মর্গান, ব্যাকোফেন, ব্যাস্টিক্যান, উইনক্যানস প্রমুখ সমাজ বিজ্ঞানীর ধারণা মানুষ যখন সমাজবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তখন থেকেই বিয়ে প্রথার সূচনা। তাদের গবেষণা মতে, পরিবার ও দলের আভ্যনত্দরীণ শানত্দি-শৃংখলা, সনত্দান পালন ও লোকবল বাড়াতে বিয়ে প্রথা জরুরী হয়ে উঠে। এরপর ক্রমশ সমাজে দেখা দেয় ধমর্ীয় মূল্যবোধ। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে মেয়েদের বিয়ে করে স্বামীর সংসারে আসার নিয়ম প্রচলিত হয়। অন্যদিকে মাতৃতান্ত্রিক সমাজে পুরুষরা বিয়ে করে স্ত্রীর সংসারের স্থায়ী সদস্য হওয়ার বৈধতা অর্জন করে।
বর্তমান যুগে স্ত্রী শুধু সহধর্মিনী নন, সহকমর্ীও বটে। বিয়ে এখন শুধু একত্রবাসের পূর্বশর্ত নয়, বরং দু'পরে সানন্দ সম্মতিক্রমে যুগল জীবনযাপনের অঙ্গীকার। পৃথিবীতে নানা রকম বিয়ে প্রথা বা বিবাহ সম্পর্ক প্রচলিত রয়েছে। সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে কোন কোন প্রথা লুপ্ত বা নিষিদ্ধ হয়েছে। আবার উদ্ভব হয়েছে নতুন নতুন প্রথার। বিশেষজ্ঞরা বিয়ে প্রথাকে ভাগ করেছেন প্রধানত চারভাগে। (1) এক পতি্নক বিয়ে (2) বহুপতি্নক বিয়ে (3) বহুস্বামী বিয়ে (4) দলগত বিয়ে। একই কালে একজন স্ত্রী গ্রহণ একপত্নীক বিয়ের বৈশিষ্ট্য। একই সঙ্গে একাধিক স্ত্রী রাখার নাম বহু বিবাহ। একাধিক বিয়ের পেছনে যেসব কারণ বিদ্যমান সেগুলো হচ্ছে (1) পুরুষের বহুগামী স্বভাব (2) রাষ্ট্র ও সমাজে পুরুষ প্রাধান্য (3) অধিক সনত্দান লাভের আকাঙা। ইসলামে একসঙ্গে চার স্ত্রী রাখা বিধিসম্মত। সামনত্দযুগে বহু বিয়ে ছিল আভিজাত্যের লণ। বর্তমান সমাজে এ প্রথা নিন্দনীয় হলেও বিলুপ্ত হয়নি। বহুস্বামী গ্রহণ অনেক আগেই সামাজিকভাবে রহিত হয়েছে। পৌরাণিক ভারতে দ্রৌপদী একইকালে পাঁচ স্বামীর স্ত্রী ছিলেন। মোগল আমলের শেষভাগ পর্যনত্দ সিংহল ও দণি ভারতের কোন কোন অঞ্চলে এ প্রথা প্রচলিত ছিল। বর্তমানে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কতিপয় সম্প্রদায়ে, তিব্বতী এবং এস্কিমো জাতিতে বহুপতিত্ব প্রথা দেখা যায়। ভারতের জওনসারী এবং রাজস্থানের জাঠ সম্প্রদায়ের মধ্যে আজও বড় ভাইয়ের স্ত্রী ছোট ভাইদের স্ত্রী হিসেবে গণ্য হয়। বর্তমান যুগে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


