক হিসেবে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। এককথায় যাকে জ্ঞান তাপস বলা যায়। তার সমসাময়িক কালে তার মতো ভারসেটাইল জ্ঞানের শাখা বিচরণের নজীর মেলে না।

ভাষা আন্দোলনে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে প্রথম যে ১০ জন ১৪৪ ধারা ভেঙ্গেছিলেন তার মধ্যে বিচারপতি হাবিবুর রহমানের একজন। ভাষা আন্দোলন এবং তৎপরবর্তী সময়ে সততা এবং নিষ্ঠা সহকারে অর্পিত দায়িত্ত্ব পালন করে এদেশের সাধারণ জনগণের মানসপটে স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালের কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার পর তার অবস্থানটা আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠে।

ভার্চুয়াল জগতে কিছু মানুষ তাকে নিয়ে কাটাছেড়া করছেন। কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন গোলাম আজমের নাগরিকত্ব মামলায় গোলামের পক্ষে বাংলাদেশের বাঘাবাঘা বিচারপতিরা (পরে ৫ জনের চারজনই প্রধান বিচারপতি) তারপক্ষে রায় দিয়েছেন তাদের মধ্যে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান একজন। তার এই ভূমিকা নিয়েই তাদের আপত্তি। বিচারপতির এই দেশপ্রেম আর সততার কারণে কারও কারও মতে ঐ মামলায় বিচারক হিসেবে রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বিব্রতবোধ করতে পারতেন যেমনটা শেখ মুজিব হত্যা মামলার আপিলের শুনানীর ক্ষেত্রে বিচারকরা করেছিলেন। সমালোচকদের এই অবস্থানটার ব্যাপারে আমার সহমত আছে কেননা ৭১ এর বিরোধীদের কোন রকম ছাড় দেওয়া কোনভাবেই উচিৎ নয় আইনে যাহাই থাকুক না কেন বা আইন অনুযায়ী রায় যাই নির্ধারিত হোক না কেন বিব্রতবোধ করতে কোন সমস্যা ছিল না। তবুও এতদিন পরে বিশেষ করে তার মৃত্যুর পড় এধরনের প্রশ্ন তুলে তার অবদানকে খাটো করার কোন সুযোগ নেই। কেননা তিনি বিব্রতবোধ করলেও অন্য কেউ হয়তো এই রায়টা দিতেন। মামলা পরিচালনার মুল সমস্যার দিকে না গিয়ে এর জন্য তার সমালোচনা করা অবান্তর।

এবার ঐ মামলার বিষয়ে আসি। মামলা ছিল রাষ্ট্র বনাম গোলাম আজম। রাষ্ট্র সরকারে ছিল বিএনপি-জামাত। এটা অনুমিত ছিল যে জামাত বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছিল এই শর্তে যে গোলাম আজমের নাগরিকত্ব মামলায় পার পাইয়ে দিবে। রাষ্ট্র এই মামলায় তার এটর্নি জেনারেলদের আর অন্যান্য আইনজীবীদের দিয়ে যে মামলা পরিচালনা করেছিল তার টার্গেট ছিল গোলামের নাগরিকত্ব নিশ্চিতকরণ । সরকারের উদ্দেশ্য সফল হয়েছিল। বাংলাদেশে রাজনীতিতে নতুনভাবে জামাতের জগরন শুরু হয়েছিল সেদিন থেকে।

গোলাম আজমের মামলার বিচারক যারা ছিলেন তারা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সবচেয়ে উজ্জ্বল লোকগুলোই ছিল সেদিনের সেই বিচার বেঞ্চে। প্রশ্ন থাকছে তাহলে গোলামের নাগরিকত্ব পেল কিভাবে? দায় কি বিচারকের নাকি মামলা পরিচালনা করেছিলেন যেসব আইজীবী বা আইনজীবী নিয়োগকারী সরকারের।

সরকার তার পূর্বস্থিরকৃত এজেণ্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়েই গোলাম আজমের পাকিস্তান ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাকাপোক্ত করেছিলেন। এখানে বিচারকের কোন দোষ নেই। কারন বিচারক তার সামনে উত্থাপিত তথ্য-উপাত্ত, দলিলাদী, যুক্তিতর্ক আর প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনের আওতায় রায় দিবেন। সরকারের নিয়োগকৃত আইনজীবীরা এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তেমন দলীলপত্র উত্থাপন করেননি। মামলার রায়ে সেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কথা হচ্ছে রাষ্ট্রের আইনজীবীরা যদি তথ্য-প্রমান উপস্থাপন না করবেন তাহলে বিচারক কি হাওয়ার উপরে রায় দিবেন?! গোলাম আজমের নাগরিকত্ব মামলার ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।

বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে যারা এজন্য সমালোচনা করেন তারা অসুস্থ চিন্তার ধারক-বাহক। জ্ঞান-তাপস হিসেবে পরিচিত বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের যারা সমালোচনা করে তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি হল অথর্ব আর ইডিয়েটদের দল। বর্তমানে এদের দেশ পরিচালানার করার কোন যোগ্যতা ই নেই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেয়াটা নিন্দনীয় কিন্ত তার বিচার হবে কিসে? রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলায়?? রিমান্ডে নিয়ে?

চৈতালি চক্রবর্তী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সে আইন বুঝে। প্রায় প্রতিদিন জুলাই, আবু সাইদ, বাংলাদেশ সব কিছু সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×