শুক্রানু খুজতভ আর ফাজিরুলের খুব শখ তার ডিম্বানুর সাথে মিশে একটি শিশু তৈরি করতে চায়। যেহেতু প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী সবচেয়ে ফার্ষট এবং সবচেয়ে শক্তিশালী শুক্রানুরটি ডিম্বানুর সাথে মিশার কথা তাই খুজতভ আর ফাজিরুল শুরু করল ব্যায়াম করল। দিন যায় রাত যায় খুজতভ আর ফাজিরুল শুধু ব্যায়াম করে আর দৌড় প্র্যাকটিস করে। তো একদিন সেই জায়গা গরম হইয়া গেলো, শুক্রানু সমাজে সাজ সাজ রব, যেতে হবে যুদ্ধে, চাপ বাড়চে। খুজতভ আর ফাজিরুল, সবার আগে ঝাপাইয়া পড়ল। দৌড়াতে লাগল তারা যেহেতু ডিম্বানুর সাথে তারা সবার আগে যাইতে পারে। শুক্রানু খাঝুয়াল, খজলু হাতজন আর খচুরখুজ পিছাইয়া পড়ল দৌড়ে, খুজতভ আর ফাজিরুল সবার আগে গেলো সুপার ফারষ্ট। কিন্তু খুজতভ আর ফাজিরুল যত জোরে আগাইয়া গেসিলো তার চেয়ে জোড়ে ফেরত আসন শুরু করল। শুক্রানু খাঝুয়াল, খজলু হাতজন আর খচুরখুজ আশ্চর্য হইয়া গেলো তারা জিগাইলো খুজতভ আর ফাজিরুল তোমরা ফিরাইয়া আসতোসো কেন? খুজতভ আর ফাজিরুল কইল আর কইওনা ব্যাটা হাত মারতাসে, হাত মারলে ডিম্বানু কই থেইকা আসব ?
আমগো সমাজে সবাই হাত মারে, সবারই প্রাকৃতিক নিয়মে, একটা আর্জ অনুভব করে। কিন্তু সবাই এমন ভান করে যে হাত মারা মারাত্মক গর্হিত কাজ। ধর্মে মানা আচে বইলা মৌলভিরা সব সময় বলে, কিন্তু ধর্মে আজুল করন যাইব বইলা পারমিশন আচে। আজুল আর হাত মারা পার্থক্য বুঝতে আমি সাধারন মানুষ অক্ষম।
সাধারন মানুষের মত আমি হাত মারা আবিষ্কার করলাম। বেশ মজার ব্যাপার,অনেক বলে থাকেন যে আমরা নিজেকে ভালবাসতে পারিনা, ঘটনা হলে সেল্ফ লাভ ইজ দ্যা বেস্ত ফরম অব লাভ। কিন্তু আমাদের সমাজে এ লাভ ইজ এ ওপেন সিক্রেট, বাসে আমরা "আগা মোটা গোড়া চিকন" বিষয়ক লিফলেট বিলাতে পারি কিন্তু হাত মারার সুফল বা কুফল সম্পর্কে আলোচনা করলে আমাদের সমাজের ডেলিকেট ব্যালেন্ষ নষ্ট হয়। নষ্ট সমাজ শিয়ালের তেল আর ধনেশ পাখির তেল দিয়ে যৌবন কে ফিরিয়ে আনতে ইচ্ছুক কিন্তু একটি কিশোর কে সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে জানতে দিতে অনিচ্ছুক। আমি এ পর্যন্ত প্রচুর ছেলেকে বলতে শুনছি তারা হাত মারেনা। ডাক্তারি শাস্ত্র অনুযায়ি সেটা অসম্ভব কেননা স্বপ্ন দোষের বড় কারন হাত না মারা। একন কারো স্বপ্ন দোষ হয়না এটা কেউ একনও দাবী করেনাই।
আমাদের দেশে হাত মারা সবচেয়ে পসন্দসই জায়গা অবশ্যই গোসলঘর।যে পরিমান শুক্রানু গোসল ঘরে প্রান হারায় সেটার জন্য শুক্রানু সমাজ প্রটেকটেড স্পিসেস প্রটেকশন দাবি করতে পারি। আমরা বাংলাদেশীরা হাত মারাকে মনে করি এক ধরনের মানসিক বিকার কিন্তু অস্বীকার করি এ মানসিক বিকারে আমরা সকলে অল্প বিস্তর আশক্ত।
রিপুর যাতনা ছেলেবেলায় ৭ (কঠোর ভাবে প্রাপ্ত বয়স্কদেরএবং প্রাপ্তমনষ্কদের জন্য)
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২১টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।
যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?
আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।
দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।
ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন
কটা দুলাল

বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন পর্ব -১

(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।