somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনন্য গল্প, অসাধারণ বয়নে ফিরোজা-কমল সমগ্র

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




''বাবা যখন চলে গেছেন (মারা গেছেন), সে সময় আমাদের উড়নচণ্ডী একটা ভাব ছিল... যে সময় আমি যখন গিটার বাজাতে পারতাম না, খুব ভাবটাব নিয়ে গিটার নিয়ে বসে থাকতাম। আমরা যখন শেখার চেষ্টা করছিলাম তখন যদি তাঁকে পেতাম তাহলে বেশ উপকার হতো ... '' বাবাকে নিয়ে হামিনের স্মৃতি চারণে আড্ডা জমে উঠলো।

হামিন আহমেদের সাথে যোগ করে ছোট ভাই শাফিন আহমেদ বলেন, '...আব্বার সাথে আরেকটা ইন্টারেকশন...আব্বা ক্রিকেটের প্রচণ্ড ভক্ত ছিলেন... মা'ও ক্রিকেট খেলার ভক্ত ছিলেন। জীবনের শেষের দিকেও ভালো খেলা হলে আম্মা টিভিতে সে খেলো দেখতেন ।'

এনটিভির ঈদ আয়োজনে 'গল্প শুধু গল্প নয়' তে এভাবেই বাবা কমল দাশগুপ্ত এবং মা ফিরোজা বেগমের স্মৃতি-কথা তুলে ধরেন শিল্পী হামিন আহমেদ ও শাফিন আহমেদ।

সাদিয়া আফরিন মল্লিকের সঞ্চালনায় ৯ সেপ্টেম্বর গল্প শুধু গল্প নয় এর শেষ পর্ব প্রচারিত হয়েছিল। শেষ পর্বে ছিলেন ফিরোজা বেগমের পরিবারের নতুন প্রজন্মের সদস্যরা। যারা মূলত তাঁর কাছেই গানের তালিম নিয়েছেন।

শাফিনের কথার শেষ হতে হতে সাদিয়া বললেন, আমরা এবার শাফিনের কণ্ঠে একটা গান শুনতে চাই। শাফিন গাইলেন ''.. তুমি কি এখন দেখিছো স্বপন...'' তার বাবারই সুর করা গানটি।

ফিরোজা বেগমের ভাই আনিস উদ দৌলার মেয়ে সুস্মিতার কাছে ফিরেন সঞ্চলক সাদিয়া আফরিন মল্লকি। যিনি নিজেও একজন নজরুল সঙ্গীত শিল্পী।
.. ফিরোজা বেগম আর্কাইভের কাজ করছ সুস্মিতা। আমরা এ বিষয়ে একটু জানতে চাইবো। ফিরোজা বেগম আর্কাইভের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সুস্মিতাকে অভিনন্দন জানিয়ে সাদিয়া আফরিন মল্লিক বলেন, ' সুস্মিতা বিষয়টা সম্পর্কে আমাদের একটু জানাও।'

সুস্মিতা আনিস বলছিলেন, '...ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক ব্যবস্থা করা হলো ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে... উনার যত গানের খাতা, উনার যত এলপি, উনার সব কিছু মিলিয়ে.. এটার জন্য একটা ওয়েবসাইট কনস্ট্রাকশন করা এবং ইউটিউবে ফিরোজা চ্যানেল করা.. যাতে উনার সব কিছু সুন্দর করে ঘুছিয়ে .. প্রটেক্ট করা সম্ভব হয়! সেই চেষ্টাটাই আমি করে যাচ্ছি। ''

ফিরোজা বেগমের আরেক ভাইয়ের মেয়ে রুবাবা দৌলা বলছিলেন '.. আমি ঠিক মত চর্চা করতে পারিনি। যে অনুশীলনটা ফুপুর কাছে দেখেছি... সেটা আমার ছিল না। তাই গান সেভাবে করা হয় না। '

তিনি জানালেন, ফিরোজা বেগম পরিবারের নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত ছিলেন ' গানের ফুপু' হিসাবে।

'আমরা তাঁকে গানের ফুপু বলেই ডাকতাম' বলেন রুবাবা।
ছোট বেলায় কাজিনরা সবাই মিলে দল বেঁধে ফরিদপুরে যাওয়ার গল্পটাও বাদ যায়নি। সেখানে শাফিনদের নানা-নানী আর সুস্মিতা রুবাবাদের দাদা-দাদীর গল্পও উঠে এসেছে।

'ছোটবেলাতে আমরা সবাই ফরিদপুরে যেতাম ... ফরিদপুর মানে সারারাত গল্প... অনাথের আচার খেতে যাওয়া..' বলেন সুস্মিতা আনিস।

রুবাবার স্মৃতিতে '... দাদা-দাদী বলতেন তোমরা (কাজিনরা সবাই মিলে) গোল হয়ে ঘুরে ঘুরে সুরাটা মুখস্থ করো... একটা শব্দ দিতেন, বলতেন, যাও ডিকশনারি থেকে শব্দ বের করে আনো... এটাও ছিল খেলা... আমরা খুবই এনজয় করতাম''।

শাফিন আহমেদ জানালেন, “আব্বা-আম্মার দু'জনেরই জীবন কথা মামার কাছে তথ্য-পরম্পরাসহ রয়েছে। মসি উদ দৌলা.. মামা যেভাবে দিন তারিখ সহ আব্বা- আম্মার জীবন, সঙ্গীত কথা বলতে পারবেন ...এটা আর কেউ পারবেন না। ''

আলাপের ফাঁকে রুবাবা দৌলা গাইলেন... কমলদাশ গুপ্তের সুরে... 'এমনই বরষা ছিল সেদিন... মনে কি পড়ে প্রিয়...'

সঞ্চালক বলছিলেন, --'ঝিলের জলে কে ভাসালো নীল শালুকের ভেলা...' গানটি একদিন টিভিতে হঠাৎ করেই তাঁর কানে এলো। গানটি যখন হচ্ছে, তখন আমি কান খাড়া করে শুনলাম কে এত সুন্দর করে গানটি গাইছেন। দেখলাম, তুমি (সুস্মিতা ) গাইছো। এ গানটি দিয়েও আমারও হাতে খড়ি...তুমি এত সুন্দর গাইলে আমি মুগ্ধ হয়ে শুনলাম।

অনুষ্ঠানের শেষ গানটি করে সুস্মিতা --- কাজী নজরুলের গান...' হে সজল শ্যাম ঘন দেয়া...''।।

অনুষ্ঠানটি দেখতে চাইলে এই লিঙ্কে ক্লিক করা যেতে পারে- Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:২১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠেলায় নাম বাবাজি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৯


সময়টা সরকারের জন্য মোটেও ভালো যাচ্ছে না। একদিকে গ্যাস আর বিদ্যুতের সংকটে মানুষ প্রতিদিন কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্ত নেটিজেনদের বাধার মুখে পড়ছে। ফলে সরকার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×