somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ড্রাকুলা: ভয় না পেলে পড়তে পারেন........।

০৮ ই মার্চ, ২০০৬ সকাল ৭:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ড্রাকুলা শব্দটি শুনলেই ভয়ে হিম হয়ে আসে আমাদের শরীর। তাকে নিয়ে কোন বই পড়ে হারাম হয়ে যায় রাতের ঘুম। কিন্তু কে এই ড্রাকুলা। সত্যিই কি তার কোন অস্তিত্ব ছিল ?

ড্রাকুলা যাকে আমরা রক্তপায়ী ভাম্পায়ার হিসেবে জানি, ছিলেন এখনকার রুমানিয়ার ট্রান্সিলভানিয়া প্রদেশের একজন অত্যাচারী জমিদার। 1431 সনে জমিদার ভ্লাদ ড্রাকুল (2) এর জেষ্ঠ পুত্র হিসেবে পৃথিবীর আলো দেখেন তিনি। বাবার নামের সাথে নাম মিলিয়েই নাম রাখা হয় তার। বাবার মৃত্যুর পর ভ্লাদ ড্রাকুল (3) হিসেবে জমিদারীর দ্বায়িত্ব নেন।

ড্রাকুলা রক্তপায়ী ছিলেন না, একজন নিশৃংস রক্তলোলুপ জমিদার হিসেবে কুক্ষ্যাতি লাভ করেন দ্রুত। তখনকার জমিদারদের ও রাজাদের অর্থ ও যশে সফল হবার এটাই ছিল সবচে' পছন্দনীয় পথ। ড্রাকুল এই পথটি থুব ভালোভাবেই অনুসরণ করেন।

তখন ট্রান্সিলভানিয়া ও তার পাশাপাশি এখনকার রূমানিয়ার অনেকগুলো প্রদেশই ছিল প্রতিবেশী দেশ তুরস্কের দখলে। প্রদেশের জমিদাররা তুর্কী প্রশাসকদের ট্যাক্স দিতে বাধ্য ছিলেন। ড্রাকুল জমিদারী নেবার পর সর্বপ্রথম আভ্যন্তরীন সমস্যা সমাধান করে শক্তিশালী হন। তারপর ট্যাক্স দিতে অস্বীকার করেন। তুর্কী প্রশাসক ট্যাক্সের দাবী জানিয়ে দশ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাঠান ড্রাকুল (3) এর কাছে। সন্মান জানানোর প্রতীক হিসেবে জমিদারের সামনে পাগড়ী খোলার আদেশ দেয়া হয় প্রতিনিধিদের। তারা তা অস্বীকার করেন। ড্রাকুল নয়জনের মাথায় বড় বড় পেরেক ঢুকিয়ে পাগড়ীগুলো ভালো করে আটকে দেন। বাকী একজনকে নয়টি লাশসহ তুর্কী শাসনকর্তার কাছে ফেরত পাঠান। তখন তার নামকরণ করা হয় ড্রাকুলা। ড্রাকুলা শব্দের অর্থ রুমানিয়ান ভাষায় ড্রাগন ও ভাবার্থে শয়তান।

পরে তুর্কী শাসনকর্তাকেও তিনি যুদ্ধে পরাজিত করেন ও ুনিশৃংসভাবে হত্যা করেন সৈন্যদের। কিন্তু পরে তারই ভাই রাদু ড্রাকুল তুর্কীদের সাথে অাঁতাত করে বিশ্বাসঘাতকতা করেন তার সাথে। 1476 সনে পরবর্তী যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হন ড্রাকুলা। তার মাথা ও বাকী শরীরের অংশ দু'টো আলাদা জায়গায় কবর দেয়া হয়।

যে বাড়ীতে ড্রাকুলার জন্ম হয়েছিল, তা এখন মধ্যযুগীয অস্ত্রের মিউজিয়াম ও ড্রাকুলা হোটেল হিসেবে ট্যুরিস্টদের কাছে আকর্ষনীয়। অনেক ছোট ছোট গ্রাম ও পাহাড় তার নাম ও কুক্ষ্যাতির সাথে নাম মিলিয়ে নামকরণ করা হয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে ভিত্তিহীন। তারপরেও সেগুলো ট্যুরিস্টদের কাছে আকর্ষনীয় ও রুমানিয়ান সরকারের বৈদেশিক আয়ের উতস। কাহিনী জানা থাকলেও ট্যুরিস্টরা জায়গাগুলোর আবহের প্রভাবেও ভয়ে শিহরিত হন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×