মৃন্ময়ী । মেয়েটিকে চিনি খুব বেশিদিন নয় । কথা হয়েছে ,তবে দেখা খুবই সীমিত । তার চোখ-মুখ দেখলে মনে হয় মায়া উপচে পড়ছে । মেয়েটির মুখে কি যেন আছে যা বারবার টানে । তার প্রথম মেসেজটি ছিল “বেনসনের থেকে গোল্ডলিফ খাওয়া ভাল,কিছু টাকা সাশ্রয় হয়” ।
অপরিচিত একটা মেয়ের কাছ থেকে এমন মেসেজ পেয়ে অবাক হওয়াটাই স্বাভাবিক । তবে আমি অবাক না হয়ে হেসে দিয়েছিলাম । এমন মেসেজের কারন জিজ্ঞেস করলে উত্তর আসে “আপনার একটা কবিতায় লেখা দেখেছি সিগারেটের বাড়তি দাম ,তাই দিলাম ।যদি ভুল করে থাকি মাফ করে দিবেন” । তার ওয়ালে গিয়ে একটু ঘোরাঘুরি করলাম । খুব বেশি ছবি দেয়া নেই তবে যা আছে তাই যথেষ্ট । সুক্ষ্ম একটা ভাল লাগা তৈরি হয়ে যায় ।
এরপর থেকে নিয়মিত বিরতিতে কথা হতে থাকে । কথা বলতে বলতে হঠাত মনে হতে লাগলো মেয়েটির প্রতি কেমন যেন একটা দুর্বলতা কাজ করছে । মৃন্ময়ী দিনের বেশিরভাগ সময়ই মন খারাপ করে থাকে ,কারন জিজ্ঞেস করলে প্রথমে বলতে না চাইলেও পরে বলল ।হয়তো বিশ্বাস করতে শুরু করেছে ।
কথায় কথায় মৃন্ময়ীকে জিজ্ঞেস করলাম “আচ্ছা তুমি কি চাও জীবনে”? মৃন্ময়ী বলেছিল “আমার একজন আত্মার সংজ্ঞী দরকার,যে মানুষটার আর কিছু না থাকুক অন্তত একটি ক্ষমতা থাকুক ।আমি যখন তাকে বলবো আমি ভাল আছি সে তখন আমার চোখে চোখ রেখে বলবে – আমি জানি মৃন্ময়ী তুমি ভাল নেই ।এই বলে বুকে জড়িয়ে নেবে ।ব্যস এইটুকুই আমার চাওয়া” ।
আমি বুঝে গিয়েছিলাম মেয়েটি তীব্রভাবে সুখের সন্ধান করছে । সেদিন সারারাত ঘুমাতে পারিনি । ভেবেছি মেয়েটিকে কিভাবে একটু সুখ দেয়া যায় ।তার চাওয়াটা পুরন করা যায় । সকালে উঠেই একটা মেসেজ দিয়ে রাখলাম মৃন্ময়ীকে “যদি কেউ তোমাকে বলে তোমার এই ছোট ইচ্ছেটা পুরন করার খুব ইচ্ছে তার তখন কি করবে”? মৃন্ময়ী বললো “তখন সত্যিই চাঁদ হাতে পাব” ।
সেদিন সারাদিন বা সারারাতে আর কোন কথা বলিনি মৃন্ময়ীর সাথে । ভেবেছি মৃন্ময়ীর প্রতি আমি যে একটা টান অনুভব করি সেটা কি শুধুই ভাললাগা না ভালবাসা । আমি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে একটা কষ্ট পুষে যাচ্ছি অন্তরে । যদি মেয়েটিকে একটু সুখের সন্ধান দিতে পারি আর নিজেও একটু ভাল থাকতে পারি তো ক্ষতি কি ।
সকালে উঠে মৃন্ময়ীকে মেসেজ দিলাম “তুমি যেমন কষ্টে আছো আমিও তেমন কষ্টে আছি । আমরা কি পারিনা আমাদের কষ্টটাকে কাটাকাটি করে সুখে পরিনত করতে । আসলে আমি কখনো আর কোন সম্পর্কে জড়াতে চাইনি কিন্তু তোমার সাথে কথা বলার পর থেকে কেন যেন মনে হচ্ছে শেষবারের জন্য আবার একটু সুখের সন্ধান করে দেখি । আচ্ছা আমি যদি তোমার ছোট ইচ্ছেটা পুরন করার চেষ্টা করতে চাই তবে কি আমায় সে সুযোগ দিবে তুমি ?পাশে থাকবে আমার ?ভালবাসবে আমায়” ?
দুই শব্দের একটি উত্তর আসলো ঠিক তিন ঘন্টা পরে “মেঘ তুমি পারবে”? বললাম সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো ।
মৃন্ময়ী বললো “পাশে আছি”।
মৃন্ময়ী এখন আমার পাশেই আছে ।ইচ্ছে আছে সারাজীবন একসাথে সুখের সন্ধান করার ।কতটুকু পারবো জানিনা ,তবে এইটুকু বলতে পারি এখন মানসিক ভাবে অনেক ভাল আছি মৃন্ময়ীকে নিয়ে ।
“মৃন্ময়ী অনেক ভালবাসি তোমাকে ,অন্তরের অন্তস্থলে রেখ লক্ষীটি”
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


