প্রাচীন একটি ব্যাধি
স্থূলকায় হয়ে গেছি সম্প্রতি।
দোহারা শরীরে, অক্ষিগোলকে কিংবা গলার পেশীতে- কোথাও
অনাবশ্যক বাহুল্য জমেনি- তবু আমি জানি- লোকেও বলে,
স্থূলকায় হয়ে গেছি সম্প্রতি।
মস্তিষ্কের কোষগুলো আরাম করে দীর্ঘক্ষণ স্বপ্ন দেখে- আর
আমি সেই অজুহাতে সারাদিন শুয়ে থাকি। ঘড়ির কাঁটা দশটা
ছেঁড়ে এগারোটা ছুঁয়ে যায়; আমার চোখের পাতায়,
তবু উঠে দাড়াবার মত শক্তি জমে না। আমি জানি- আমার
কত ব্যস্ত সূচী পড়ে আছে সচেতন আত্মার শেলফে- ড্রয়ারে।
তবু যেদিকে আমার যাওয়ার কথা। যাই না। উল্ট দিকে হাঁটা
ধরি। কিছুক্ষণ মন খচখচ করে। এরপর ঠিক হয়ে যায়।
আমি ঠিক হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি !!
তারপর অলস সময়!
এত অলস যে আমি ঘুমিয়ে পড়ি।
পুনরায় উত্থানের চেষ্টা করি বারবার- পারি না।
মেরুদণ্ডের নীচের দিকের দুটো হাঁড় প্রতিবাদ করে,
লিবিয়ার জনগণ থেকেও বিপুল বিক্রমে!
আমি তাহাদের সাথে, যুদ্ধ করে-করে
করে-করে হেরে যাই।
আমার পাশের বাড়ির মেয়েটি তখন বলেছে,
আমি নাকী স্থূলকায় হয়ে গেছি।
আয়নায় এসে দেখি কিচ্ছু হয় নাই।
আগের মতই আছি- হালকা গড়ন!
তবু আমি জানি- মেয়েটাও বলে
স্থূলকায় হয়ে গেছি সম্প্রতি।
ফেলে দিতে হবে। একটা জরূরী জিনিস ফেলে দিতে
হবে। চার হাজার বছর ধরে কোনদিন কেউ
ফেলেনি কিন্তু আমার, ফেলে দিতে হবে।
উপযুক্ত একটা জায়গা পাচ্ছি না শুধু।
কৃপণ রাজধানীতে কেউ ব্যাচেলর বাড়ী ভাঁড়া
দিতে চায় না; যুবক মানুষ দেখলে দারোয়ানই আগে
জিজ্ঞাসা করে। তারপর দরাজ গোফের কোণেতে
একটা কৌতুক অথবা দম্ভের হাসি ঝুলে দিয়ে সাদা
রঙের টুলটাতে পুনরায় বসে পড়ে। আমাকে ফিরিয়ে
দিয়ে তার এত খুশী কেন বুঝতে পারি না!
অবশ্য গলিতে-গলিতে ঘুরে ঘুরে,
নূরজাহান রোডে পরদিন একটা পাওয়া গেছে।
বাড়ীওয়ালা অমায়িক। ছ’তলা বাড়ীর ছাদে টিনে
ছাওয়া দুই রুম; সাথে লাগোয়া একটি বাথরুম ও
কিচেনের জন্য পনেরো হাজার টাকা চায়।
এই শহরে সবকিছুর দামই কেমন বেশী!
তবু মাসে মাসে পনেরো হাজার টাকা গুনে
ওইখানে মন, ফেলে দিয়ে আসা যায়!
পৃথিবীর চেয়েও ব্যাপক একটা ওজন, নেমে গেলে
অনেক হালকা হয়ে যাবো। আরো সহজে হেঁটে
যেতে পারবো এই পুরানো পথের ধারে। বাতাসেও
ঊড়ে যেতে পারি। যানজটের নগরে ঝামেলাহীন হয়ে
যাবে তখন চলাফেরা! একটা ভীষণ জরূরী জিনিস
শুধু ফেলে দিতে হবে।
পনেরো বছরের দাগ লেগে গেছে।
কারো কারো প্রতি রাগ জমে গেছে।
অনুরাগ এবং হতাশায় ভাগ হয়ে গেছে।
এক্ষুনি, ফেলে দিতে হবে!
সাপের জিহবার মত এই ঢাকার
দুদিকে চলে গেছে দুদল মানুষ।
মাঝখানে একটা অদ্ভুত গহ্বর!
সেখানে আমার বাস।
সেখানে, বিশাল ওজন এক মন নিয়ে,
থাকা যায় না!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


