somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাল অবরোধে

১৪ ই নভেম্বর, ২০০৬ ভোর ৫:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অবরোধে অনেকেরই অনেক কষ্ট হচ্ছে। তার সাথে হয়ত আমার কষ্টের তুলনা কিছুই না। কিন্তু ওই যে কথায় আছে না, নিজের কাছে নিজের কষ্টই বড়! কাল কষ্ট করেই ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় এলাম। একঘন্টার জায়গায় লাগল পাঁচ ঘন্টা। থার্ড ইয়ার ফাইনাল চলছে। 12 তারিখ এক পরীক্ষা দিতে হলে গিয়ে উঠতে হলো। শেষ পর্যনত্দ পরীক্ষা হলো না। হলে থাকলে দম আমার বন্ধ হয়ে আসে। আমাকে ফিরতেই হবে।
অনেকভাবে অনেক ট্রাই করলাম। লাভ হলো না। এদিকে 12 তারিখ ক্যাম্পাসের গেটের সামনেই এক বাস পোড়ানো হয়েছে। অবস্থা ভয়াবহ। হাইওয়েতে কোন গাড়ি চলছে না। অবশ্য রোজার মধ্যে একদিনের যে অবরোধ হয়েছিল সে দিনও আমাকে ক্যাম্পাসে আসতে হয়েছিল। টিউটোরিয়াল ছিল। স্যারকে বললাম আমারটা পরে নিতে। স্যার কয়েক কাসমেটের সামনে বললেন আমার সমস্যা হবে তাতে, তুমি যেভাবে পার দাও। আমার গেল জেদ চেপে। সকাল ছটায় ফার্মগেটে একঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কিছু পেলাম না। এক টেম্পুতে উঠলাম। মাঝ পথে গিয়ে নামিয়ে দিল। সেদিন ছির বৃষ্টির দিন। পুরো রাসত্দায় মানুষতো দূরের কথা, একটা প্রাণী নেই। হঠাৎ পেলাম এক পুলিশের গাড়ি, এক অফিসার বসা। তাকে বললাম আমাকে ক্যাম্পাসে পেঁৗছে দিন। তিনি এক ফোর্স কল করে এক সিনিয়র অফিসারকে দায়িত্ব দিলেন আমাকে ইউনির্ভাসিটিতে পৌছে দিতে। স্যারতো আমাকে দেখে হতভম্ব।
সেদিন যখন একা আসতে পেরেছি সো আজ যেতেও পারব। তাছাড়া সঙ্গে আছে মুন্নী। আমার ফ্রেন্ড। দুজনেই রাতে ডিসাইড করলাম, যাই হয় হোক দরকার হয় কাল হেঁটেই ঢাকা যাব। এডভেঞ্চার হবে।
ভোর ছটায় হল ছাড়লাম। শীতে কাঁপতে কাঁপতে হেঁটে ডেইরী গেট এসে দাঁড়িয়ে আছি। কোন বাস নেই। হঠাৎ একটা এল। উঠলাম। সাভার বাজারের কাছে যেতে না যেতেই রাসত্দার লোকজন হুমকি ধামকি দিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দিল। শত শত মানুষ। পরিস্থিতি থমথমে। যেকোন সময় বড় ধরনের ঝামেলা হতে পারে। এই রোড দিয়ে আর যাওয়াটা সেফ হবে না। কর্ণার দিয়ে হেঁটে হেঁটে বিরম্নলিয়া রোডের মাথায় এসে রিকশা নিলাম। যাব আক্রাইন। মুন্নী গাইড। ও কয়েক বছর আগে এই রোড দিয়ে একবার এসেছিল।
