ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি স্কলার প্রোগ্রামের আওতায় আজকে 'সুিফ ট্রাডিশন ইন ইসলাম' শিরোনামে একটি দিনব্যাপি সেমিনারে অংশ নিচ্ছি। সকালবেলা সেমিনারে রেজিস্ট্রেশন শেষে ঢোকার মুখে একটা বইয়ের স্টলছিলো। সেখানে চমৎকার সব দর্শন ও সুফি বই দেখে দাড়িয়ে বইগুলো দেখছিলাম। পকেটে বেশি পয়সা ছিলো না, তাই বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলাম তোমার দোকান কোথায়, যাতে সেখান থেকে পরে কিনতে পারে। লোকটি আমাকে তার দোকানের কার্ড দিতে দিতে বললো, তোমাকে যেন কোথায় দেখেছি?
বইয়ের প্রচ্ছদ ছেড়ে আমি তার মুখের দিকে তাকাই। চেহারায় মালে মুসলিমের ছাপ। হাত বাড়িয়ে নিজের নাম বলি, সাদিক। ঠিক চিনতে না পেরে জানতে চাই দু:খিত, তোমার সাথে কোথায় পরিচয় হয়েছে?
সে বলে, সাদিক, হ্যা। আমি তোমার ব্লগে গেছি। তোমার ব্লগে আমার সাইটেরও লিংক আছে। ভিতরে ভিতরে অবাক হই, আনন্দও লাগে। আমি জানতে চাই তোমার ব্লগের নাম যেন কি? সে নাম বলে।
যা উল্লেখযোগ্য তা হলো এই প্রথম বারের মতো কেউ আমাকে চিনতে পারলো আমার ব্লগ থেকে। বিষয়টার মধ্যে একটা তৃপ্তি কাজ করে।
আমি ব্লগ লিখি সেই ডিসেম্বর 2004 থেকে। ধর্ম, জীবন দর্শন, আধ্যাত্নবাদ, সুফি চিন্তা এবং তুলনামূলক ধর্মত্তত্ব ইত্যাদি আমার আগ্রহের বিষয় এবং তাই নিয়েই লেখালিখি (যদিও আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি)। খোদার রহমতে প্রচুর হিট পাই। গড়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় 1330 টি পেইজ হিট হয়। সাইটের বেশিরভাগ ভিজিটরই আমেরিকার।
এখানে লক্ষ্য করলাম কেউ একদিন প্রশ্ন রেখেছিলো ব্লগ লিখি কেন? আমি বলবো, নিজের চিন্তাকে প্রকাশ করা, লেখালেখির নেশাকে ধরে রাখা, নিজের পড়াশুন া চিন্তা ইত্যাদিকেসংরক্ষন করা, সমমনা মানুষের সাথে ইন্টার্যাকশন করা ইত্যাদি সবগুলো কারনে আমি ব্লগ লিখি। ব্লগের মাধ্যমে আমি প্রচুর মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে যাদের সাথে কস্মিনকালেও আমার দেখা হওয়া বা কথা বলার কথা নয়। অথচ সুদুর আমেরিকা বা ইউরোপের এইরকম কয়েকজন মানুষ এখন নিজের পরিবারের মতো আপন। কারো সাথে ফোনেও আলাপ হয়।
ব্লগের মাধ্যমেই আমি পরিচিত হয়েছি আজকের যুগে নিউ ইয়র্কের মতো শহরে বাস করা সত্যিকারের সুফি দরবেশের সাথে (আমার নিজেরও ধারনা ছিলো না নিউ ইয়র্কের মতো শহরে আজকের দিনে সপ্তম শতাব্দির মতো দরবেশ থাকতে পারে)। আমার সুযোগ হয়েছে এমন মানুষের সাথে যারা খ্রিস্টান হওয়া সত্ত্বেও হৃদয়ের দিক থেকে আমাদের চাইতেও অনেক বেশি মুসলমান । আমার পরিচয় হয়েছে এমন মানুষের সাথে যারা আধ্যাতি্নকভাবে অসম্ভব অগ্রসর। সাধারনভাবে এরা কখনোই নিজেদের প্রকাশ করে না। ব্লগ সেই সুযোগ করে দিয়েছে।
ইন্টারনেটের একটা অসম্ভব শক্তিশালী দিক হলো এর চেহারাবিহীন উপস্থাপনা। আপনি সরাসরি মানুষের চিন্তার সাথে যোগসাধন করতে পারেন এবং বাহ্যিক অনেক কিছুকে পার হয়েই। যেভাবে সময় এবং স্থানের বিভেদকে তুলে দিয়ে ইন্টারনেট এক অসাধারন প্লাটফর্মের ূপ নিয়েছে তার ভিতরে ব্লগিং এনে দিয়েছে নতুন এক ফেনোমেনা।
আগের দিনের পাসের্ানাল ওয়েবসাইটের চাইতে ব্লগ অনেক বেশি শক্তিশালী। এখানে মানুষের সাথে মন্তব্য আদান প্রদান করা, ব্যক্তিগত এবং সমষ্টিগত মতামত শেয়ার করার যে ব্যাপারটা সেটা খুবই শক্তিশালী। ব্লগ এখন মানুষের আইডেনটিটিতে রূপ নিচ্ছে।
আমার ব্লগ: http://mysticsaint.blogspot.com/
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




