somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এইচ এন নার্গিস
জ্ঞান মনের জানালা খুলে দায় এবং সেই খোলা জানালা দিয়ে না জানা বিষয় গুলো দেখি যা বাংলাদেশের সীমা ছাড়িয়ে সারা পৃথিবী দেখতে সাহায্য করে ।

বাসনা কামনা আর দেবদাসী প্রথা ,প্রাচীন বাংলা

০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাসনা কামনা আর "দেবদাসী প্রথা" 

যদিও প্রাচীন কালে বঙ্গে  ছিল গ্রাম ভিত্তিক সমাজ ব্যাবস্থা । ক্রমাগত ভাবে   কালের প্রবাহে 'বাড়তি ফসল ভিত্তিক'   ব্যাবসা গড়ে উঠতে থাকে  । 

বিভিন্ন নদী বন্দর দিয়ে  তা ক্রমাগত ভাবে নানা স্থানে যাওয়া আসা আরম্ভ হয় । গড়ে উঠে  "বন্দর কেন্দ্রিক" শহর । সেই শহরে বৃদ্ধি পেতে থাকে নানান পেশার মানুষের আনাগোনা আর লোক  সমাগম । 

জীবন ধারা কিছুটা ভিন্ন হতে থাকে । মানুষের সমাগমে চারদিক মুখরিত ছিল ।

এই সব স্থানে মানুষের মনো বাসনা চরিতার্থ করতে এক শ্রেণীর মানুষ কাজ করতো । 

এই সময় দেবদাসীর উত্থান হয়। 


"দেবতার মন্দিরে অঙ্গন তলে, দেবদাসী গো আমি পূজারিণী" 

দেবদাসীরা  মন্দিরে মন্দিরে পূজা অর্চনা করতেন  এবং তারা ছিল নৃত্য গীতে  পটীয়সী । মন্দিরে তারা নৃত্যের মাধ্যমে পূজা করতেন। 

কিন্তু এরা সমাজের বিত্তবান এবং প্রভাবশালী মানুষদের কামনা বাসনা পুরনের সঙ্গিনীও হতেন । 

"রজত রঙ্গিণী" এবং রাম চরিত কাব্যে এদেরকে "দেব-বারবনিতা" আর "পবন দূতে" "বার- রামা"  বলা হয়েছে। 

প্রতিভা বসুর  লেখা ঐতিহাসিক উপন্যাস "কলহনের কমলা কাহিনী" তে আমরা দেখতে পাই "প্রাচীন বাংলার দেবদাসী প্রথার" একটি করুন অধ্যায়  । 

ইতিহাসবিদ "কলহন" তার লেখা "রজত রঙ্গনী" লেখায় দেখিয়েছেন "দেবদাসীদের ইতিহাস" । 

দেখে আসি  সমাজের "দেবদাসীদের জীবন ইতিহাস" । কারন তারাও ইতিহাসের অংশ । 

কমলা কে ছিল? 

কমলা ছিল নিন্মবর্নের এক মেয়ে। খুব ছোটো বেলায় "মন্দিরে সেবার" জন্য দিয়ে দেওয়া হয়। মন্দিরের নিয়ম অনুযায়ী "দেবদাসী দেবতার বউ"। "তার বিয়ে হবে না। সে সারা জীবন মন্দিরেই থাকবে।" 

প্রাচীন বাংলায় দেবদাসী প্রথা কেমন ছিল ? 

কি ভাবে শুরু ? 

গরীব বাবা - মা পেটের দায়ে বা  'পুণ্য হবে' ভেবে ৫/৭ বছরের মেয়ে কে মন্দিরে দান করে দিত । একে বলা হতো 'বিয়ে' - কিন্তু বর ছিল মুর্তি । আর অনুষ্ঠানের নাম "মন্দিরে সমপর্ণ । 

কাজ কি ছিল? 

