মানুষ বড় হয়। কিন্তু প্রায়শই ভালো এবং মন্দের পার্থক্য করতে গিয়ে গুলিয়ে বসে। উচ্চ মার্গের ভাষায় আদতে ভালো আর মন্দের কোন অস্তিত্ব নেই কারন সবই আলটিমেট রিয়েলিটির ইলিউশন। কিন্তু সেই উচ্চ মার্গিয় কথা, দর্শন অথবা ভাবধারার স্থান এই পোস্ট না। আমি অথবা আমরা কেউই সেই গন্তব্যে এখনও পৌছাই নাই যে ভালো মন্দের বিভাজন পর্দা এক এক করে খসে পড়বে। সুতরাং "পাপ পূণ্যের কথা আমি কাহারে শুধাই" গাওয়ার সময় এখনও আসে নাই।
ভালো মন্দের ভিতরে পার্থক্য করতে শেখা কেবল একটা লাইফ লং লার্নিং প্রসেসই না, যেন লাইফ লং স্ট্রাগলও। পিতা সন্তানকে তার ভালো মন্দের আলাদা করার জ্ঞান থেকে উপদেশ দিয়ে থাকেন; ধর্ম প্রচারকরা ইলমুল গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞান থেকে ঐ একই ভালো মন্দের পার্থক্য করার উপদেশ দিয়ে থাকেন; মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীর অফিস কালচার এবং রুলস এন্ড রেগুলেশনেও প্রোফেশনাল আচরন কি সেটা বুঝাতে আবার সেই অফিসের কনটেঙ্টে কোনটা ভালো এবং কোনটা মন্দ, অগ্রহনযোহ্য সেটার লিস্টি তৈরী করা হয়।
তারপরেও বারবার আমরা যেন ভালো এবং মন্দের পার্থক্য বুঝতে ভুলে যাই। প্রাপ্ত বয়স্ক একেকজন মানুষ, তারপরেও। যেন এখনও অপ্রাপ্তবয়স্ক যার ভালো মন্দের পার্থক্য বোঝার মতো সময় হয় নাই, সেরকম লাগাতার আচরন। আমি কারন অনুসন্ধানে ভাবি, আসলে কি এটা নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা। সিজোফ্রেনিক রুগির মতো রিয়েলিটি হারিয়ে ফেলে হঠাৎ করে হিংস্র পশু হয়ে উঠি কেন একেকজন?
মনে হয় এটা নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা। অন্যকে অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে যেন সেই অবিশ্বাসের শূণ্যতাকে আমরা পূরন করার চেষ্টা করি। স্রষ্টায় বা অদৃশ্যে বিশ্বাস তো অনেক উপরের, উচ্চ মার্গের বিষয়। সেটাকেও এই পোস্টের বাইরেই রাখছি। কিন্তু আপন সত্ত্বার প্রতি বিশ্বাস রাখা তো অদৃশ্যের বিষয় না। আপন সত্ত্বা দৃশ্যমান। বিশ্বাস না হলে নিজের অস্থি, মাংস স্পর্শ করে অনুভব করুন। নিজের প্রতি বিশ্বাস আনুন।
অন্যকে গালাগালি করে নিজের সন্মান বৃদ্ধি পায় না, পৃথিবীর কারো কখনো পেয়েছে বলে কেউ প্রমান করতে পারে নি। বরং উল্টোটা ঘটেছে, সবসময়। কিছু চিরন্তন নিয়মের মতো, এটাও সেই একটা নিয়ম। [গাঢ়]আপনার কাছে যদি আত্ন-অবস্থান অনেক উপরে থাকে (যেটা প্রত্যেকের কাছেই থাকে, থাকার কথা), তবে অন্যের কথায় সেই অবস্থান নেমে যায় না। [/গাঢ়] এই বিশ্বাসটুকু রাখতে পারেন।
এখানে অথবা বাইরের পৃথিবীতে আপনি যা, অন্যের কথায় সাথে সাথে সেটা পরিবর্তন হয়ে যায় না। যেতে নেই। নিজের আত্নার এবং আত্নের উপরে এই বিশ্বাসটুকু রাখুন। আত্নবিশ্বাসী হন। আত্নবিশ্বাসীরা আত্নায় বিশ্বাস করে।
ইসলামের পরিভাষায়, গালাগালি করা মুনাফেকের লক্ষন। আইরনিক ব্যাপারটা হলো মুনাফেক মানে হলো যে কনট্রাডিক্ট করে, যে ঢেকে রাখে, যে গোপন করে। খেয়াল করে দেখবেন, [গাঢ়]নিজের অবস্থান উপরে রাখার প্রয়াসকে মাথায় রেখে [/গাঢ়]গালাগালি করে [গাঢ়]নিজেকে বড় প্রমান করার প্রচেষ্টা [/গাঢ়]একটা কনট্রাডিক্টরি কাজ। এতে যদি মনে করা হয় গালাগালি করে সন্মান পুনরুদ্ধার না হোক, অন্যেরটা কমানো যাবে; তবে সেটা মুনাফিক আচরন। যদি মনে করা হয়, অন্যের ডিগনিটি কমালে কম্প্যারেটিভ স্কেলে আমারটা বাড়বে; তবে সেটা ভুল। হিউম্যান ডিগনিটি কম্প্যারেটিভ স্কেলে ওঠা নামা করে না।
সুতরাং নিজের উপরে বিশ্বাস রাখুন এবং প্রাণ খুলে বাচুঁন।
(নিশ্চই খোদা যাকে খুশি সন্মানিত করেন, যাকে খুশি অপদস্থ করেন ।)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ ভোর ৬:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


