somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নুরএমডিচৌধূরী
আসলে আমার নিজের সমন্ধে কিছু বলার নেই । আমি অতি সাধারণ একজন মানু------------------

যুদ্ধ ও জীবন-৭১

২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুদ্ধ ও জীবন-৭১ (পর্ব-১)

-নূর এমডি চৌধুরী

চারিদিকে মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজ । কোন এক কাজে রনাঙ্গন থেকে বাসায় ফিরেছে ক্লান্ত হাসেম গাজী । বড়ই ক্ষুধার্ত ।
ভাতের ক্ষুধার কথাটাই বলি।মনের ক্ষুধা সে কথা নাই বা বলি । বিয়ের বয়স তার ছয় মাস আর যুদ্ধে অবস্থান তিন মাস তের দিন ।
যুদ্ধে যাওয়ার পর এই প্রথম দেখা স্ত্রী হোমাইরার সাথে ।
হাসেম গাজী যুদ্ধের দাবানল চালিয়ে যতটা না রোগাক্রান্ত হোমাইরা যেন তার চেয়েও বেশি । মুখ পানে যেন তাকানোই যাচ্ছেনা ।
আর যাবেই বা কি করে যে চোঁখ সহস্র লাশের প্রত্যেক্ষ সাক্ষী।
বাবার ঝুলন্ত লাশ । মায়ের ছিন্ন ছরা রক্তাক্ত দেহ । আপনজন সকলের এক এক রহস্যময় মৃত্যু ।
বয়স তার খুব বেশি নয় । চৌদ্দ কি পনের হবে । যৌবনের দ্বারপ্রান্তে আসিতে না আসিতেই শুরু হল জীবন সংগ্রাম । মৃত্যুর দাবানল স্বীকার হল এক এক করে আপন জন প্রতিবেশী সকলেই । নিজেকে দফায় দফায় সমর্পিত করতে হল পাক কমান্ডারের হাতে । অস্তিতবে তার কলঙ্কের কত দাগ যে লেপন হল তার হিসেব মেলা ভার । সে এখন অন্তঃসার শুন্য । মাঝে মধ্যে ভেবেছে এই জীবন্টা একেবারেই শেষ করে দেই । কিন্তু হাসেম গাজীর কথা ভেবে একবার শেষ দেখার নিগুঢ় প্রত্যাশায় আজও সে বেঁচে আছে ।
হাসেম গাজী এসেছে । যার প্রতিক্ষায় প্রহর গুনেছে অহর্নিশি যার মুখ দর্শন প্রত্যাশায় নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছে । সেই গাজী এসেছে ।
ঘরের দোয়ারে নয় একেবারে মনের দোয়ারে ।
বাড়ির আঙ্গিনায় নয় একান্ত মনের আঙ্গিনায় ।

হোমাইরা যেন স্থবির । ঘোমটা দিয়ে মুখ খানা ঢেকে রেখেছে । মাথাটা একেবেরেই নত । যেন কি অপরাধে সে আজ কাঠগড়ায় দন্ডায়মান ফেরারি আসামি । হাসেম গাজী বারান্দায় থেকে ঊঠানে গিয়ে বসে। পেটের ক্ষুধা যেন বরফে পরিনত হয় । বউ হোমাইরার নত শীর আর নীরবতা তাকে আর বুঝতে বাকি রাখেনা এতোটুকু । হাজারো প্রশ্নের কোন জবাব গাজী পায়নি । বাবা কোথায় মা কোথায় দাদা,দাদি চাচা,চাচী ভাই বোন আত্মীয়সজন। ওরা কোথায়?
প্রশ্ন চলে প্রশ্নের নিয়মে নীরবতা যেন গহীন থেকে গহিনতর হয় । সরলা হোমাইরা স্তব্ধ হয়ে যায় নিমিষেই । কোথায় এতোদিনের সপ্নের মানুষটারে ভালবেসে বোকে জড়াবে তা না করে যেন ঘৃণায় নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে ।

