somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নাফিজ মেহরাব
ভালবাসি দেশমাতাকে। শিক্ষাব্যবস্থাকে বদলে দেয়ার স্বপ্ন অন্তরে লালন করি। বিভিন্ন ধরণের বই পড়তে পছন্দ করি। আর দশজন সাধারণ মানুষের মতোই বিশেষণ হীন। আমার ব্লগে আপনাকে সাদর সম্ভাষণ।

কাদের সাহেবের চালাক হইবার গল্প

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাদের সাহেব মোটামুটি একটা চাকরি করতেন। বছর তিনেক হলো তিনি অবসরপ্রাপ্ত। আগে যখন দম ফেলবার সময় পাওয়া যেত না এখন তার হাতে অখন্ড অবসর। অখন্ড অবসর কাটানোর নিত্য নতুন ফন্দি তিনি আটছেন কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছে না। তাই তিনি নিজের উপর চরম বিরক্ত। কাদের সাহেবের দুই ছেলে কোন মেয়ে নাই। এজন্য তিনি আল্লাহ র কাছে প্রায়ই শুকরিয়া আদায় করেন। মেয়ে থাকলে তার বিয়েতে অনেক খরচ হতো স্বাভাবিক ভাবে।আর বুড়া বয়সে তো মেয়েরা জামাইয়ের ঘর করবে আর ছেলেরাই বাবাকেই টানবে। ছেলেদের মানুষ করায় কোন ত্রুটি রাখেননি আর দশটা স্বাভাবিক বাবার মত।এত করেও ছেলেদের মন পান নাই কারণ তিনি নাকি মানুষ হিসেবে অত্যন্ত বোকা।

কাদের সাহেব অবশ্য মানুষ হিসেবে তাকে বোকা মনে করেন না, অত্যন্ত চালাক মনে করেন। এ কথা তিনি তার দুই ছেলের কাছে প্রকাশ করেছেন ঠিকই কিন্তু দুই ছেলেই একসাথে উত্তর দিয়েছে সব বোকারাই তা মনে করে। এতে তিনি ভীষণ মর্মাহত ছিলেন। টানা দুইদিন অফিসে কাজে মনযোগ দিতে পারেন নাই। তারপর অনেক চিন্তা করে বের করলেন তিনি মনে তার মা মরা ছেলেদের দিকে যথেষ্ট খেয়াল রাখতে পারেন নাই। তার জন্য অনুশোচনা বোধ করতে লাগলেন। তারপর থেকে ছেলে দুইটার জন্য অমানুষিক পরিশ্রম করতে লাগলেন। দুই ছেলেরই একটা গাড়ির শখ ছিল।তার মৃত বউ এর গয়না বিক্রি করে ছেলের সে শখ পূরণ করলেন। তার বড় ছেলের আবার সামান্য নেশা ভাং এর অভ্যাস আছে সেই টাকাও কাদের সাহেব জোটাতেন।বড় ভাই নেশা করে ছোট ভাই না করলে খারাপ দেখায় তাই ছোট ভাইও নিজেকে জাহির করার জন্য শুরু করলো নেশা। এইভাবেই কাটতো দিন। এখনো কাটে। কাদের সাহেব এখনো তার সঞ্চয় ভেংগে টাকার যোগান দেন দুই ছেলের।

কাদের সাহেব অবসর কাটানোর নতুন একটা উপায় পেয়েছেন। তার দুই ছেলে তাকে কেন বোকা মনে করে সেই রহস্য বের করবেন। অনেক ভেবে ভেবে কোন কারণ না পেয়ে কাদের সাহেব ভাবলেন তার দুই পুত্রধনকে এইবার বিয়ে দিতে হবে। ছেলেরা মুখ ফুটে বলতে পারে না,কিন্তু তার তো বোঝা উচিত ছিল। এই ভেবে তিনি লজ্জ্বা পান। তিনি অনেক ভেবে বের করলেন এই জন্যই তাকে হয়তো ছেলেরা বোকা ভাবে। মহা ধুমধাম করে দুই ছেলের বিয়ে সম্পন্ন হল। বিয়ের টাকা যোগাড় করতে মহা ঝামেলা হয়েছিল। কারণ বিয়ের আয়োজন ভাল না হলে দুই ছেলে আবার তাকে বোকা ভেবে বসতে পারে। বিয়ের টাকা ধার করার জন্য যার কাছেই যান সেই বলে আপনি রিটায়ার্ড মানুষ আপনাকে ধার দিলে শোধ দিবেন কেমনে? আপনার দুই ছেলেও তো কাজকর্ম কিছুই করে না। কমপক্ষে চার পাচ জায়গায় তিনি এই কথা শুনেছে। কিন্তু তিনি তো চালাক মানুষ দমে যাবার পাত্র না। এক মহাজনের কাছ থেকে কড়া সুদে টাকা নিলেন। টাকা বাড়িতে নিয়ে এসে আলমারিতে রাখার পর তিনি ভাবছিলেন তিনিই দুনিয়ার সবচেয়ে ক্ষুরধার মস্তিষ্কের অধিকারী।কারণ তিনি টাকাটা যোগাড় করতে পেরেছেন।

