somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কর্সিকা ভ্রমণ (2): লিভোরনো থেকে ভুমধ্যসাগরে জাহাজে বাস্তিয়া

১৯ শে জুলাই, ২০০৬ সকাল ১০:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কর্সিকার ফেরী ইটালী ও ফ্রান্সের বিভিন্ন শহর থেকে ছাড়ে। আমাদের জন্যে সুবিধাজনক ছিল ইটালীর লিভোরনো বন্দর থেকে ফেরী নেয়া। মিউনিখ থেকে ফেরীর টিকিট ইন্টারনেটে আগেই করে রেখেছিলাম। সুতরাং বন্দরে পৌছে টিকিট পাবো কি না পাবো, তা নিয়ে কোন ভাবনা রইল না। 25 শে জুন রোববার সকাল ন'টায় ছাড়বে ফেরী, আমাদের দেড় ঘন্টা আগে বন্দরে পৌছুতে হবে।

শনিবার সকাল থেকেই ছোট গাড়ীতে বোঝাই শুরু হলো। সামনে আমাদের নিজেদের বসার জায়গাটুকু ছাড়া আর কিছুই খালি রইল না। লটবহর তো কম নয়! তাবু, কাপড়চোপড়, রান্নাবান্নার তৈজসপত্র সবই সাথে নিতে হলো। রওয়ানা হয়েই সুপারমার্কেট থেকে আরো কিছু যোগ হলো।

সাতশো কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অষ্ট্রিয়ার ব্রেনার পাস পেরিয়ে লিভরনোর কাছাকছি একটা হোটেলে রাত কাটালাম। রাতে হোটেলের লাগোয়া এক পিজা রেষ্টুরেন্টে নৈশভোজনের সাথে বিশ্বকাপ দেখা হলো। পরদিন সকাল ছ'টায় রওয়ানা হলাম লিভোরনোর দিকে। নাস্তা করার সময় হলো না, তাই হাইওয়ের পাশে এক পেট্রোলপাম্পের দোকানেই এক কাপ করে কফিতে নিজেদেরকে তাজা করে নিতে হলো।

বন্দরে পৌছানোর একটু আগে ট্রাফিক জ্যামে পড়ে ঘাবড়ে গেলাম বেশ। দুরু দুর বক্ষে তাই আটটায় পৌছলাম 'মবি লাইনের' অফিসের সামনে। শত শত গাড়ী ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় লাইনে। বিভিন্ন দ্বীপের বিভিন্ন শহরের উদ্দেশ্যে। এর মাঝে নিজেদের লাইন খুজে পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। তারপরও বেশ দ্রুতই ইটালীয়ার অরাজকতায় অভ্যস্ত হয়ে সঠিক লাইন খুজে পেলাম। আমার মতো বাংলাদেশীর জন্যে এ অরাজকতা তো কিছুই নয়। তারপরও আমরা ঘেমে নেয়ে উঠলাম গরমে।

জ্াহাজের খোলসে গাড়িটিকে আপাত: বিসর্জনে ছেড়ে সবচেয়ে উপরের ডেকে উঠে আসলাম। নীচের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কামরা আরামবহুল গদি এই গরমের মাঝেও আমাদের ভেতরে কোন লোভ জাগাতে সক্ষম হলো না। কাঠফাটা রোদের মাঝে জাহাজের রেলিংএর পাশে দুটো ইজিচেয়ারে বসে ঘামতে ঘামতে জাহাজ ছাড়ার অপেক্ষায় রইলাম। মাঝে মাঝে সামুদ্রিক বাতাস বহুপ্রতিক্ষীত প্রেমের ছোঁয়াচ বুলালেও রোদের তাপ তাতে বাগড়া দিল বারবার।

যান্ত্রিক আওয়াজে ইটালীয়ান, ফরাসী, ইংরেজী ও জার্মান ভাষায় আমাদের অভ্যর্থনা জানানোর পরই ঠিক ন'টার সময় ছাড়লো জাহাজ। সামুদ্রিক বাতাস তার প্রেমপরশে উড়িয়ে দিল ঘামের শেষ ফোটাটুকু। আমরা ইজিচেয়ারে পাশাপাশি আরামে গা এলিয়ে দিলাম। আস্তে আস্তে পেছনে মিলিয়ে গেল ইটালীর সমুদ্রতট, আর সামনে তখন ভুমধ্যসাগরের অসীম নীলাভ জলরাশি। জাহাজের ডেকে ডেকে তখন আধা উদোম ভ্রমণার্থীর এদিক সেদিক ইতস্তত: ঘোরাফেরা।

চার ঘন্টার সমুদ্রভ্রমণ আধ ঘন্টার মাঝেই যেন শেষ হয়ে গেল। ছোট্ট একটা কর্সিকার প্রায় লাগোয়া দ্বীপ পেরিয়ে যখন কর্সিকার উপকুলভাগ চোখের সামনে স্পষ্ট হতে শুরু করলো , তখন ঘড়ির কাটায় দুপুর সাড়ে বারোটা। প্রথম দেখা গেল শুধু পাহাড় আর পাহাড়। আমি পাহাড় ভালোবাসি, তারপরেও অজানা পরিবেশের কথা ভেবে গুড়গুড় করে উঠলো বুক। আস্তে আস্তে সেই পাহাড়ের গায়ে স্পষ্ট হলো বাড়ীঘর, রাস্তাঘাট। বাস্তিয়া বন্দর, আমাদের যেখানে পৌছানোর কথা, স্পষ্ট হলো চোখের সামনে। মোটর বোটে করে ফরাসী পাইলট এলো, বন্দরে ধীরে ধীরে থামলো আমাদের জাহাজ।

আমরা সবাই জাহাজের খোলে গাড়ীতে বসে। বিশাল দরজা ঘড় ঘড় শব্দে খোলা হলো। আমরা বেবিয়ে এলাম কর্সিকার মুক্ত বাতাসে। সামুদ্রিক বাতাসে ও সকালের নাস্তার সল্পতার কারনে চো চো করে উঠলো পেটের ভেতর। বন্দরের পাশেই একটা খোলা চত্তরে রেষ্টুরেন্টে খোলা আকাশের নীচে বসে পেট পুজা সারা হলো। এখন ক্যাম্পিংএর ভালো পছন্দসই জায়গা খোজার পালা। আমরা বেশ কিছু ঠিকানা নিয়ে এসেছিলাম। সেগুলো এ শহর থেকে চলি্লশ কিলোমিটার দুরে ছড়ানো ছিটানো। নেভিগেশানকে ঠিকানা জানিয়ে রওয়ানা হয়ে গেলাম সেই অজানার দিকে। পাহাড়ী চড়াই উতরাই পেরিয়েই যে নৈসর্গিক দৃশ্য ভেসে উঠলো চোখের সামনে, তাতেই অভিভুত, পাগল হয়ে উঠলো মন। এত সৌন্দর্য জীবনে একসাথে কখনো দেখেছি বলে মনে পড়লো না।

চলবে.....।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়ের বুকের ওমে শেষ ঘুম

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯



আমার নাম তৃশান। সবে তো স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। আজ আমার খুব আনন্দ! বাবা-মা, দিদি আর দাদু-দিদুন মিলে আমরা মস্ত বড় একটা নৌকায় ঘুরছি। দিদি বলছিল এই জায়গাটার নাম জবলপুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×