উপসংহারঃ
প্রায় ৫০০০ বছর আগে দক্ষিণ পুর্ব এশিয়া থেকে আগত
"ভেডডিয়ান নরগোষ্ঠী", এবং তারা ভাষা গত ভাবে অ্যাসট্রো - এশিয়াটিক ভাষা গোস্টির । তারা এসে বসতি স্থাপন করে এই বঙে ।
তাদের আসার পথ ছিল ভিয়েৎনাম ,কম্বোডিয়া, লাওস থাইল্যান্ড,মায়ানমার, নেপাল হয়ে ভারতের বঙে ।
নৃতাত্ত্বিক গন মনে করেন সম্ভবত তারা ছিল প্রশান্ত মাহাসগরের কোন একটি দ্বীপ থেকে আসা । কোনো কারনে দ্বীপটি ডুবে গেলে তারা ডিঙ্গি যোগে মূল ভূখণ্ডে এসে উঠে ।
সব মানুষের আগমন আফ্রিকা থেকে । তারাও এসেছিল আফ্রিকা থেকে। নৃতাত্ত্বিক গন মনে করেন সব মানুষ এক সঙ্গে এক সময়ে আফ্রিকা থেকে বের হয় নি ।
খাদ্যের সন্ধানে বিভিন্ন সময়ে দলবদ্ধ ভাবে একেক সময়ে একেক গ্রুপ প্রশান্ত মাহা সাগরীয় অঞ্চলে এসেছিল । প্রমাণ ইন্দোনেশিয়ায় Shlawesi দ্বীপে সাম্প্রতিক সময়ে সেখানকার কেভ বা গুহা থেকে উদ্ধার আফ্রিকা থেকে আসা নানান সময়ে আসা নানান গ্রুপের কঙ্কাল ।
বঙে আসা এই ভেডডিয়ো নরগোষ্ঠী সেই রকমের এক মানব গ্রুপ
যাদের মুখচ্ছবি এবং রক্তের কমন মেজরিটি প্রধান উপাদান প্রমাণ করে এদের আইডেন্টিটি । যা কিনা সাম্প্রতিক কালে পাওয়া আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত "ডিএনএ" গত প্রমাণ । বাঙ্গালির জিনোমের ধারাটি আসে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া থেকে । আমরা আগে বাঙ্গালি পরে হিন্দু বা মুসলমান । বাঙ্গালির জিনেটিক মার্কার বলে দায় বাঙ্গালি ভারতের অন্য অঞ্চলের জিন থেকে আলাদা। যা এতিদিন জানা ছিলনা। বর্তমানের ডি এন এ এর সায়েন্টিফিক বিশ্লেষণ থেকে উঠে আসে এক ব্যাখ্যা যা কিনা চেঞ্জ করে দায় পুরানো ধ্যান ধারনা ।কি সেটা AY ক্রোমোজোম এর AS "Haplogroup" "02" (Passed Down) বা ধাবমান হয় বাবার কাছ থেকে সন্তানের রক্তে । আর যা কিনা অ -পরিবর্তনশীল । আর এটাই DNA এর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ । আর DNA এর এই বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এর ধারায় ধরা পড়ে বাঙ্গালির জিনমের আসল রহস্য ।
বাঙ্গালী মূলত অনার্য জাতি । ভাষা ,খাদ্যাভাষ, প্রথা এবং সংস্কৃতি এক।
বাঙ্গালীর চলার পথে মিশ্রণ হয়েছে যা খুব ক্ষীণ । যা কিনা সব মানুষ জাতির মধ্যে হয়ে থাকে। এবং তা স্বাভাবিক । উপমহাদেশে অনেক পড়ে আসে সেন্ট্রাল এশিয়া থেকে আর্য জাতী । তাদের dna এর ক্ষীণ ধারা বাঙ্গালির রক্তে আসে তবে কমন জিনম নয়। কমন জিনমের মার্ক জিনেটিক মার্ক হলো "AS Haplogroup 02"
কিন্তু বাইরে থেকে যারা এসেছে রাজ্য জয়ের মাধ্যমে , সেই রাজা রাজড়ারা চলে গেলেও সৈন্য সামন্ত কিছু থেকে গেছে। থেকে গেলেও তারা বংগের জল আবহাওয়ায় মিশে বাঙ্গালী হয়ে গেছে। কেউ কেউ এসেছিল বাণিজ্য করতে কেউ আবার ধর্ম প্রচার করতে।
মানুষ নদীর ধারে থাকতে পছন্দ করে, কারন এক সময়ে পানি থেকে জীব উঠে এসেছিল । জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে থাকতে পছন্দ করে কারন এক সময়ে আমরা জঙ্গলে ছিলাম ।
বাঙ্গালী গ্রাম পছন্দ করে কারন গ্রাম আমাদের আদি বাস স্থান।বাচ্চা দের ছবি আঁকতে দিলে তাদের মনে আগেই উঠে আসে সেই গ্রামের ছবি। একটা নদী এবং তার ধারে কুঁড়ে ঘর ,খড়ের ছাদ পাশে গোয়াল ঘরে গরু । বাঙ্গালীর গ্রাম থেকে উঠে আসা গ্রামীণ পরিবেশ মনের মধ্যে গাঁথা এক অতি পরিচিত দৃশ্য যা সব সময় থাকে ।
"বাঙ্গালীর সমাজ বিন্যাস এখনও গ্রামীণ"
সমাজের মূল ধরে টানলে সমাজ বিন্যাসের যে চেহারা দেখা যায় তা কিন্তু বদলায় নি ।
উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় ১) যৌথ পরিবারঃ
বাঙ্গালী এখনও একই উঠানে দাদা- দাদী ,কাকা সবায় মিলে একসাথে থাকে।
২) রান্না বান্না ,জমি জমা এক সাথে দেখাশুনা হয়।
৩) বড়োরা সিদ্ধান্ত নায় ,ছোটোরা মানে। যাকে বলে কর্তার শাসন
