মৃত ভাষার উপখ্যান
বাইরে থেকে একটা হিংস্র দানব বলছে লিখতে হবে।
লিখতে হবে। লিখতে হবে। লিখতে হবে।
ভিতর থেকে কেউ কিছু বলছে না।
তোমাকে সাতদিন আগে বলেছি ভালোবাসি।
এখন আর কথা বলতেও ইচ্ছা করছেনা!
কাছেই কোথাও একটা কিছু ছিলো। মনে হচ্ছে কিছু
ছিলো। এখন আর খুঁজে পাচ্ছিনা। কী ছিলো সেটাও মনে
পড়ছেনা। আর এই অস্থিরতাই যেন জলের মত আছড়ে
পড়ছে। রক্তপাতহীন কোন অভ্যুত্থান
আমার মস্তিষ্কের ভেতর ,
চলছে। চলছে।
জ্ঞানী লোকটাই বোকার মত কথা বলছে।
সহজ কয়েকটা বাক্য ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে বলে যাচ্ছে। এই
কথা দু’শ বছর আগে, তিনশ বছর আগে
দাঊদ হোসেনও বলে গেছে।
তারপরও মানুষ অধীর হয়ে থাকে। ব্যবসাদার হয়ে
গেছে তাই ফকির সমাজ। প্রচলিত গান কিছু বিক্রী
করছে আবার। ভদ্রতার নাম দিয়ে সত্যগুলোর গাঁয়ে
জমে যাচ্ছে রেশমী চাদর!!
আমি ওসব পারি না। ইদানীং প্রত্যেকে
কিছু না কিছু হয়ে গেছে। হতেই পারে!
আমার কারো সাথে কোন শত্রুতা নেই।
শুধু যা মনে হয়, সেসবই বলেছি। যেসব
শব্দ আমার ভিতরে এসেছে উল্কার মত বেগে,
তাদেরই লিখেছি আমি !!
একশ লোকের ব্যক্তিগত ঘৃণা নিয়ে বেঁচে আছি।
বিষণ্ণ লাগছে! মানুষ হলে লাগেই কখনো
কখনো। কিন্তু আমি ওরকম নই। ক্যামেরুনের
জঙ্গলের মত আমার মন। শান্ত এবং উদ্ধত !
ক্যামেরুনের জঙ্গল ওরকমই নাকী?
বলতে হয় তাই বললাম।
যা ইচ্ছে তাই তো করছি আমি।
তবু মন ভরছে না।
কিছু যুবক চার হাজার বছরের
ইতিহাস খুঁজেও শান্তি পাচ্ছে না।
আরও একটা কিছু! কোথায় যেন পড়ে ছিলো!
অযত্নে-অবহেলায় বহুদিন। এখন খুঁজতে গিয়ে আর
পাচ্ছে না। কি ছিলো সেটাও মনে
পড়ছে না!
সেই কথা লিখতে হবে। কোন নতুন নারীর
মন এনে দিতে হবে অক্ষরে। কোনদিন
জন্মায়নি যে নারী!
অথচ আমি আর ভাবতে পারছিনা। মানুষ কী
নিয়ে বাঁচে? চাওয়াগুলো পেয়ে যাওয়ার পরেই
তো একটা ভূতের মত শূন্যতা গ্রাস করে। ঊটের
ঘাঁড়ের মত! কড়ে পড়ে যাওয়া কর্কশ হাতে
চেপে ধরে মুখ- এই যন্ত্রণা নিতে পারছি না।
পৃথিবীর গোল পেট কবরের মত।
প্রত্যেকে নিজের কবর কাঁধে করে বেঁচে আছে।
আমি আর বইতে পারছি না !
বাইরে থেকে জান্তব সভ্যতা বলছে লিখতে হবে।
লিখতে হবে। লিখতে হবে।
ভিতর থেকে কেউ কিছু বলছে না !
শুধু গুমরে কাঁদছে।
এ-ই হয় !
পৃথিবীর সব ভাষা মরে গেলে এই হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


