নারীদেরকে নিয়ে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা সবসময় ভালো ছিল না। বোঝাবুঝির ক্ষেত্র ফারাক এত বেশী ছিল যে, একসময় ভেবেছি- নারী ও পুরুষ মিলিয়েই মানুষ কথাটিই ভুল। মনে হয়েছে, নারীমানুষ ও পুরুষমানুষ দু'টো আলাদা আলাদা প্রাণী। নিজস্ব হতাশ থেকে তৈরী বত্ত্ববদ্ধতাপ্রসুত একটা ধারণা। সে বৃত্ত থেকে বেরিয়েছি অনেক আগেই। তবে তার সত্যতাকে এতটা প্রকটভাবে না হলেও পুরো অস্বীকার করতে পারি না। শারিরীক ও মানসিক গঠন, হরমোনাল প্রভাবে নারীদের একটা অপরিচিত জগৎ, যেখানে কোন প্রবেশাধিকার নেই পুরুষের। এর কোন পাসওয়ার্ড জানা নেই আমাদের। জানা থাকুক বা নাই থাকুক, তারপরও নারীদের যে সন্মান পাওযার কথা, আমাদের তা দিতে কোনরকম কার্পন্য থাকা উচিৎ নয়। আর সেখানেই শুরু হয় আমাদের অপরাগতা।
অপরাগতার কথা বলতে গেলে সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে হয়। আমার ধারণা, আমাদের উপমহাদেশের প্রোপটে নারীদের যথোপযুক্ত সন্মান দেয়া হয়না। ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি (হিন্দু বা মুসলিম) প্রগাঢ় বিশ্বাস থাকা সত্বেও নারীদের প্রতি অবহেলা ও হিংস্রতার কোন কমতি ঘটে না আমাদের এই সমাজে। আমাদের চরিত্রের এই দ্বিমুখী দিক সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে নগ্নভাবে প্রকাশিত। নারীদের চলাফেরার নিরাপত্তা নেই। তাদেরকে একাকী পেলে যখন তখন যে কোন রকম নোংরা মন্তব্য করা হয়। অনেকসময় শারিরীকভাবেও অপদস্থ করা হয়। এসিড ছোড়া হয় তাদের প্রতি। আজ অবধি কোন নারী কোন পুরুষের প্রতি এসিড ছুড়েছে ? আমার জানামতে না। আমি দুবৃত্তদের কথা বলছি না। সমাজের সাধারণ মানুষ, যারা পোষাক-আসাকে, চলাফেরায় ও পেশায় সমাজের আর দশটি মানুষের মতো, তারাও সুযোগ পেলে তাদের হিংস্র রূপটি প্রকাশ করতে দ্বিধা বোধ করে না। সবচে' বড় উদাহরণ, ভার্সিটি এলাকায় কোন এক ইংরেজী নববর্ষের রাতে ছাত্রদের হতে এক মহিলার অপদস্থ হওয়ার ঘটনা। এমন একটি লজ্জাজনক ঘটনার পর মেয়েটিকেই অনেকে দোষী করেছে। এমনকি মেয়েরাও ওই মহিলাকেই দোষ দিয়েছেন। আমার কথা, একজন মহিলা যে কোন সময়ে, যে কোন পোষাকে,যে কোন স্বাভাবিক জায়গায় যাবার পুরো অধিকার রাখেন। যেখানে সময়, পোষাক বা স্থানের নির্বাচনে ভুল সেখানে কার্যকরী হবে আইনি অনুশাসন । তা না হলে সে মহিলার প্রত্যক্ষ অনুমতি ছাড়া কোন পুরুষের অধিকার নেই তাকে বিরক্ত করা। যে সব ক্ষেত্রে অনুমতি থাকে, সেগুলো আমার এই আলোচনার বিষয়বস্তুর ভেতরে পড়ে না।
এতটুকু লিখার পর এখন আমার মনে হচ্ছে, আমাদের এই ঘুনধরা সমাজের ছায়াতলে বসে আমাদের কোন অধিকারই নেই নারীদের নিয়ে লেখা। যে সমাজে পুরুষের পশুত্বকে আয়ত্বে রাখার জন্যে বোরখায় ঢেকে রাখতে হয় নারীদের, সে সমাজের পুরুষের হাতে এ অধীকার বর্তায় না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



