এই আষাঢ়ের প্রথম দিন
১৮ ই জুন, ২০০৭ রাত ২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
এবারের বর্ষার প্রথমদিনটায় ছিলাম উত্তরায়, আমার বড় খালার বাসায়। বিকালের দিকে যখন সেখানে যাচ্ছি তখন আকাশ মেঘলা থাকলেও তখন পর্যন্ত বৃষ্টি হয়নি। বিকাল ৬ টার দিকে উনাদের এপার্টমেন্টের ছাদে হাওয়া খেতে উঠলাম। তখন বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা একটা হাওয়া দিচ্ছিল, বেশ ভাল লাগছিল। খালতো ভাই আর বোনের সাথে আড্ডা দিতে দিতে দেখলাম আকাশে ঘন কালো মেঘ জমেছে। তখনো মনে ছিলনা যে সেদিন ছিল আষাঢ়ের প্রথম দিন। মেঘের রঙটা ছিল কেমন যেন কমলা ধরণের আর মাটি মাটি ভাব ছিল মেঘগুলোর মাঝে। মেঘগুলো এসে কেমন জানি জড় হচ্ছিল বাংলাদেশ মেডিক্যালের বিল্ডিংটার মাথায়। আমি মজা করে আমার খালাতো ভাইকে বলছিলাম যে, মনে হচ্ছে ঐ বিল্ডিংটা বুঝিবা একটা শয়তানের আড্ডাখানা। যেরকম সিনেমার মাঝে দেখা যায় যে, কোন ভিলেন চরিত্রের বাড়ির মাথায় একগাদা মেঘ জমে আছে। এইরকম যখন মজা করছি তখন আস্তে আস্তে দেখলাম মেঘগুলো অনেক ঘন আর আরো কালো হয়ে আরো দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সূর্য ডুবে গেছে তাই মনে হয় মাটি রঙের মেঘের কোল ঘেঁষে এমন অপার্থিব লালচে কমলা রঙ। মেঘগুলো দেখেই মনে হল তারা বৃষ্টির ভারে যেন নুয়ে পড়েছে। আকাশজুড়ে মেঘগুলো যেন আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টি নামানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে। কিসের এই অপেক্ষা? তাদের আরো অনেক মেঘবন্ধুদের জন্য হয়তো। আজকে তারা একসাথে আনন্দে ভাসাবে এই বাংলাকে। তাদের হয়তো আনন্দের সীমানায় আজ আর বাঁধ নেই, সে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবার জন্য তাই তাদের এই প্রতিক্ষা। ঐ তো দূরে দেখা যায় আরো অনেক মেঘ তাদের আনন্দাশ্রু বয়ে মিলিত হতে আসছে তাদের মিতার সাথে। আর একটু পরেই আমার দেশ ধুয়ে যাবে আষাঢ়ের প্রথম বারিধারায়। কালো মেঘের কোলে আবছা ছাই রঙ দেখে আমার মন খানিকটা হলেও বিষন্ন হয়ে যায়। আবার বর্ষা আসছে, বাঙালীর প্রানের ঋতু এই বর্ষা। আমরা অপার ভালোবাসায় বর্ষাকে বরণ করে নিব, আমরা বৃষ্টিতে ভিজব, কদমফুলের সুরভিতে ভাসবো। কিন্তু আমরা বর্ষার রাগ পুরোপুরি সামাল দিতে এখনো প্রস্তুত নই, অতিবৃষ্টি মোকাবেলায় আমাদের কোন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নাই। কয়েকদিন আগে এমনই বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমাদের লোভী হৃদয় বর্ষাকে বরণ করে নিতে এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। কিন্তু তবুও বৃষ্টি আসে, আমাদের ভালোবাসে আর আমরা,বাঙালীরা, রক্তের মধ্যেই বর্ষাকে ভালবাসার বীজ নিয়ে জন্ম গ্রহন করি। কিন্তু আমাদের ভালোবাসার বর্ষাকে ঠিকভাবে বরণ করে নিতে হলে আমাদের মধ্যের সেইসব লোভী মনের মানুষদের আগে আষাঢ়ের এই প্রথম বারিধারায় স্নাত হয়ে শুদ্ধ হতে হবে। যেন আজ থেকে আর যতদিন আমাদের মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য যা পদক্ষেপ নিতে হবে তা যেন আমাদের পৃথিবীর পরিবেশের বিরুদ্ধে না যায়। আমাদেরকে সত্যিকারের ভালোবাসা শিখতে হবে, আর পৃথিবীকে, এর অগণিত সন্তানকে ভালোবাসার দিনটি যদি শুরু হয় আষাঢ়ের প্রথমদিনের বৃষ্টির ভালোবাসা গায়ে মেখে, তাহলে খুব কি ক্ষতি হবে?
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে। খুলনা...
...বাকিটুকু পড়ুনআমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,...
...বাকিটুকু পড়ুনমন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন