somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ রাজাকার মারা কোন অপরাধের ভিতর পরে না ।

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমিনুল রহমানের মেজাজ আজ চরম খারাপ । বিরস মুখে যখন বাসা থেকে বের হলেন তখন তার ডান চোখের পাতা কাঁপতে লাগল । অন্য সময় হলে তার মনে একটা আনন্দের অনুভূতি হত কারন যখনই তার ডান চোখের পাতা কাঁপে তখনই কোন না শুভ ঘটনা ঘটে । কিন্তু আজ তিনি বড় বিরক্ত হলেন । আজ ভাল কিছু হতেই পারে না । কারন আজ তার ট্রাইবুনালে ডিউটি পরেছে । আজম রাজাকারের নিরাপত্তার ডিউটি । আমিনুল ইসলামে ভাবতে অবাক লাগে একজন রাজাকার জন্য এতো নিরাপত্তার দরকার কি ? বড় আজব এই দেশ ।
ট্রাইবুনাল প্রাঙ্গানে পৌছিয়ে তিনি দেখলেন অনেক লোকের সমাগোম হয়েছে । প্রতিবারই হয় । কিন্তু আজ যেন একটু বেশি । একটু পরেই প্রিজন ভ্যান এসে হাজির । ভিড়ের ভিতর থেকে এবার স্লোগান দেওয়া শুরু হল । আমিনুল ইসলামের মেজাজটা আরো বেশি খারাপ হল । একজন সিপাহীর কাছ থেকে একটা স্টিলের রুল নিয়ে ভিড়ের দিকে এগিয়ে গেলেন । কয়েক জন কে ধাক্কা দিয়ে বেরও করে দিলেন ।
তাদের ভিতর দুজনকে দেখা গেল বেজায় সাহস । আমিনুল ইসলাম যে একজন পুলিশ তাকে কোন পাত্তাই দিল না । আমিনুল ইসলামের বড় মেজাজ খারাপ হল । ইচ্ছা হল জোরে একটা চড় মারতে । খুব কষ্টে নিজের ইচ্ছাটাকে দমন করলেন । একটা সময় ছিল শিবির দেখলেই তাকে ধরে পেটাতেন । তখন দেশের বিরুদ্ধ কোন কিছু দেখলেই তার মেজাজ গরম হয়ে যেত । তখন তিনি ইয়াং ছিলেন । খুব বেশি পিছু টান ছিল না । কিন্তু এখন অনেক কিছু ভাবতে হয় । তবুও ঐ দুজন কে একটু ধমকাল । কিন্তু যখন প্রিজন ভ্যানের দরজা খুলে আজম রাজাকার বের হয়ে এল তখন ঐ দুজন যেন পাগল হয়ে গেল । দুর্গা পুজার সময় যেমন মুর্তিকে ঘিরে সবাই নাচানাচি করে এরাও ঠিক সেই রকম কাজ করতে লাগল ।
আজম রাজাকার কে আবার হুইল চেয়ারে তোলা হল । সে নাকি হাটতে পারে না । আমিনুল ইসলামের মেজাজটা আরো একটা খারাপ হল । হুইল চেয়ার ঘিরে অনেক পুলিশ কিন্তু আমিনুল ইসলাম ওখান থেকে সরে গেলেন । আসলে তিনি আজম রাজাকারের গা থেকে পাঠার গন্ধ পেতে শুরু করেছেন । এমনটাই তার হয় । আগে যতবার তিনি রাজাকারের আশে পাশে গেছেন ততবারই পাঠার গন্ধ তার নাকে লেগেছে ।
দুর থেকেই দেখলেন বেশ কিছু পুলিশ আজম রাজাকারকে ঘিরে ধরে সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে । কিছুক্ষনের ভিতরেই বেশ কিছু মিছিলরত লোক ঐ পুলিশের দলটাকে ঘিরে ধরল । আমিনুল ইসলামের মনে হল কিছু একটা ঘটতে চলেছে । ঠিক তখন ককটেল ফাটলো । আর সবার মাঝেই একটা হট্টগোল শুরু হয়ে গেল । পরপর আরো কয়েকটা ককটেল ফাটলো । কেউ যেন স্মোক বোমা ফাটালো !
সারা প্রঙ্গল ধোয়ায় ধোয়ায় ভরে গেছে । কিছুই দেখা যাচ্ছে না । আমিনুল ইসলাম তবুও আজম রাজাকারের দিকে এগিয়ে গেলেন । তার মনে হল যেন এই হামলা করে তারা ঐ আজম রাজাকার কে ছাড়িয়ে নিতে এসেছে । কিন্তু আর একটু এগিয়ে গিয়ে তিনি একটা অবাক হওয়া দৃশ্য দেখলেন । তিনি দেখলেন সেই দুটো বেপরয়া ছেলে কে একটু আগে দেখেছিলেন সেই দুটো ছেলে আজম রাজাকারের খুব কাছে চলে এসেছে । তারপর পকেট থেকে দুটো সুচালো খঞ্জরের মত বের করে আজম রাজাকারের গলা বরাবর চালিয়ে দিল । তিনি দেখলেন আজমের গলা দিয়ে রক্ত বের শুরু করেছে । ছেলে দুটো তারপর ভিড়ের ভিতর হারিয়ে গেল । সব কিছু ঘটলো কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ।
আমিনুল ইসলামের মনে হল তিনি ছেলে দুটোর পিছনে যাবেন কিন্তু তারপর মনে হল নাহ ছেলে দুটো ঠিক কাজ করেছে । এই দেশে রাজাকার মারা কোন অপরাধের ভিতর পরে না ।
তিনি আবার নিজের জায়গায় ফিরে এলেন ।




