বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যায় বন্ধুদের আড্ডা যখন ইলা,নিলাদের বসার ঘর পেরিয়ে শোবার ঘরে ঢোকার তুমুল চেষ্টা করছে--আমার মন তখন অন্য নারীকে নিয়ে ব্যস্ত...
এই নারী চান প্রতিদিন আমি আর যেখানেই থাকি না কেন সন্ধ্যা হলেই যেন তার সাথে দেখা হয়...আমিও তথাস্তু...
পড়ন্ত কৈশরের রসালো আলাপ-প্রলাপের সকল লোভ ফেলে আমি সময়মত আমার মায়ের সামনে হাজির...
কলেজে উঠেই এমন সব স্যারদের কাছে পড়া শুরু করলাম যাদের সন্ধ্যার পরের ব্যাচই শুধু খালি...আহহহহহহ..মুক্তির প্রথম ধাপ...
আড্ডার নেশায় তখন আমি বুঁদ...কখনওবা কারো হৃদয়কে কয়লা বানানোর গল্প আবার কখনো কারো পেছনে আঙ্গুল দেবার সুখ...
সাধের ভর্সিটি লাইফ...ডাবল ডেকারের দরজা, টুয়েন্টি নাইনের প্রথম পাঠ এবং অবিরাম প্রয়োগ, আঠারো টাকার ভোজন, ওনাদের জ্যামিতিক ব্যবচ্ছেদ এবং মুফতে কিছু চোখের সুখ..টিএসসির চা-এ দেশ গেল গেল আদিখ্যেতা, বোহেমিয়ান রাতের ক্যাম্পাস শেষে চানখারপুল অথবা স্টার, কার্জন হলের পুকুর পাড়ে পুরনো সূর্যের নতুন উদয়...............
এইসবকিছুর লোলুপ হাটছানি আর স্বাধীন দেশে নিজে মুক্ত হবার নেশায় আমার হল লাইফ শুরুর আবেদন .... আবেগের দোহাইয়ে কিছুটা দেরি হলেও স্বীয় সাধনায় আমার মুক্তির দ্বিতীয় ধাপ-এখন আর সারা রাত ধরে বাইরে থাকাতেও সমস্যা রইল না....
এই ও ই করে হল লাইফের তিন বছরের কিছু বেশি সময় পার হয়ে গেল....ব্রিটিশদের বানানো লাল ইমারতের ভবনে আমার বিছানাটায় শুয়ে ঐ জান্লার ফাঁক দিয়ে আকাশ আর তারা দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়তে যেই ভালো লাগা---তা আর কোথাও খুঁজে পাই না....
বাসা ঢাকায় হবার পরও বাসায় কম আসা হয়...কি করব !!! হলের ঠিকানাটাই যে আমার এখন বেশি ভাল লাগে....আর তো মাত্র একটাই বছর....বন্ধুগুলো, চানখারপুলের গভীর রাতের পরটা, 29,আকাশ,তারা,বোহেমিয়ান রাত,আমার বিছানাটা---সবাইকে ছেড়ে তো আমি বাসায় ফিরবই প্রতিদিনের জন্য...আর এই অল্প কয়টা দিন আমি থাকিনা ওদের সাথে---বাসায় নাহয় একটু কম-ই থাকলাম---আমার এই চাওয়াটা কি বড় কোনো সমস্যা???
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


