somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অদ্ভূত এক মৃত্যুচেয়ার!

২৫ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ৮:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বসার জন্যই চেয়ার। আরাম আয়েশের জন্যই চেয়ার ব্যবহার করা হয়। আর সে চেয়ারই আপনার আরাম আয়েশ হারাম করে দিতে পারে। সেই চেয়ার যদি হয় মৃত্যুচেয়ার তাহলে কেমন লাগবে আপনার। এমন চেয়ারের কাহিনী কেউ শুনেছেন কি-না তা বলাই বাহুল্য। এমনই এক অভিশপ্ত চেয়ার আছে দুনিয়ায়। চেয়ারটা কেমন করে অভিশপ্ত হলো তা নিয়েও রয়েছে এক গল্প। সেই ১৬৬৯ সালের কথা। থমাস বাসবি নামে এক লোককে অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তার শেষ ইচ্ছা জানতে চাওয়া হয়। তিনি অতিপ্রিয় পানশালাতে গিয়ে নিজের প্রিয় চেয়ারে বসে জীবনের শেষ খাবার খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। খাবার শেষ করে তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান এবং বলেন, এ চেয়ারে যে বসবে সে হঠাৎ করেই মারা যাবে। এরপর দুইশ’ বছর পার হয়ে গেলেও চেয়ারটি সেই পানশালাতেই রয়ে যায়। কেউ চেয়ারটিতে বসতো না। কারো সাহস হয়নি ওই চেয়ারে বসার। এ ঘটনা ঘটলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। একজন বৈমানিক সেই পানশালাতে এসে সেই অভিশপ্ত চেয়ারে বসলেন। এরপর তিনি যুদ্ধে গেলেন আর ফিরে আসেননি। যে সেনাই ওই চেয়ারে বসেছে তার পরিণতিই একই হয়েছিল। ১৯৬৭ সালে ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর দুই পাইলট ওই চেয়ারে বসেছিলেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে পানশালা থেকে বের হয়েই তারা ট্রাক দুর্ঘটনায় মারা যান। ১৯৭০ সালে এক স্থপতি ওই চেয়ারে বসে অভিশাপ প্রমাণ করতে চেষ্টা করেন। সেদিনই বিকেলে তিনি এক গর্তে পড়ে মারা যান। এরপর আরেক ছাদ ঢালাইকারী ওই চেয়ারে বসেছিলেন। তিনি ছাদ থেকে পড়ে মারা যান। এক মহিলা মারা যান মস্তিষ্কের টিউমারে। তিনি ওই চেয়ারে বসেছিলেন। এমন ঘটনা একের পর এক ঘটতে থাকে। এমনসব ভয়াবহ ঘটনা দেখে পানশালার মালিক চেয়ারটি বেসমেন্টে রেখে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যে লোকটি চেয়ার বহন করছিলেন তিনি বেসমেন্টে গিয়ে বিশ্রাম নিতে চেয়ারের ওপর বসেন। সেদিনই এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। পরে ১৯৭২ সালে চেয়ারটি নিয়ে যাওয়া হয় ইংল্যান্ডের উত্তর ইয়র্কশায়ারের স্থানীয় জাদুঘরে। তবে ওটা জাদুঘরও নয়, বাসবি স্টপ ইন নামের সরাইখানা। এমনসব ভয়ানক ঘটনার কারণে চেয়ারটি মাটি থেকে ৫ ফুট উপরে ঝুলিয়ে রেখে প্রদর্শন করা হচ্ছে। তিনশ’ বছরেরও বেশি সময় ধরে অভিশপ্ত চেয়ারটি নিয়ে কত না কাহিনী। কিন্তু আজও সেই কাহিনী অজানাই রয়ে গেল। রহস্যেঘেরা সেই চেয়ারটি নিয়ে শুধু ইতিহাস হয়ে থাকবে।
সুত্র: প্রথমবার্তা
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ৮:০৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাকে শত্রু ভাবছেন, সে হয়তো আপনার জীবনের একজন পথপ্রদর্শক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

গানঃ সামু একটি ছোট নৌকা
https://suno.com/s/ckWb25lfp1xBLIzc
==============



একটা পুরনো গল্প বলি। একটি বনে কিছু বাঁদর আর বেবুন বাস করতো। সেই বনের পাশেই একটি ভুট্টার ক্ষেত ছিলো। বাঁদর আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষার উপভাষা নয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩


বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা। বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষা থেকে আসে নাই, এটা মেনে নিতে হবে। কারণ, ইতিহাসে আছে, ভারতবর্ষে আর্যদের আসার আগেও 'বঙ্গ' নামের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি ভূমি'র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭

জাতীয় জন্মসনদে ভুলের ভূত আর সাভারের জালিয়াতি চক্র: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কি কোনোদিন থামবে না?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০০



আজ ৬ অক্টোবর, জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। অথচ বাস্তবতা যেন এই স্লোগানের একদম উল্টো! সরকারি নথিতে যখন সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×