চারিদিকে সবুজ আর কুয়াশার ধোয়ার মাঝ দিয়ে রিকশা গেল রাসত্দার শেষ পর্যনত্দ। অর্থাৎ খেয়ারঘাট গ্রামে। সেখানে খালের পাড়ে নেমে পড়লাম। খালে পানি নেই। যেখানে পানি তার উপর অনেক উচু এক সিমেন্টের পুল। বাঁশের সাঁকো বেয়ে উঠতে হয়। পুল পার হয়ে গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে চললাম। অদ্ভূত কিছু বাড়ি আছে সে গ্রামে। পুরোন ইটের নকশা করা স্থাপনা। দেখতে দেখতে হাটছি। এদিকে ক্ষুধায় পেটে ঢোল বেজে চলছে। মুন্নীকে বললাম চল কোন বাড়িতে ঢুকে ঘুম থেকে তুলে বলি আমাদের নাসত্দা দিতে। বেচারী মার খাবার ভয়ে কিছুতেই রাজি হল না। কি করা। মুদির দোকান পেলাম। শুটে যাওয়া বিস্কুট আর ড্রিংকসের বোতল নিয়ে হেটে চলেছি মানুষ কে জিজ্ঞেশ করতে করতে। মুন্নীও কনফিউজড, ঠিক পথে চলছি তো? ঘন্টাদেড়েক হাঁটার পর পেঁৗছে গেলাম বেড়ী বাধের কাছে। আমি জীবনে প্রথম নৌকায় চড়লাম। খাল থেকে বাঁধ অনেক দূর। বাঁধের উপর দিয়ে কোন গাড়ি চলছে না। হঠাৎ এল এক টেম্পু। কাঁধে ভারী ব্যাগ। তা নিয়েই দিলাম এক দৌড়। টেম্পুতে উঠে মনে হল এত সুন্দর জায়গা, কিছুক্ষন সময় না কাটিয়ে যাব তা কি করে হয়। কিছুদূর গিয়ে টেম্পু থেকে নেমে পড়লাম। হেঁটে হেঁটে পেলাম এক চায়ের দোকান। সেখানে কিছু র্যাব দাড়িয়ে। চায়ের অর্ডার দিয়ে এগিয়ে গেলাম তীরে। কিছুক্ষন সেখানে বসে আবার চায়ের দোকানে ফিরলাম। এক র্যাব এগিয়ে এল পরিচয় জানতে। কথায় কথায় প্রশ্ন করেই বসলাম- পুলিশ আমাদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। কিন্তু আমরা কেন পুলিশকে এতো ভয় পাই। পুলিশকে কেন আমরা আমাদের বন্ধু ভাবতে পারিনা। সে র্যাব অফিসার ভালভাবেই উত্তর দিচ্ছিলেন কিন্তু আরেক জন পাশ থেকে গেলেন আমার উপর মহা ক্ষেপে। কারণ আমি বলে ফেলেছিলাম, পুলিশের উপর আমাদের কোন শ্রদ্ধাবোধ নেই। তার ক্ষেপে যাওয়া দেখে টনক নড়ল। খেয়াল করে দেখি তার চুলের ছাট আর্মির নয়, পুলিশের! তাদের যুক্তি, আইনের কারণে তাদের হাত বাঁধা। আমিও বললাম, আইনের বাইরেও কিছু কর্তব্য থাকে। একজন মানুষ হিসেবে মানুষের প্রতি সহযোগিতাবোধ, মমত্ববোধ থাকা উচিত। যা পুলিশের ব্যবহারে আমরা পাই না। আমার কথা শুনে ভদ্রলোকের মুখ কঠিন হয়ে গেল।
এরই মধ্যে তাদের এক গাড়ি এল যেখানে আরো অনেক র্যাব। আমাদেরও চা খাওয়া শেষ। এবার রিকশা নিলাম। মিরপুরের কাছে এসে আবার রিকশা নিলাম এক নাম্বার পর্যনত্দ। তারপর আবার সাড়ে এগার পর্যনত্দ। সেখান থেকে বার নাম্বার। নাহ! কোন বাস নেই। এবার রিকশা নিলাম আমার বাসা তেঁজগায়ে। পথে আইডিবিতে মুন্নীকে নামিয়ে দিলাম। বাসায় পেঁৗছতে বেলা এগারটা। ঢাকার ভেতর পুরোটা পথই ভয়ে ভয়ে ছিলাম। এতো মানুষ রাসত্দায়। এতো মিটিং মিছিল। যাই হোক নিরাপদেই পেঁৗছলাম বাসায়।
দরজা খুলতেই আম্মু বলে উঠল, আমার ময়না দেখি কাক হয়ে ফিরেছে!
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১১ রাত ৯:৩০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×