somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নীল মনি
ভীষণ কঠিন পোড়ামাটিকে আবার সেই কাদামাটিতে ফিরিয়ে আনা,ভীষণ কঠিন আঘাত দেয়া শব্দমালা গুলো ফিরিয়ে নেয়া।ভীষণ কঠিন নিজের সম্পর্কে কিছু বলা।যে চোখ দেখিনি সে চোখ কেমন করে বিশ্বাস করবে জানি না।যে কখনো রাখিনি হৃদয়ের উপর হৃদয়;সে কেমন করে বুঝবে আমায়!

অনুভূতি

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখানে এসেছি কয়েকদিন।অজ পাঁড়া গাঁ বললে ভুল হবে না।চাকরির সুবাদে নিজ এলাকা ছেড়ে এত দূর!
তবে আর যাইহোক চারিদিক বেশ মায়াময়।সকাল আর সন্ধ্যায় পাখির কিচিরমিচির, সবুজের শ্যামলতায় ঘেরা।বেশ বড় একটা ফ্লাটে ই আমার ঠাই।দোতলা ভবনে নীচতলায় একজন থেকেও নেই মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। পুরো বিল্ডিং টাতেই আমি একা। শুরুতে একদিন বাতি জ্বলেছিল নীচ তলার ওই ঘরটাতে।তালা ঝুলানো দেখতে দেখতে ক্লান্ত।

তবে মজার ব্যাপার হল এখানে সন্ধ্যা নামার আগেই যেন রাত নামে।চারিদিক শুনশান নিরবতায় থেকে থেকে শেয়ালের ডাক।গা ছমছম পরিবেশ।এখানে আসার একদিন পরই খেয়াল করলাম
সন্ধ্যার পর পর কোথা হতে যেন উৎকট গন্ধ ভেসে আসে।আর কান ঝাপটানোর মত শব্দ।একা থাকি পিন পড়লেও শব্দ হয়।পাত্তা দিই না।কিন্তু গন্ধটা বেশ ভোগায়।সহ্য করা কঠিন।জানালায় এখনো পর্দা লাগাতে পারিনি।একদিন রাতে জানালার দিক থেকে নিচের দিকে তাকালাম।দেখি কী যেন নড়ছে।সরে এলাম।ভয় পেলাম কিনা জানিনা কিন্তু কেমন যেন লাগছিল।এমন সময় কোথা হতে ঠিকঠিক করে টিকটিকি ডেকে উঠল।

আমি বিছানায় এসে চুপ করে শুয়ে পড়লাম।এরপর কখন যে ঘুমিয়েছি জানিনা।হঠাৎ ঠকঠক শব্দে ঘুম ভেঙে গেল।ঘড়িতে তখন রাত একটা।আমি উঠে ওযু করে নিলাম।মোবাইলে একটা আরবী তেলাওয়াত মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলাম।

সকাল হল যখন তখন রাতের কথা ভেবে বেশ হেসেছি।একা থাকলে কতকিছু যে মনে হয়।জানালা খুলে দিলাম।অদূরে একটা পুকুর আর সামনের দিকটায় একটা মাঠ আর কিছু গাছ দাঁড়িয়ে।দূরে কয়েকটা বাড়ি দেখা যায়।
খেয়াল করলাম নিচে ঝোপের কাছটাতে একটা কুকুর
শুয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।কুকুরটা দেখতে বেশ, স্বাস্থ্যও ভালো।আমি জানালার কাছ থেকে সরে এলাম।

কয়েকদিন কেটে গেল।একবিকেলে মনে হল ছাদে যাই।আমি ছাদে গেলাম।বছরে কেউ ছাদে উঠে কিনা সন্দেহ।ছাদে শেওলা আর বটগাছ জন্মেছে।অনেক পাতা পড়ে আছে।অন্যপাশটায় যাওয়া হয়নি।আমি একপাশেই বসে পড়লাম।সেখানে বসে আমি বেশকিছু ছবি উঠালাম।হঠাৎ পাতার খসখস শব্দ আর সেই গন্ধটা।সেই রাতের বিকট গন্ধ ভেসে আসছে।আমি তাকিয়ে দেখলাম আমার সামনে একটা কুকুর দাঁড়িয়ে আছে।গন্ধটা কুকুরের কাছ থেকেই আসছে।ওর ঘাড়ের কাছটায় এক বিঘত পরিমাণ জায়গায় কোন মাংস নেই।সেখানে ঘা হয়ে গেছে।মনে হচ্ছে পোকা কিলবিল করছে। আমি চোখ সরিয়ে নিলাম। কী করব বুঝতে পারছিলাম না।আমি মনে মনে ভাবছি কুকুরটা যেন আমার নেমে যাওয়ার রাস্তায় না দাঁড়ায়।আমি নেমে যাব বলে সিদ্ধান্ত নিলাম ঠিক তখনি কুকুরটা সামনে এসে দাঁড়াল।আমার তখন বুকধড়ফড় শুরু হয়ে গেল।কিভাবে কুকুরটাকে সরাব সেই চিন্তা করছিলাম।অনন্যোপায় হয়ে মুখ দিয়ে শব্দ করাতে কুকুরটা নেমে গেল।সে কী গন্ধ, আমার সমস্ত শরীর গুলিয়ে উঠছিল।আমি আমার হাতের চাবিটা ঘোরাচ্ছি যেন টুংটাং শব্দ হয়। শব্দ শুনে কুকুরটা যেন চলে যায়। কুকুরটা নেমে গেছে। আমিও সিঁড়ি দিয়ে নামছি। গন্ধটা চারিদিক যেন মিশে গেছে।কিন্তু কুকুরটা নেমে কোথাও গেল না।সোজা আমার রুমের সামনে গিয়ে আসন গেড়ে বসেছে।আমি কুকুরটার মুখোমুখি।ওকে সরিয়ে রুমে ঢুকব কেমন করে? আমি আরো জোরে চাবির শব্দ করতে লাগলাম।কুকুরটা নিচে নেমে গেল।আমিও রুমে না ঢুকে নিচে নেমে গেলাম।সবুজ ঘাস ধরে হাঁটতে লাগলাম আর মনে মনে ভাবলাম কুকুরটার ভীষণ কষ্ট।কোন ওষুধ লাগাতে পারে না।ব্যথায় কুঁকড়ে যায়।ভাবতে ভাবতে সেই জায়গায় এসে থামলাম যেখান থেকে আমার রুমের জানালা দেখা যায়।এখানে এসে দেখলাম সেই কুকুরটি যে তাকিয়ে ছিল একমনে।
হাসলাম আর মনে মনে ভাবলাম কত সহজেই আমরা ভয় পেয়ে যাই।যে কুকুর প্রভুর ঘর পাহারা দেয় সেই কুকুরকে মারতে দ্বিধা করি না।প্রবাদের মত সত্যিই তাই উপকারী গাছের ছাল থাকে না।নিষ্ঠুর মানুষ জীবে দয়া করতে ভুলে যায়।সামান্য খাবার চুরি করলেও লাঠি কিংবা ইট দিয়ে পেটায়।মানুষ এবার তবে মানুষ হও।দয়া কর।সৃষ্টিকে ভালোবাসো স্রষ্টা তোমায় ভালোবাসবেন।
©রুবাইদা গুলশান
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১:৪৭
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। ভাবনা এক সময় সত্যি হয়ে গেলো।
দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×