এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম
জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান।
এই ছিল শেখ মুজিবের 7ই মার্চের ভাষনের শেষাংশ। আমি ছোট ছিলাম তখন। কিন্তু তবপরও তা বোঝবার মতো বয়স ছিল আমার। অনেক শুনেছি এ ভাষন, বাবা মায়ের সাথে গ্রামে গ্রামে পালিয়ে বেড়ানোর সমযেও। মনে পড়ে এখনও এম. আর. আখতার মুকুলের চরমপত্র। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যখন পাকিস্তানের বাজেট ঘোষনা করা হয়, তখন বলেছিলেন- "পাকিস্তান একটা দেশ, তার আবার বাজেট, ল্যাংগোটের বুকপকেট!" পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতার শেখমুজিবের বক্তৃতার শেষ দু'টো শব্দ যখন মুছে দেয়া হয়, অবাক হয়েছিলাম। বয়েস অল্প হলেও রাজনীতির মিথ্যাচার তখনো অপরিচিত ছিল না। অবাক হলেও মেনে নিয়েছিলাম।
কিন্তু শব্দদু'টো থাকলেও শেখ মুজিব তখনো মানুষ জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু হিসেবেই মানতো। কারন এই দু'টো লাইনও ছিল তার ভাষনে। এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তাঁর 6 দফা আন্দোলন, ভোটে নিরঙ্কুশ জয়- এ সবই স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করেছিল। আপামর জনতা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। এ মিথ্যের কোন প্রয়োজন ছিলনা। মওলানা ভাসানী দানী করেছিলেন স্বাধীন পূর্ব পাকিন্তানের। তারপরেও মক্তিযুদ্ধের প্রেরণার সর্বাগ্রে ছিলেন দু'জন মানুষ, পাকিস্তানে জেলবন্দী শেখ মুজিব ও অস্ত্র হাতে সেসময়ের মেজর জিয়া। এসব কোন ইতিহাস ঘাটা তথ্য নয়, নিজেরই স্মৃতিকথা।
কিন্তু আর কতদিন এ মিথ্যাচার ? শ্রেয়সী বসু শব্দ দুটোকে পুরোপুরিই মুছে দিতে চান, আর ভুত তাকে বিকৃত করে "জিয় বাংলা" বানিয়েছেন। বসু আর ভুত তো উদাহরণ মাত্র, দু'দলই এ নিয়ে মিথ্যার ডালি খুলে বসেছে। বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলই কোন শিতি, চিন্তাশীল মাসুষের সমর্থনের দাবী রাখে না। আমিও কোন দলকেই সমর্থন করি না। জামাতকে ঘৃণা করি। তারপরও কেউ এখন আমাকে জামাতী সাজাবেন, কেউবা আওয়ামী লীগ, আর যারা বেশী বুদ্ধিমান তারা বি এন পি। আমি কোনটাই নই, শুধু সত্যকে বুক পেতে দিই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




