- গায়ের চামড়ার রং পরিবর্তন
- নানা ধরণের কঠিন চর্মরোগ
- চামড়া ও পেটের ক্যান্সার
বাংলাদেশের হাজার হাজার লোক এই রোগগুলোতে আক্রান্ত। বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের মতে প্রায় 2 কোটি লোক কমবেশী আর্সেনিক দুষনে অসুস্থ। যদি এই অবস্থাকে দ্রুত আয়ত্বে না আনা হয়, তাহলে খুব তাড়াতাড়িই মৃত্যুহারের হিসেবে আর্সেনিকই অকালমৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশের শতকরা নব্বুইভাগ মানুষ গভীর নলকুপ থেকে তাদের পানীয় জল সংগ্রহ করে থাকেন। আগে সে জল সংগ্রহ করা হতো খোলা জলাশয়- পুকুর বা নদী থেকে। এতে কলেরা ও নানারকম সংক্রামক রোগের প্রসার ঘটায় গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার উদ্দ্যোগে টিউবওয়েল পাতা হয়। প্রায় তিন মিলিয়ন টিউবওয়েল রয়েছে বাংলাদেশে। এতে কলেরা ও পেটের রোগ কমলেও আর্সেনিকজনিত রোগের সংখ্যা বেড়ে যেতে থাকে। আর্সেনিকের প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা যায় উত্তরপুর্ব এলাকাগুলোতে। বিভিন্ন সংস্থার চাপে প্রথম সরকারীভাবে 1998 সালে রাজধানীতে এক সাস্থ্য সংস্থার কনফারেন্সে এই সমস্যার কথা স্বীকার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয়ের পাথরের স্তরে স্তরে যে খনিজ পদার্থ রয়েছে, তা থেকেই আর্সেনিক বৃষ্টি ও নদীর জলে মিশে বাংলাদেশের মাটির স্তরে প্রবেশ করেছে। টিউবওয়েলের মাধ্যমে তোলা জলেই তার পরিমান সবচে' বেশী। কোন কোন মতে বাংলাদেশ ও ভারতে কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার আর্সেনিক বিস্তারের আরেকটি প্রধান কারণ।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার ডেভিড নুনলে ও প্রফেসর ফাকুরী ইসলাম একটি ফিল্টার তৈরী করেছেন, যার ব্যবহারে আর্সেনিকের পরিমান টিউবওয়েলের জলে কমানো সম্ভব। তিন ডলার মুল্যের একটা ফিল্টার চারজনের একটা পরিবারকে বেশ ক'দিন আর্সেনিকমুক্ত রাখতে পারে।
আমি নিজে আর্সেনিক বিশেষজ্ঞ নই। কিন্তু সমস্যাটি নিয়ে ভেবেছি অনেক। লেখাটি তাই সবার সামনে বিস্তারিত আলোচনার দরজা খোলার একটা প্রয়াস মাত্র।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



