খুব ছোট জীবন অথচ জীবনের জন্য কত আয়োজন।পারী'র জন্মদিন ১৭ ডিসেম্বর অথচ নভেম্বর মাস আসার পর থেকে কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করতেই আছে,"এই জন্মদিনে আমার হীরা'র আংটি চাই ই চাই।দিতে হবে কিন্তু কোন ধুন-ফুন করলে চলবে না।"
অরূপ হাসে।সেই হাসি প্রকৃত হাসি নয় সেটা বোঝে না পারী।অরূপের হাসি অনেক কথা বলে!
পারী'র আজ জন্মদিন।ওকে হীরা'র আংটি কিনে দেয়া হয়েছে কিন্তু আংটিটা পারী'র পছন্দ হয়নি।মনে আছে স্কুলে ক্লাসের একটা মেয়ে অরূপের জন্মদিনের দিন অরূপকে একটা কাগজের হাঁস বানিয়ে বলেছিল"এটা শান্তির পাখি;তোমায় দিলাম।" কাগজের সেই হাঁসটা ডায়েরী'তে বন্দি হয়ে আছে আজও আছে।হারিয়ে যায়নি।সেদিন খুব খুশি হয়েছিল অরূপ।এখানকার সময়ে মানুষের খুশি কিনতে অনেক টাকা লাগে অথচ খুশি কেনার পরও মানুষ সুখী হয় না।
অরূপ সেদিন এসেছিল আমার অফিসে।কিছু টাকা ধার করতে।বয়সে আমার বেশ ছোট।তবে অবাক হয়েছিলাম কারণ যতদূর জানি অরূপ নিজেই বেশ বড় অংকের বেতন পায়।কম করে হলেও সত্তর হাজার টাকার কাছাকাছি।তবুও টাকার জন্য ধার করতে হচ্ছে।সত্যিই জীবনের সংজ্ঞা কখনো কখনো বদলে যায়।
সেদিন সন্ধ্যার পরে 'পাঠাও'তে কল করলাম।বাইক এল কিন্তু যিনি বাইকচালক তিনি আর কেউ নন,অরূপ।আমি অরূপকে দেখে হতভম্ব হলাম। ও অবশ্য একটু লজ্জা পেল।জানতে চাইলাম কী এমন হল যে বাইক চালাতে হচ্ছে 'পাঠাও'তে তাও আবার অফিসের পরে?
অরূপের বউ আমার ফেসবুকের ফ্রেন্ডলিস্টে আছে। ওর নাম পারী।এক মাস আগেও পারী'কে দেখেছি ঢাকার অভিজাত রেস্তোরাঁয় বন্ধু বান্ধবী দের ট্রিট দিতে।ফেসবুক প্রোফাইল এ দেখা যায় যথেষ্ট আধুনিক ও জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপন করে।
অরূপ আমাকে জবাব দিয়েছিল-"আমি মাত্র একশত টাকা আয়ের এর জন্যে এক ঘণ্টা সময় ব্যয় করি ;আর আমার বউ একশত টাকা খরচ করতে একটা মিনিটও সময় নেয় না
বউ কে তো বদলা’তে তো পারবো না তাই নিজে পরিশ্রম করে মেকআপ করার চেষ্টা করি অন্তত 'পাঠাও'তে বাইক চালিয়ে নিজের দুপুরের খাবারের খরচ'টা যেন ওঠে!"
জীবনসঙ্গী ভালো না হলে -জীবন হবে নরকের ফ্লেভারযুক্ত।আপনার সামাজিকতা হয়ে উঠুক সাবলীল।লোক দেখানোর উদ্দেশ্য পরিহার করে আপনার সঙ্গীকে বুঝতে চেষ্টা করুন।মনে রাখুন -অপচয় কখনো আধুনিকতা নয়।
©রুবাইদা গুলশান
বিশেষ কৃতজ্ঞতা:এস.এম.সূচন আবদুল্লাহ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


