somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন সুন্দর স্বদেশ নির্মাণে সচেষ্ট হই, যার যার অবস্থান হতে শিশুদের জীবন মান উন্নয়ন সহ প্রাণ প্রকৃতির জন্য কাজ করি

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিজয় দিবসে আমার মনটা বেশ ফুরফুরে থাকে, সারাদিনই মুখটা হাসি হাসি।
আমি জানি আমার মতন সকল বাংলাদেশীর মনেই বিজয়ের আনন্দ গর্ব অহংকার ছুঁয়ে থাকে। বিজয় আমাদের সবাইকে সুখ আনন্দ আর গভীর গর্বে ভাসায়। সবুজ বাংলাদেশের এই মানচিত্র আঁকতে গিয়ে আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পেয়েছি আমরা বাংলাদেশ, আজ তাদের স্মৃতির প্রতি নিবেদিত হবার দিন, আজ আমাদের বিজয়ের দিন।

আমি যখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র তখন শিশু সংগঠনের একজন ক্ষুদে সদস্য ছিলাম। আমরা স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে স্টেডিয়ামে যে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হতো সেখানে অংশ নিতাম। আরও অনেক শিশু কিশোর সংগঠন ছিল যারা নানা ধরনের শারীরিক কসরত দেখাতো, নানা ধরনের ডিসপ্লে হত। সব মিলিয়ে শিশু বেলায় সেই সময়টুকু ছিল প্রচণ্ড উচ্ছ্বাস আর আনন্দের। দিনে দিনে শৈশবের সেই আনন্দে বেড়েছে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বিজয় দিবসের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছি। জেনেছি অনেক কথা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। একটু যখন বড় হলাম তখন সব বন্ধুরা মিলে এই দিনটিতে ছুটে যেতাম সাভার। স্মৃতি সৌধে কাটাতাম দিনটি। মনে আছে প্রবল উত্তেজনা আর এক আকাশ উচ্ছ্বাস মিশে থাকতো আমাদের সবার মনে। খুব সকালে উঠতে হবে তারপর যাত্রা শুরু হবে। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবার পাশাপাশি স্বাধীনতা যুদ্ধের সব কথাই মন্ত্রমুগ্ধের মতন শুনতাম। তাদের বীরত্বের কথায় বুকটা ভরে উঠত। এভাবেই কৈশোরে মুক্তিযোদ্ধাদের কাহিনী আমাদের মধ্যে জাগিয়েছে গর্বিত হবার অদম্য স্পৃহা! আমরা বীরের জাতি। যুদ্ধ করে শত্রু মুক্ত করা দেশের মানুষ! এই গৌরব আমাদের ছুঁয়ে যেতো।

আমি জানি না এখনকার জেনারেশনের শিশু কিশোররা এভাবে ভাবে কিনা, অথবা এমন মনে হয় কিনা। আমরা এভাবেই শৈশব কৈশোরে দেশের প্রতি গভীর মমতা নিয়ে বড় হয়েছি। অবশ্য আমাদের সে সময়টায় রেডিও আর পরে সাদা কালো টিভি ছাড়া আর কোন মাধ্যম ছিল না। সেখানে যা প্রচারিত হতো আমরা সারা দেশের কিছু মানুষ শুধু সেগুলো শুনতে বা দেখতে পারতাম। তাই দিনের পর দিন সে দেশাত্মবোধক গান, মুক্তির গান, স্বাধীনতা আর বিজয়ের গান-কবিতা-সিনেমা-নাটক আমাদের মনে গভীর রেখাপাত করেছে। আমরা তাই খুব সহজে একাত্ম হয়ে উঠি। সেভাবে ভাবলে এখনকার পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। নানা মাধ্যমে শিশু কিশোর দের সময় কাটে। তার সময় কাটাবার অফুরন্ত জিনিস/মিডিয়া/মাধ্যম!! এরা বেড়ে উঠছে ভিন্ন আবহে। মন মনন চিন্তা চেতনায় তাই আমাদের ২/৩টি জেনারেশনের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।

