অনেকদিন হয় লেখালিখি করি ব্লগে। ভাল লাগা, মন্দ লাগা নিয়ে ব্লগের এই জীবন। মাঝে মাঝে মনে হয় ছেড়ে দিই সব, মাঝে মাঝে ফিরে আসি আপন তাগিদেই। আমাদের ব্লগে আমার জানামতে এটাই প্রথম মৃত্যু, প্রথম চিরবিদায়। কাল ব্লগে ঢুকেই এই আঘাত।
মিথিলার সাথে পরিচয় হয়নি তেমন একটা। ওর লেখায় মাঝে মাঝে মন্তব্য করেছি। কিন্তু একটা জিনিস টের পেয়েছি, ওর লেখায় গভীরতা ছিল। ভাল লেগেছে, তারপরেও বিরত থেকেছি মন্তব্য করা থেকে। বিশেষ করে ও যখন ক'দিন আগের একটি পোষ্টে 'বেঁচে থাকতে চাই এ সুন্দর পৃথিবীতে' পড়ে মন খারাপ হয়েছিল খুব। মন্তব্য করতে চেয়েও থেমে থাকলাম। প্রতমত: ও যে সত্যিই এতোটা অসুস্থ, বুঝে উঠতে পারিনি। দ্বিতীয়ত: বয়েস ও চিন্তাভাবনার ফারাক। যেহেতু জানতাম না ও এতোটা অসুস্থ, তাই এসব লেখাগুলো মনে হয়েছে কোন এক বিভ্রান্তি থেকে লেখা। ওর কাছাকাছির যারা, তারা অনেকে অনেক কিছু লিখেছেন, ওকে স্বান্তনা দিচ্ছেন। আমি বয়েস ও চিন্তার প্রেক্ষিতে নিজেকে অনেকটা দুরের ভেবে সেখানে কিছু বলে বিভ্রান্তি আর বাড়াতে চাইনি। তাছাড়া শুধুমাত্র বলার জন্যে কিছুই বলা আমার ভাল লগেনা।
কেন যে কিছু বললাম না, ওর মৃত্যুর খবরটি পড়ার পর সে যন্ত্রনা সারাক্ষন বিদ্ধ করেছে আমাকে। গতরাত একেবারেই ঘুমোতে পারিনি। আমাদের পরিবারটি বেশ বড়। ভাইবোন ও ভাগ্নে, ভাগ্নি, ভাস্তে, ভাস্তি নিয়ে বিরাট এক পরিবার। নিজে অনেকদিন দেশের বাইরে থেকেও প্রত্যেকের সাথে আমার যোগাযোগ অনেক কাছাকাছির। ওদের অনেকের জন্মই হয়েছে আমি দেশ ছাড়ার পর। তারপরও কারো সাথে মনের দিক থেকে সামান্যতম দূরত্বও তৈরী হয়নি বিদেশে থাকার কারণে। ওদের সমস্যা, ভেতরের আত্মিক সংঘাত নিয়ে আমার সাথেই আলাপ ওদের। নিজেও ওদেরকে বুঝতে পারি বেশ, ওরাও আমাকে বলে হালকা হতে পারে। ওরা সবসময়ই আমাকে ওদের পাশাপাশি পায়।
মিথিলার লেখাটি পড়ার পর ওদের কথাই মনে হয়েছিল। ইচ্ছে হয়েছিল ওদের মতোই মিথিলাকে কাছে টেনে ওর কথা শুনি। ওকে ভরসা দিই, পরামর্শ দিই। কিন্তু তা করিনি। কেন করিনি, কারণ আগেই বলেছি। তাই গত সারারাত একথা ভেবেই ঘুমোতে পারিনি। জানি, এতে মিথিলার জীবন,মৃত্যকে কেনভাবেই প্রভাবিত করতে পারতো না। তারপরও এক আত্মগ্লানিতে বিদ্ধ হয়েছি সারারাত। আমি ওর বিদেহী আত্মার অপার শান্তি কামনা করি। ওর বাবা-মা আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধুবাণ্ধব সবার প্রতি আমার আন্তরিক ও অকৃত্রিম সমবেদনা রইল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







