ড্রাকুলা যাকে আমরা রক্তপায়ী ভাম্পায়ার হিসেবে জানি, ছিলেন এখনকার রুমানিয়ার ট্রান্সিলভানিয়া প্রদেশের একজন অত্যাচারী জমিদার। 1431 সনে জমিদার ভ্লাদ ড্রাকুল (2) এর জেষ্ঠ পুত্র হিসেবে পৃথিবীর আলো দেখেন তিনি। বাবার নামের সাথে নাম মিলিয়েই নাম রাখা হয় তার। বাবার মৃত্যুর পর ভ্লাদ ড্রাকুল (3) হিসেবে জমিদারীর দ্বায়িত্ব নেন।
ড্রাকুলা রক্তপায়ী ছিলেন না, একজন নিশৃংস রক্তলোলুপ জমিদার হিসেবে কুক্ষ্যাতি লাভ করেন দ্রুত। তখনকার জমিদারদের ও রাজাদের অর্থ ও যশে সফল হবার এটাই ছিল সবচে' পছন্দনীয় পথ। ড্রাকুল এই পথটি থুব ভালোভাবেই অনুসরণ করেন।
তখন ট্রান্সিলভানিয়া ও তার পাশাপাশি এখনকার রূমানিয়ার অনেকগুলো প্রদেশই ছিল প্রতিবেশী দেশ তুরস্কের দখলে। প্রদেশের জমিদাররা তুর্কী প্রশাসকদের ট্যাক্স দিতে বাধ্য ছিলেন। ড্রাকুল জমিদারী নেবার পর সর্বপ্রথম আভ্যন্তরীন সমস্যা সমাধান করে শক্তিশালী হন। তারপর ট্যাক্স দিতে অস্বীকার করেন। তুর্কী প্রশাসক ট্যাক্সের দাবী জানিয়ে দশ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাঠান ড্রাকুল (3) এর কাছে। সন্মান জানানোর প্রতীক হিসেবে জমিদারের সামনে পাগড়ী খোলার আদেশ দেয়া হয় প্রতিনিধিদের। তারা তা অস্বীকার করেন। ড্রাকুল নয়জনের মাথায় বড় বড় পেরেক ঢুকিয়ে পাগড়ীগুলো ভালো করে আটকে দেন। বাকী একজনকে নয়টি লাশসহ তুর্কী শাসনকর্তার কাছে ফেরত পাঠান। তখন তার নামকরণ করা হয় ড্রাকুলা। ড্রাকুলা শব্দের অর্থ রুমানিয়ান ভাষায় ড্রাগন ও ভাবার্থে শয়তান।
পরে তুর্কী শাসনকর্তাকেও তিনি যুদ্ধে পরাজিত করেন ও ুনিশৃংসভাবে হত্যা করেন সৈন্যদের। কিন্তু পরে তারই ভাই রাদু ড্রাকুল তুর্কীদের সাথে অাঁতাত করে বিশ্বাসঘাতকতা করেন তার সাথে। 1476 সনে পরবর্তী যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হন ড্রাকুলা। তার মাথা ও বাকী শরীরের অংশ দু'টো আলাদা জায়গায় কবর দেয়া হয়।
যে বাড়ীতে ড্রাকুলার জন্ম হয়েছিল, তা এখন মধ্যযুগীয অস্ত্রের মিউজিয়াম ও ড্রাকুলা হোটেল হিসেবে ট্যুরিস্টদের কাছে আকর্ষনীয়। অনেক ছোট ছোট গ্রাম ও পাহাড় তার নাম ও কুক্ষ্যাতির সাথে নাম মিলিয়ে নামকরণ করা হয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে ভিত্তিহীন। তারপরেও সেগুলো ট্যুরিস্টদের কাছে আকর্ষনীয় ও রুমানিয়ান সরকারের বৈদেশিক আয়ের উতস। কাহিনী জানা থাকলেও ট্যুরিস্টরা জায়গাগুলোর আবহের প্রভাবেও ভয়ে শিহরিত হন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