বিজয়ের এই দিনটিতে আমি সাধারণত ঘুরাঘুরি করি, হাঁটি, সাধারণ মানুষের সাথে থাকি। শিশু কিশোর তরুণ তরুণী সহ সকলের মুখে প্রশান্তির হাসি, তৃপ্তি এবং গৌরবের ছায়া দেখি। ভালো লাগে। যদিও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমার আচার আচরণে অনেক পরিবর্তন এসেছে তবু বিজয়ে দিবসে শৈশব কৈশোরের সেই আনন্দের রেশটুকু এখনো অমলিন রয়েছে।

বিজয়ের শুভেচ্ছা সবাইকে।
আসুন সুন্দর স্বদেশ নির্মাণে সচেষ্ট হই, যার যার অবস্থান হতে শিশু জীবন মান উন্নয়ন সহ প্রাণ প্রকৃতির জন্য কাজ করি।
.
.
#বিজয়_দিবস_২০২২
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:৫৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হে মানবতাবাদী পোগোতিশীল বাঙ্গু সম্প্রদায়, অতঃপর তোমরা তোমাদের গুরুর কোন কোন ভণ্ডামোকে অস্বীকার করবে!

লিখেছেন প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন, ১৯ শে জুন, ২০২৪ বিকাল ৫:১১



০. হে মানবতাবাদী পোগোতিশীল বাঙ্গু সম্প্রদায়, অতঃপর তোমরা তোমাদের গুরুর কোন কোন ভণ্ডামোকে অস্বীকার করবে!

১. ইদানীং নতুন কিছু হিপোক্রেট দেখতে পাচ্ছি, যাদের কুরবানী নিয়ে অনেক সমস্যা, কিন্তু গোস্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিয়াল জেনারেশন প্রতিবাদ করতে জানে না!

লিখেছেন সোনাগাজী, ১৯ শে জুন, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৪৩



শেখকে যেদিন হত্যা করলো মিলিটারী, আমি তখন প্রবাসে, পড়ালেখা করছি; প্রবাসে ঘুম থেকে জেগেই সংবাদটা পেয়েছিলাম; সাথে ছিলো অন্য মৃতদের লিষ্ট। আমার মনে এলো, তাজউদ্দিন সাহেব বেঁচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির জন্য বাইডেনের শান্তি প্রস্তাব:

লিখেছেন মোহাম্মদ আলী আকন্দ, ১৯ শে জুন, ২০২৪ রাত ৯:৫২

৩১ মে ২০২৪ প্রেসিডেন্ট বাইডেন গাজায় স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির জন্য তিন পর্বে বাস্তবায়ন যোগ্য একটি শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছেন।

প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার ধাপগুলি যথাক্রমে --

প্রথম পর্ব:
প্রথম পর্বটি ছয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুত্র যখন ছাগল!

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৯ শে জুন, ২০২৪ রাত ১০:৪৪

ঈদ উপলক্ষে ফেসবুক আমাদের জন্য উপহার দিয়েছে নতুন নাটক "পুত্র যখন ছাগল!"

ঘটনার শুরুতে আমরা দেখতে পাই এক ছেলে পনেরো লাখ টাকা দিয়ে ছাগল কিনে বাপকে উপহার দিয়েছে।
এর আগে বাপকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেখে এলুম অষ্ট্রেলিয়া…পর্ব-১… [ ছবিব্লগ ]

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ২০ শে জুন, ২০২৪ ভোর ৪:৪৮


শুরুতেই ভাগ্যটাকে কষে একটা গাল দিলুম। পনের ঘন্টার একটানা আকাশ ভ্রমন, কোথায় ডানাকাটা পরীদের মুখ দেখতে দেখতে যাবো তা নয়, এতোখানি পথ যেতে হবে আধবুড়ো-বুড়ি কেবিনক্রুদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×