somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চটপটি বিক্রি করে কেউ কখনও দেউলিয়া হয়নি!

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৩ সন্ধ্যা ৭:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
নয়া উদ্যক্তাদের একটা সেমিনার থেকে বের হয়ে পলাশীর মোড়ে আড্ডা দিচ্ছিলাম। আকাশে একটু মেঘ, যে কোন সময় বৃষ্টি নামতে পারে।



সরোয়ার নামে এক ভাই এসেছিলেন উত্তরা থেকে। উনি হঠাৎ আড্ডার মধ্যে প্রশ্ন করে বসলেন, কোন ব্যবসায় লসের সম্ভাবনা নাই কিন্তু ম্যালা ম্যালা লাভ? সবাই একটু মাথা চুলকিয়ে বললো যে এমন করে বলা কঠিন।

আমাদের মধ্যে সরেস এক ভাই ছিলেন, উনি বললেন, চটপটি বিক্রি করে কেউ কখনও দেউলিয়া হয়নি!

পক্ষে বিপক্ষে বেশ আলোচনা হলো। শেষ পর্যন্ত সবাই মোটামুটি নিশ্চিত, হ্যাঁ চটপটির ব্যবসা বেশ লাভজনক, এবং এতে লসের সম্ভবানা খুব কম।

বিষয়টা ওখানেই শেষ হয়ে যেতে পারতো। কিন্তু মাস দুয়েক পর আমরা সরোয়ার ভাই থেকে একটা দাওয়াত পেলাম, চটপটি খাওয়ার দাওয়াত। পরে জানতে পারলাম যে আরও কয়েকজনকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। আমি তখন কল্যানপুর থাকি, আর ঐ সরেস ভাই থাকেন শ্যাওড়াপাড়া। দুজন এক সাথে চলে গেলাম।

লোকেশন মত গিয়ে দেখি অন্যরকম কান্ডকারখানা! আমরা ভাবেছিলাম হয়ত নামকরা কোন একটা জায়গায় দাওয়াত কিংবা হয়ত যাষ্ট একটা আড্ডা। কিন্তু না, সরোয়ার ভাই নিজেই চটপটির দোকান খুলে বসেছেন! সেটার উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান।

মূলত উনাদের বাড়ির নিচেই একটা দোকানের জায়গা করা ছিলো। উনি দোকানটা কাউকে ভাড়া না দিয়ে চটপটির দোকান খুলে বসেছেন।

আমার জানা মতে উনি ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই ব্যবসার সাথে ছিলেন। মূলত পরিচালনা করাতেন উনারই এক কাজিনকে দিয়ে। এর পর অবশ্য উনার সাথে আর তেমন যোগাযোগ নাই। শুনেছি তিনি নাকি অন্য কোন দেশে থাকেন।

আমার এলাকায় একজন ছিলো, আব্দুর রহমান নামে। ভদ্রলোক অশিক্ষিত, তার বড় ছেলেও অশিক্ষিত। বাপ-ব্যাটার দুইটা চটপটির দোকান ছিলো, ভ্রাম্যমান। সকালে বাপ দোকান দিতো গার্লস স্কুলের সামনে, আর ছেলে বয়েজ স্কুলের সামনে। বিকালে বাপ বসতো বাজারের দক্ষিন মাথায়, ছেলে বসতো উত্তর মাথায়। যদ্দুর জানি তাদের দুইটা পাঁচতলা বাড়ি আছে। আর বাকি ৪টা ভাইবোনের সবাই ডাক্তার, উকিল ও ইঞ্জিনিয়ার!

আর এক লোকের কথা বলি। মিরপুর ১১তে আমার অফিস, অফিসের উল্টাপাশে একটা স্কুল। সেই স্কুলের সামনেই দাড়াতো এক ছেলে, ঝালমুড়ি আর আমড়া (অথবা সিজনাল ফল, যেটা মাখিয়ে খাওয়া যায়) নিয়ে। একদিন গল্পে গল্পে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে তার মাসে ৩০হাজার ইনকাম আছে কি না। সে বললো, না মামা, ৩০ এ কি দুইটা সংসার চলে?

দুইটা মানে? তাকে জিজ্ঞাসা করতেই উত্তর করলো, একটা এখানে (ঢাকাতে) অন্যটা চাঁদপুরে। ১-২৫ তারিখ ঢাকা থাকি, বাকি ৫/৬দিন থাকি চাঁদপুর।

সেদিন মনে প্রশ্ন জেগেছিলো, যারা চাকরী করে টাকা ইনকামের উদ্দেশ্যেই লেখাপড়া করে, তারা কেন এমন কোন একটা কাজে নেমে যায় না? কিসে বাঁধে তাদের?

Photo by Radowan Nakif Rehan on Unsplash
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ১:৩১
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×