১) সেবাঃ সকাল সন্ধ্যা দেবতার পূজা ,গান, নাচ করা। 

২) সন্মানঃ এক সময় এদের অনেক সন্মান ছিল ।রাজা জমিদাররা দান করতো । কমলা ভালো নাচ  গান করতো ,অর্থাৎ দেবদাসীরে ভালো নাচ  গান জানত । 

৩) শিক্ষাঃ শাস্ত্র,সঙ্গীত , সাহিত্য  শিখত ।তাই অনেক দেবদাসী জ্ঞানী হতো । 

এই বার  আসি তাদের অন্ধকারের ইতিহাস জানতে । 

অন্ধকার দিকটি কি? 

কলহনের বই থেকে জানা যায় 

চলত ধর্মের আড়ালে শোষণঃ 

বড়ো হওয়ার পরে পুরোহিত, জমিদার, রাজকর্মচারী "দেবতার প্রসাদ" এর  নামে মেয়েদের ভোগ করতো ।
 
বিয়ে নিষিদ্ধঃ 

তাদের কোন সামাজিক নিরাপত্তা ছিল না। বুড়ো হলে মন্দির থেকে বের করে দিতো । 
সন্তানঃ দেবদাসীদের সন্তান "জারজ" বলে পরিচিত হতো । তাদেরও ভবিষ্যৎ ছিল না। 

বাংলায় যে নামে এরাকে ডাকা হতোঃ 

'নর্তকি',বাইজী, রুপজীবী। মন্দির কমে গেলে এরা জমিদার বাড়ীর বৈঠকখানায় চলে যেতো । 

ইতিহাসবিদ কলহন ইতিহাসে এদের নিয়ে লিখে জানালেন "ইতিহাস শুধু রাজা-রাজ্য-যুদ্ধ নয় ,ইতিহাস হলো দেবদাসীদের মতো হাজার হাজার মেয়ের কান্না" । 

প্রতিভা বসু তার বইয়ে দেখিছেন ধর্মের নামে নারীকে দেবতার পায়ে বেঁধে রাখা আসলে নারীর স্বাধীনতা কেড়ে  নেওয়া । তাদের কে ভদ্র ভাবে বাঁচতে  না দেওয়া। জীবনের নিরাপত্যা না দেওয়া এবং এক  অসহায় পরিস্থিতিতে ফেলা। 

দেবদাসী প্রথা শুরু হয়েছিল 'ভক্তি' দিয়ে । শেষ হয়েছিল 'শোষণ' দিয়ে। 

কমলা ছিল সেই হাজার কমলার একজন - যার গান দিয়ে দেবতা পূজা পেত । কিন্তু নিজে কোনো  দিন সংসার, স্বামী আর সন্তানের অধিকার পেত না। 

আর বুড়ো বয়সে 'বুড়ো ঘোড়ার'  মতো 'মূল্যহীন সন্মান হিন'  ভাবে জীবনের শেষ দিন গুলো কাটাতে হতো আমৃত্যু । 

এই ছিল প্রাচীন বাংলার দেবদাসীর ইতিহাস। 

তা ছাড়া নগরে এবং গ্রামে "দাসী" রাখার প্রথা ছিল শুধু মাত্র কাম চরিতার্থর জন্য। এবং এই দাসীরা অস্থাবর সম্পত্তির মতো ক্রয় বিক্রয় হতো । -- নিহাররঞ্জন রায় এর বাঙ্গালীর ইতিহাস । 

পাল আমলে নারী এভাবে ব্যাবহৃত হতো না কিন্তু সেন আমলে দেবদাসী প্রথা রমরমা ছিল । 


সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গান - জীবন যেন স্রোতের মাঝে ভাসমান দ্বীপের মতো

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪

১৯৮৪ সাল। স্কুলের অফিস রুমে গিয়েছি বেতন দেবার জন্য। লাইনে অপেক্ষা আমি আর আমার লাল ঝুটি বন্ধুটি। আমাদের খুঁজে খুঁজে ঐ ভীড়ের মাঝে পুষি এলো। আদর করে পুষি ডাকতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×