'ধর্মমুক্ত বা ধর্মহীন নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন মানুষ হলেই কী মিনিমাম রিকয়ারমেন্ট পূর্ণ হয় না?'
হ্যা রিকয়ারমেন্ট পূর্ণ হয়। কিন্তু মজার বিষয় হলো যখনই মানুষ এই নৈতিকতাবোধগুলোকে একত্রিত করতে চাইবেন, তখনই তো ধর্মের সৃষ্টি হবে।
ধর্ম কি? ধর্ম কতগুলো গাইডলাইন। মানুষের নৈতিকতাগুলোকে এক সাথ করার একটি সামগ্রিক ফলাফল, একটা সিস্টেম। প্রথমে মানুষ তারপরে তার জন্য ধর্ম। উলেটাটা নয়। ধর্মের জন্য মানুষ নয়।
মনে করুন এখন পৃিথবীতে সব ধর্ম তুলে দেওয়া হলো। মানুষকে বলা হলো শুধু নৈতিক আচরন করো। ধর্ম বলে কিছু নেই। তখন কি হবে জানেন?
একেক দলের মানুষ চেষ্টা করবে নৈতিক আচরনগুলোকে সুসংবদ্ধ করতে। (সামগ্রিক সমাজ বা গোষ্ঠিকে চালাতে সিস্টেম দরকার হয়, যেমন স্কুল, কলেজ) সুতরাং জন্ম নেবে গ্রন্থের যেখানে প্রয়োজনীয় নৈতিকতা লেখা থাকবে। তাহলে কি পাবো? ধর্মগ্রন্থ। (অন্য নামে ডাকলেও)
আবার মানুষ যেহেতু চিন্তার দিক থেকে খুবই বৈচিত্র্যময়, সুতরাং বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে পার্থক্য করে বিভিন্ন ভাবে নৈতিকতাকে ব্যাখ্যা করবে। তখন কি পাবো? পাবো বিভিন্ন ধর্ম।
এই হলো ধর্ম সৃষ্টির সমাজ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি যখন স্রষ্টার দেখানো পথে হয়ে থাকে (যা সব ধর্মের মহামানবদের ক্ষেত্রে হয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি) তখন তাকে ডিভাইন রিলিজিয়ন বা স্রষ্টার ধর্ম বলি। পার্থক্য খুব সূক্ষ। সৃষ্টি যিনি তৈরী করেছেন তিনি তো গাইড করবেন ই। সেই গাইডলাইনগুলোই হলো ধর্ম।
সুতরাংআপনার উত্তর হলো হ্যা, নৈতিকতা থাকলেই মানুষ হবে। কিন্তু যখন আপনি সমাজের অনেক মানুষকে গাইড করতে চাইবেন তখন আপনার নৈতিকতাগুলো সুসংবদ্ধ করতে হবে, একটা সিস্টেম তৈরী করতে হবে। আর সেই সিস্টেমগুলো হলো ধর্ম। সুতরাং ধর্ম যদি বাদও দেন, ঘুরে ফিরে আবার ধর্মেই ফিরে আসবেন।
পৃথিবীতে অনেক এক্সপেরিমেন্ট হয়েছে এরকম। চীনে এরকম অনেক সোসাইটি আছে যারা সেকুলার নৈতিকতা নিয়ে শুরু করে এন্ড অফ দি ডে একটা নতুন কালট রিলিজিয়ন তৈরী করে বসে আছে। আমেরিকা সহ বিশ্বের অনেক জায়গায় তা হয়েছে।
ধর্মমুক্ত হতে চাইলে হয়ে যেতে পারেন। কিন্তু আমার মনে হয় হাজার হাজার বছরের যে জ্ঞান একেকটা ধর্ম ধারন করে তা ফেলে না দিয়ে তা থেকে শেখাই ভালো। অনেক বৈজ্ঞানিকের সবার প্রচেষ্টা নিয়েই যেমন আজকের বিজ্ঞান, তেমনি অনেক মহামানবের জীবন আত্নত্যাগ, গভীর তপস্যার ফসল ধর্মীয় অনুশাসন। তারা জানিয়ে গেছে কিসে মানব জাতির মঙ্গল। সুতরা ং বিজ্ঞানীরা যেমন আগের গবেষনাকে ভর করে এগিয়ে যায়, মানব সভ্যতাও তেমন প্রাচীন ধর্মের জ্ঞানকে , মূল্যবোধকে জীবনে ধারন করে জীবনেক আরো সমৃদ্ধ করতে পারে।
ধর্মকে বিদায় বলার কোন প্রয়োজন দেখি না।
এই লিংকে কিছু চিন্তার খোরাক পেতে পারেন:
Click This Link
ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



