কিন্তু না, আমরা বেশীরভাগই সমালোচনার এ দিকগুলো ভেবে দেখতে চাইনা। তার কারন, আমরা উপর থেকে সবকিছু দেখতে বেশী পছন্দ করি। কতটুকু উপরে আমাদের অবস্থান, তা নিয়ে ভাবার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। একটিবার নীচের দিকে তাকানোর সুযোগ পেলেই হলো। মূহুর্তেই আমাদের হিংস্রতা আমাদেরকেই গ্রাস করে। আমাদের বিনয়, যা নিজেদের অলংকার হিসেবেই জেনে এসেছি এতদিন, ভুলে যাই একেবারেই।
উদাহরণ। আমাদের এক অতি নিরীহ, সতীর্থ ব্লগার বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ঘুষ নেওয়ার অপরাধে অভিয়ুক্ত করেছেন। বলাই বাহুল্য, নিতান্তই ভিত্তিহীন এক অপবাদ। কিন্তু ব্লগার ভাই বেচারারইবা কি দোষ। পরপর তিনবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ান আমরা। সেখানে এই বিষয়ে এমনটি ভাবা পুরোপুরিই ভুল হলেও,তার সরল মাথায় এমন ভাবনা আসা একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ব্যাস! আর যায় কোথায? কোথায় পালাবেন এই বেচারা ব্লগার? তাকে শিকারী ঈগলের ঘায়ে ঠুকরে, অাঁচরে ক্ষতবিক্ষত করা হলো। কেউ বল্লেন, এই দোষে তাকে পেটানোও যেতে পারে। কেউ কেউ তার মস্তিষ্কের সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। আরেকজন, যিনি নিজের ভাষ্যেই "পরহিতকর" নি:স্বার্থ ঈশ্বরের ভঙ্গীতে ব্লগার ভদ্রলোককে ভাষাজ্ঞান দিয়ে বাধিত করলেন। কেউ কেউ আত্মতৃপ্তিতে কিলোমিটার লম্বা ঢেকুর তুললেন।
বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়েও একই চিত্র দেখা যায় বারবার। পক্ষে বা বিপক্ষে যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত আক্রমণে ছিন্নভিন্ন না করা অবধি কোন স্বস্তি নেই আমাদের। সেখানে বিনয়, নম্রতা, ভদ্রতা পুরোপুরিই পাঠ্যপুস্তকবহির্ভুত।
এসব ঘটনা থেকে একটিই চিত্রকল্প আমার চোখের সামনে দেখতে পাই। স্তর বিচারে আসলে ভয়ঙ্কর, ভয়ঙ্কর- নীচের সারিতে বাস আমাদের। আর তাই সামান্য উপরে ওঠার সুযোগ পেলেই এতটা হিংস্র হই। সেখানে উপরের সারিকে তেলিয়ে পিছলে করি, আর দাঁতখিচুনি দিই নিচের দিকে তাকিয়ে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


