somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নৈশব্দ অথবা স্মৃতির অন্তরালে...

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রবিবার সকালে আমি অন্যান্য দিনের তুলনাই একটু বেশি দুরে মর্নিং ওয়াকে আসি । বছরের এই সময়ের আবহাওয়াটা আমার সবচেয়ে পছন্দের। রাস্তার বামদিকে মোড় নিতেই হঠাৎ চোখে পড়লো ম্যাপ হাতে একটা লোক একবার ডানদিকে তাকাচ্ছে একবার বামদিকে । এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, may I help u? লোকটা ঘুরে তাকাতেই আমি ভীষণ চমকে উঠলাম। এইটাই হয়তো আমার নিয়তি। নিজেকে সামলে নিয়ে ইংরেজীতেই প্রশ্ন করলাম, 'আপনি কি পথ হারিয়েছেন'? সে বললো, এই প্রথমবার সে বোস্টনে এসেছে, হোটেল থেকে বেরিয়ে সে এক পরিচিত ফ্যামিলির বাসায় যেতে চায়। সে যে ঠিকানাটা বল্লো সেটা আমার এপাটমেন্টে যাওয়ার পথেই পড়ে। আমি বল্লাম, জায়গাটা আমি চিনি, আমি দেখিয়ে দিচ্ছি। সে আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বল্লো, আপনি কি Mexican? আমি মাথা নাড়তেই আবার জিজ্ঞাসা করলো, তাহলে নিশ্চয় Indian? আমি বুঝতে পারলাম, ও আমাকে এখনও চিনতে পারেনি। আর পারবেই বা কি করে? এই চৌদ্দো বছরে আমিই বা কি কম চেঞ্জ হয়েছি? চোখে এখন আর চশমা নেই, চুলগুলো ছোট করে কাটা আর পরনেও রয়েছে পশ্চিমা পোশাক। আমি কিছু বলছিনা দেখে ও নিজেই বলে যেতে লাগলো যে সে সাতদিন আগে জাপান থেকে এসেছে নতুন job নিয়ে। আগে Texas Instruments এ কাজ করতো । আমি চুপচাপ হাটঁতে হাটঁতে পুরানো দিনের কথাগুলো ভাবছিলাম। একসময় পাশাপশি বাসায় ভাড়া থাকতাম। আমার থেকে একবছরের বড় ও। লেখাপড়ায় প্রচন্ড ভাল থাকায় ওর নোট নিয়েছি, পড়া বুঝে নিয়েছি। একসাথে ছোটদের নাটকও করেছি পাড়ায় বিজয় দিবসের অনুস্ঠানে। ও ছিল আমার আইডল। সে বড় হলে Engineering পড়তে চাইতো বলে আমিও Engineering পড়েছি, ও travel এর গল্প শোনাতো , ছবি তোলার কথা বলতো বলে আমিও ঘুরে বেড়িয়েছি বহু দেশে, ছবি তোলা এখন আমার প্রিয় কাজগুলোর মধ্যে একটি। সবাইকে ছেড়ে এই যে দেশ থেকে এতদূরে একাকী জীবনযাপন করছি তার মধ্যে আছে না পাওয়ার কষ্ট আর কারও প্রতি তীব্র অভিমানবোধ । বাঙ্গালীরা বিদেশেও অন্যের পারসোনাল বিষয়ে কানাঘুষা করে বলে আমি এখানকার বাঙ্গালীদেরকে পারতোপক্ষে এড়িয়ে চলি। হাটঁতে হাটঁতে ওই ঠিকানায় আসার পর গেটের সামনে থেকে বিদায় নেবার সময় বাঙ্গলাতে বল্লাম, ভালো থেকো, নিলয়। ওর ভীষণ অবাক করা মুখকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেলাম ওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে।
তারপর পেরিয়ে গেল এক সপ্তাহ। কাজের চাপে ওকে নিয়ে বেশী চিন্তার সুযোগ পাইনি, আর হয়তো চিন্তাও করিনি নতুন করে কষ্ট পেতে চাই না বলে । আজ রবিবার বলে আবারও মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছি । মোড়ে দাঁড়িয়ে water bottle থেকে পানি খেতে গিয়ে পেছনে একটা শব্দ শুনলাম। ঘুরে তাকাতেই দেখি নিলয়। ও- ই এগিয়ে এসে বল্লো, আমি ঠিক জানতাম যে এখানে আসলে তোমার দেখা পাবই। তাইতো সকাল ছয়টা থেকেই এখানে দাড়িঁয়ে আছি। সেদিন প্রথমে আমি তোমাকে চিনতেই পারিনি, তুমি বাঙ্গলা না বল্লে হয়তো শেষ পযন্ত চিনতামই না। আমি ওকে উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে শুরু করতেই পেছন থেকে দৌড়ে এসে খপ্ করে ও আমার হাত ধরে ফেলে বল্লো , কোথায় যাচ্ছো ইরা ? ওর হাতের সংস্পশে আমার শরীরে যেন তীব্র এক শীহরণ অনুভূত হলো। আমি অভিমানের সুরে বল্লাম, আমার কাছে এখন তুমি কি চাও ? একসময় তীব্র আবেগ নিয়ে তোমাকে আমার মনের কথা জানিয়ে যে চিঠি লিখেছিলাম, তার উত্তর না দিয়ে তুমিতো আমাকে অবহেলায় দূরে সরিয়ে দিয়েছোই, এখন এতদিন পরে আমার কাছে তোমার কি বলার আছে ? তখন নিলয় অত্যন্ত অবাক চোখে তাকিয়ে মিনতির সুরে বল্লো, বিশ্বাস করো, আমি তোমার কোনো চিঠি পাইনি। জাপান থেকে দেশে ফিরে তোমার খোঁজে তোমাদের বাড়িতে গিয়ে জানতে পারি সপরিবারে তোমরা বাড়ি বিক্রী করে ঢাকায় চলে গিয়েছো, তারপর থেকে পরিচিত কারও কাছ থেকেই তোমাদের কোনো খবর পাইনি। এই সমারভিলের বাঙ্গালীরাও দেখি তোমার সম্র্পকে তেমন কিছু জানেনা, তুমি নাকি তাদের এড়িয়ে চলো। আমার দুই হাত ধরে হঠাৎ হাটুগেড়ে বসে নিলয় ছল্ ছল চোখে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বল্লো, 'চৌদ্দো বছর ধরে তুমি সবার থেকে নিজেকে আড়াল করে রেখেছো, আজকে থেকে আর তোমাকে হারাতে দিবো না, ভাগ্য আমাদেরকে আবার এক রাস্তায় এনে দাড়ঁ করিয়ে দিয়েছে , আর কখনও তোমাকে আমার থেকে দূরে যেতে দিবোনা, কক্ষনওনা'।

চলবে......

পর্ব -২ এর লিংক:
Click This Link

পর্ব -৩ এর লিংক:
Click This Link

পর্ব -৪ এর লিংক:
Click This Link

পর্ব -৫ এর লিংক:
Click This Link

নায়রা
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১০:২৩
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×