আমি লিখতে পারি না । কিন্তু এই কল্পনা না আমার করতে খুব ভাল লাগে । আমি আসলেই মনে করি এই দেশে রাজাকার মারা কোন অপরাধের ভিতর পরে না । কল্পনা হোক আর বাস্তব রাজাকারের মৃত্যু সব মানুষের মনেই আনন্দ জাগায় ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:০২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ মাতৃভাষা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:০৯


রক্তে কেনা মাতৃভাষা
বিশ্বব্যাপী সম্মান।
দৃপ্ত শপথে অটুট রাখবো
বাংলা ভাষার মান। 

মায়ের ভাষা সবার কাছেই
সবচাইতে প্রিয়।
প্রত্যেক ভাষাভাষীকে তার
প্রাপ্য সম্মানটুকু দিও।

ভাষা নিয়ে বিদ্বেষ বিভেদ
রুখতে ফেব্রুয়ারিতে।
ঢাকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষা আন্দোলনের ইতিকথা, স্বাধীনতার বীজ বপন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০৪


বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিকথা
ইতিহাসের পাতায় লেখা এক দিন
উনিশশো আটচল্লিশের মার্চের সকালে
জেগে উঠেছিল সময়ের রঙিন প্রাণ।

৪৮ এর এগারোই মার্চ, সভার ভেতর
করাচির গণপরিষদের প্রাঙ্গণ জুড়ে
একটি প্রস্তাব ধ্বনিত হলো দৃঢ় কণ্ঠে
নতুন রাষ্ট্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ প্রমোশন

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫


একই ডিপার্টমেন্টে কাজ করতো দু’জন সায়ন চৌধুরী আর ঈশিতা রহমান। ঈশিতা এসেছিল সায়নের আগে। তাই শুরু থেকেই কাজের বেশিরভাগ দায়িত্ব ছিল তার হাতে। প্রেজেন্টেশন, ক্লায়েন্ট ব্রিফ, স্টোর রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতে ইসলামী ভাষা আন্দোলনের বিপক্ষে ছিল না

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০২


জামায়াতে ইসলামীকে আমি এখন নতুন চোখে দেখি। মানুষ ভুল করতেই পারে, ইতিহাসে ছোটখাটো কিছু ভুল তো সবারই থাকে। যেমন ধরুন, একটা দেশের জন্মের বিরোধিতা করা, সেটাকে ভেঙে দিতে চাওয়া, বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়া এতো কঠিন কেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আমার বড় মেয়ে মারিয়ার সাথে আজ কথা হলো। সে যুক্তরাজ্যে পড়ালেখা করে। এখন ৭ম শ্রেণীতে। মারিয়ার নানাবাড়ি ইংল্যান্ডে হওয়ায় সেখানে থেকে পড়ালেখা করাটা একটু সহজ হয়ে গিয়েছে। আমার সাথে ফোনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×