গ্রাম শাসনঃ মাতব্বর, /পঞ্চায়েত
১) বিচার ,বিয়ে, ঝগড়া, জমি নিয়ে সমস্যা, "সালিস" বসে। শহরে বিচার করতে যাওয়ার আগে গ্রামেই মিটিয়ে নায়।
অর্থনীতি কৃষি ভিত্তিকঃ
মূল পেশা চাষাবাদ, ধান ,পাট , সবজি
একান্নভুক্ত পরিবার।
হাট বাজার কেন্দ্রিক জীবন।
সামাজিক সম্পর্ক ,পাড়া - প্রতিবেশীঃ
১) পাশের বাড়ীর চাচী খুব গুরুত্ব পুর্ন ২) বিয়ে ,মিলাদ,পুজা ঈদ, পুরো পারা দাওয়াত । ৩) বিপদে পরলে দলবেঁধে সাহায্য করার রীতি ।
সংস্কৃতি ও রীতিঃ
১) বারো মাসে তেরো পার্বণঃ বৈশাখী ,নবান্ন, ঈদ, পূজা , বৈশাখী
২) মসজিদ মন্দির কেন্দ্রিক জীবন। শুক্রবারে মসজিদ ,রবিবারে মন্দির যাওয়া
৩) লোকগান,পালা গান, যাত্রা বিনোদন মূলক
৪) লিঙ্গ ভূমিকা
৫) ছেলেরা বাইরের কাজ ,মেয়েরা বাড়ীর ভিতরের কাজ
বঙ্গে বাঙ্গালী চিরকাল এক প্রান্তে কৃষি আর গ্রামীণ সভ্যতা নিয়ে ব্যাস্ত ছিল ।
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হল বাঙ্গালী নিরীহ ও সরল প্রকৃতির । দৃহতা এবং সংহতির কিছু অভাব আছে। সহজেই পরের বশ্যতা স্বীকার করে এবং আত্ম সমপর্ন করে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখে।
তবে ইতিহাসে দেখা যায় বাঙ্গালী সময় মতো এক হতে পারে এবং অনায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ায় ।
কাল অনন্ত এবং পৃথিবীও বিপুলা । দুর্ভিক্ষ, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘুর্নি ঝড় ,অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, দেশ ভাগ, দ্বেষ হিংসা, চারিত্রিক দৈন্য ,আর্থিক দুর্নীতি , এই সব বাঙ্গালীর শত্রু ।
তবুও বাঙ্গালী মাথা তুলতে চায় । মাথা তুলতে হবে।
তথ্য সূত্র এবং সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ পঞ্জিঃ
রজনী কান্ত চক্রবর্তী / গৌড়ের ইতিহাস,
নিহাররঞ্জন রায়/ বাঙ্গালীর ইতিহাস ,
রাখালদাস বন্দোপাদ্ধায়/ বাঙ্গালার ইতিহাস
The Oxford Companion to Indian Archacology "Sounagoura" Wary Botessory Discribe by Geeek Scholar Ptlolemy .
Ancient Bangladesh ,Dilipkumar Chakrabarti ,Oxford University Press Dilhi .
Ramesh Chandra Majumder,History of Ancient Bengal .
N.G. Majumdar Inscriptions Of Bengal Vo.11
Ramaranjan Mukherji and Schimdra Kumar Maity,
Corpus of Bengal Inscriptions Calcutta 1967
তারাপদ সাঁতরা ,বাংলার ভাস্কর্য
শেকড়ের সন্ধানে /সুফি মুস্তফাফিজুর রহমান /মোঃ হাবিবুল্লাহ পাঠান
আব্দুর রহমান সিদ্দিকী /প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার /বরেন্দ্র অঞ্চলের সংস্কৃতি
আহমেদ খাঁ চৌধুরী /আমানত উল্লাহ /চক্রবর্তি / জাহ্নবী কুমার /চর্যাগীতির ভূমিকা
রমা প্রসাদ /গৌড় রাজ মালা
জলিল,আ ফ ম আব্দুল /সুন্দর বনের ইতিহাস
অতীন্দ্র মজুমদার /চর্যাপদ
মিছের আলী মোঃ /বগুড়ার ইতিহাস
শাস্ত্রী হরপ্রসাদ/ হাজার বছরের পুরানো বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ গান
মুহাম্মদ জলিল/সাঁওতাল সমাজ সংস্কৃতি
পিসি সরকার/বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষ,তাদের জাতি বৈচিত্র্যের ধারা একটি নৃতাত্ত্বিক অবলোকন একটি সামাজিক বিজ্ঞান
কোচবিহারের ইতিহাস/খান চৌধুরী আমানত উল্লাহ আহম্মদ
শ্রী অক্ষয় কুমার মৈত্র /গৌড় লেখমালা
শ্রী প্রভাস চন্দ্র সেন /Mahasthan and its Environs
সন্ধ্যাকর নন্দী /রামচরিত/কবি প্রশস্তি
Montegomary Martin /The History,Antiquities and Statistics of Eastern India
William Wilson Hunter
A Statistieul Account of Bengal ,London 1876 /Mohasthan Near Bogura,Eastern Bengal
Alexandar Cunningam / Report of a Tour in Bihar and Bengal in 1879
W.W. Hunter Statistical Account of Bogra District
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