বিয়ে করার পর দুই ছেলে আলাদা হয়ে গেল। কাদের সাহেব বুদ্ধিমানের মত বাধা দিলেন না। ছেলেরা বিয়ে করছে আলাদা হবে এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু দুই ছেলের তো আর ইনকামের পথ নাই। কাদের সাহেব বুদ্ধিমানে্র মত তাদের ছেলেদের টানতে লাগলেন। দুই ছেলে যেদিন কাদের সাহেবের কাছ থেকে বাড়ী লেখে নিল কাদের সাহেব বুদ্ধিমানের মত সই দিয়ে দিলেন। দুই ছেলে যেদিন তাকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখার কথা বললো কাদের সাহেব বুদ্ধিমানের মত তাতেও রাজি হয়ে গেল কারণ ছেলেরা বলেছিলো বৃদ্ধাশ্রমে থাকলে তিনি ভাল থাকবেন। কাদের সাহেবও ভাবলেন এই বুড়া বয়সে ছেলেরা তাকে আর কি সংগ দেবে। তার চাইতে বৃদ্ধাশ্রমে তার বয়সী অনেকের দেখা পাবেন। আরামে দিন কাটবে। মাঝেমধ্যে ছেলেরা তো তাকে দেখতে আসবেই।

বুদ্ধিমান কাদের সাহেব এখনো তার ছেলেদের মুখ দেখার জন্য বৃদ্ধাশমে অপেক্ষা করেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:১৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব ভাষা দিবসের সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:১৫



একুশ মানে মাথা নত না করা।
একুশ মানে ভাষার প্রশ্নে আপোষ না করা।

অমর একুশে আমাদের শেখায়—
আমাদের মাতৃভাষা কারও দয়ার দান নয়।
ভাষা আমাদের অর্জিত অধিকার।

যারা ভাষার জন্য শহীদ হয়েছেন, তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মাতৃভাষা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:০৯


রক্তে কেনা মাতৃভাষা
বিশ্বব্যাপী সম্মান।
দৃপ্ত শপথে অটুট রাখবো
বাংলা ভাষার মান। 

মায়ের ভাষা সবার কাছেই
সবচাইতে প্রিয়।
প্রত্যেক ভাষাভাষীকে তার
প্রাপ্য সম্মানটুকু দিও।

ভাষা নিয়ে বিদ্বেষ বিভেদ
রুখতে ফেব্রুয়ারিতে।
ঢাকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষা আন্দোলনের ইতিকথা, স্বাধীনতার বীজ বপন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০৪


বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিকথা
ইতিহাসের পাতায় লেখা এক দিন
উনিশশো আটচল্লিশের মার্চের সকালে
জেগে উঠেছিল সময়ের রঙিন প্রাণ।

৪৮ এর এগারোই মার্চ, সভার ভেতর
করাচির গণপরিষদের প্রাঙ্গণ জুড়ে
একটি প্রস্তাব ধ্বনিত হলো দৃঢ় কণ্ঠে
নতুন রাষ্ট্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতে ইসলামী ভাষা আন্দোলনের বিপক্ষে ছিল না

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০২


জামায়াতে ইসলামীকে আমি এখন নতুন চোখে দেখি। মানুষ ভুল করতেই পারে, ইতিহাসে ছোটখাটো কিছু ভুল তো সবারই থাকে। যেমন ধরুন, একটা দেশের জন্মের বিরোধিতা করা, সেটাকে ভেঙে দিতে চাওয়া, বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধন্যবাদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



এরকম একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ। ...বাকিটুকু পড়ুন

×