ঘৃণা ! সত্যিই ঘৃণা আর লজ্জায় সরলা লজ্জাবতি আজ নুয়ে পড়েছে । মন্থর পৃথিবীতে সত্যিই নিজেকে বড় অপরাধী মনে করছে । যে মনে বাতাবি ঘ্রাণ এতোটা দিনে লালন করে রেখেছিল সে ঘ্রাণ যেন বড়ই বাশি হয়েছে।
হাসেম গাজী বিড়ি টানে একের পর এক টেনেই যাচ্ছে। মা নেই বাবা নেই কেউ নেই। যার মুখে হাসি ফোটাবে বলে নিজেকে করেছে সমর্পণ। গিয়েছে যুদ্ধে।। ঘরে অবলা স্ত্রী রেখে নিজেকে দাড় করেছে রনাঙ্গনে। আর সে রন বীরের স্ত্রী আজ বিরঙ্গনা।

ওরে ও মুক্তি সেনা জবাব দেনা অশ্রু হাসে
কোথায় মোর মা জননী জন্ম ভুমি সর্বগ্রাসে।

চোখের পানি তো আর পানি নেই,চোখ যেন রক্তের আভা।আগুনের স্ফুলিঙ্গ যেন জমাট বেঁধেছে ।
নীরবতা,নীরবতা নীরবতা। এভাবে আর নীরব থাকিস নারে বউ। নীরব থাকিস না। কি হয়েছে বল। আমাকে বাঁচতে দে বউ আমাকে বাঁচতে দে...কান্নায় কাতর হাসেম গাজী।
অকস্যাৎ জড়িয়ে ধরে স্ত্রী হোমায়রা কে । হোমাইরা নিজেকে আড়াল করতে চায় ।
স্বামী! দোহায় তোমার আমাকে স্পর্শ করোনা । আমাকে ছুঁইয়ো না । আমি কলঙ্কিনি,আমি হতভাগিনি,আমি বিরোঙ্গিনা ।
আমি তোমার সম্পদ রাখতে পারিনি । শুধু একটি বার তোমায় দেখে পরপারে যেতে চেয়েছি বলে বিধাতা সে কথা রেখেছেন । আজ আর আমার কোন আশা নেই কোন সাধ নেই নেই কোন আহল্লাদ নেই কোন চাওয়া পাওয়া । আমাকে তুমি অনুনয় বিনয় করো না স্বামী । আমি তোমার পায়ে পড়ি আমায় যত পার প্রহার কর রক্তাক্ত কর।আমায় গলা টিপে মেরে ফেল।

পৃথিবী যেন নির্বাক।নির্বাক যেন পৃথিবীর মানূষ গুলু। সারা বাংলার আকাশ বাতাসে লাশ আর লাশের গন্ধ । রক্তের নদী বয়ে চলেছে বাংলা জোড়ে ।
হোমায়ারার মত লাখো রমনী তখন নির্যাতিত,নিস্পেশিত,কলংকিত,মৃত ।
সুন্দর পৃথিবীতে কে না বাঁচিতে চায় । কার না সাধ হয় স্বামীর চরন তলে মাথা রাখতে । কত নির্মমতার স্বীকার হলে একটি প্রাণ ঝরে যেতে চায়, ঝরে যায় তা যে প্রাণ ঝরেছে সে প্রাণই জানে ।

সোহাগ গাজী প্রশিক্ষন প্রাপ্ত একজন মুক্তি যোদ্ধা । রন কৌশলের পাশাপাশি কমান্ডার শিখিয়েছে পরিস্থিতি কি করে মোকাবিলা করতে হয় । মন তার আবেগের মুখোমুখি হলেও প্রশিক্ষণ তাঁকে ফিরিয়ে আনে নির্মম কঠিন বাস্তবতা্র দিকে।



চলবে......।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:০৭
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×