somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অল্প আয়রে মানুষরে কি হবে?

২৬ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্যবসার নামে দেশে রীতিমত লুটপাট চলছে। পণ্যের বাজারের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ভোক্তা সাধারণ ব্যবসায়ীদের হাতে পণবন্দি। নালিশ করার কোন জায়গা নেই তাদের। এক এক সময় এক এক ইস্যু তুলে বাজারে লুটপাট চলে। যেমন জমি থেকে কেনা ৪০ টাকার কাঁচা মরিচ রাজধানীর বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে সম্প্রতি বিক্রি হয়েছে। ৩০/৩৫ টাকা দরের শসা ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, হচ্ছেও। আমদানিকৃত র' চিনি হোয়াইট (সাদা চিনি) করা পর্যন্ত খরচ পড়ছে (ট্যাক্সসহ) ৩৮/৩৯ টাকা। পাইকারী বিক্রি ৪৫/৫০ টাকা। কেজি গড়ে (পাইকারী) লাভ ১০ টাকা। গত রমযান মাসে হয়েছে ৩০/৩২ টাকা। আবার খুচরা বিক্রেতারা লাভ করছে ৮/১০ টাকা। আলু কেজি ১৭ টাকায় কেনা। বিক্রি পাইকারী ২৮/২৯ টাকা। কেজিতে পাইকারী লাভ ১০/১২ টাকা। এক হালি ডিমের উৎপাদন খরচ ২২ টাক, বিক্রি পাইকারী ২৬ টাকা। প্রতি কেজি পেয়াজ আমদানিতে (ট্যাক্সসহ) ২৩/২৪ টাকা। পাইকারী বিক্রি ২৮ থেকে ৩৩ টাকা। প্রতিটি পণ্যেই চলছে এ ধরনের অস্বাভাবিক মুনাফা।
পণ্যের বাজারে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অথচ সব দেশেই রয়েছে পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। প্রতিবেশি ভারত, পাকিস্তানেও একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পণ্যের মজুদ, সরবরাহ এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। ভোক্তার সেবায় সরকার এটিই হচ্ছে তাদের নীতি। আর বাংলাদেশে চলছে উল্টানীতি। বাজার অস্থিতিশীল হলেই সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করে না। আর ব্যবসায়ীরা বলেন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেছে।খুচরা বিক্রেতারা বলেন, পাইকারী দাম বেশি। অর্থাৎ কেউ দায় নিতে রাজি নন।
এদিকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের মাথায় হাত। তাদের আয়-ব্যয়ের মধ্যে বৈষম্যে বাড়ছেই। অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের ভোক্তা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার দিল দ্রব্যমূল্য কমিয়ে এনে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা। কিন্তু বাস্তব অবস্থা বিপরীতমুখী। প্রতিনিয়ত বাড়ছে নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সরকারি বাণিজ্যিক সংস্থা টিসিবি'র মনিটরিং রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত এক মাসে চালের দাম ৪.৪৮ থেকে ৫.৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আটা-ময়দার দাম ১.৭৫ থেকে ২.৩৮ শতাংশ বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৪৮ শতাংশ আর রসুনের দাম ২৩ শতাংশ বেড়েছে। এমনিভাবে সকল ভোগ্য পণ্যের দামই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পণ্যের বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার নানা উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে কোন কিছুই নেই। তবে যা আছে কাগজপত্রে। আর কাগজপত্রে আছে বাজার মনিটরিং করা। আর পরিস্থিতি বেসামাল হলে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এতে লাভবান হয় ব্যবসায়ীরা, লোকসান সরকার ও জনগণের। ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে আমদানি শুল্ক কমিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। সম্প্রতি চিনির ক্ষেত্রে এমনটিই হয়েছে। ব্যবসায়ীদের চাপে চিনির আমদানি শুল্ক কমানোর ফলে কয়েক শত কোটি টাকা সরকারকে গচ্ছা দিতে হয়েছে। এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্য সংস্থা টিসিবিকে কার্যকর করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তেমন কিছুই করা হচ্ছে না। টিসিবিকে স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ থেমে গেছে। এখানেও চলছে নাটকীয়তা। সিদ্ধান্ত নেয়া হয় কিন্তু কার্যকর করা হয় না। ভোক্তা অধিকার রক্ষা আইন কবে কার্যকর হবে, তাও জনগণ জানে না।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:৪২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×