somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গণেশের সাক্ষ্যের পর মাওলানা সাঈদী কেন এখনও জেলে! ওরে মজলুম খোদার আদালতই বিচার চাও…

০২ রা নভেম্বর, ২০১২ রাত ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আওয়ামী লীগের দায়ের করা যুদ্ধাপরাধ মামলায় মজলুম মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল ৭১


এ সংখ্যালঘু ভাগিরথী সাহাকে হত্যা করা। সাঈদীর বিরুদ্ধে সরকারি আইনজীবীদের অন্যতম প্রধান আভিযোগও ছিল এটি। সেই ভাগিরথী সাহার ছেলে গণেশ

চন্দ্র সাহা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে গত ২৪ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে এসে বলে গেলেন‌ ‘আমার
মাকে সাঈদী সাহেব হত্যা করেনি। তাকে হত্যা করেছে পাকিস্তানি আর্মি। সাঈদীর
বিরুদ্ধে আমার মা হত্যার যে অভিযোগ সরকার এনেছে তা মিথ্যা। আমি
ট্রাইব্যুনালে আজ এ সত্য কথাটা বলতে এসেছি। ৭১ এ আমার মা হত্যায় সাঈদী
সাহেবের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোন ভূমিকা ছিল না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তবে কি আপনি এলিয়েন??

একটু চিন্তা করেন, ভাগিরথী সাহাকে কে হত্যা করেছে এ কথাটা তার উদরের সন্তানের নাকি আওয়ামী লীগের টাকায় কেনা আইনজীবীদের ভাল জানার কথা? ছেলে যখন তার মার হত্যার দায়
থেকে একজনকে মুক্তি দেন তখন আদালতে এ হত্যার দায়ে কারো বিচার চলতে পারে
কি? কিন্তু আমাদের ট্রাইব্যুনালে তাই চলছে। এটাকে আর যাই বলা হোক বিচার
বলা যায় না! স্রেফ তামাশা চলছে বিচারের নামে।

মাওলানা সাঈদীকে গণেশের নির্দোশ সার্টিফিকেট দেয়ার পরও তার বিরুদ্ধে
কিভাবে মামলা চলে আমাদের সাধারণ সেন্সে বোঝে আসে না। সরকার মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে
আনা এক বস্তা অভিযোগের মধ্যে একটি অভিযোগের পক্ষেও প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাউকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে
পারেনি। সরকারের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে পুরো ব্যাপারটাই চরম খেলো। মন
চাইলেতো যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কাউকে আটক করলো। তারপর শুরু হলো এক প্রকার ফাজলামি।

সরকার টাকায় ভাড়া করে যেসব সাক্ষীকে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য
দিতে নিয়ে আসলো তারা কেউই নিজ চোখে মাওলানা সাঈদীকে অপরাধ করতে বা কোন অপরাধে
সাহায্য করতে বা ৭১ এর যুদ্ধকালীন নয় মাস নিজ চোখে দেখেননি! দেশ স্বাধীন
হওয়ার পর পত্রিকা পড়ে বা লোকমুখে জেনেছেন মাওলানা সাঈদী অপরাধের সঙ্গে
জড়িত ছিলেন। আচ্ছা বলেনতো এমন সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কি একজন মানুষের বিরুদ্ধে
মামলা চলতে পারে?

অবাক ব্যাপার হচ্ছে, এই গণেশ সাহাকে সরকারি আইনজীবীরা পলাতক, খুঁজে পাওয়া
যাচ্ছে না—দাবি করে মাওলানা সাঈদীকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে গণেশ চন্দ্র সাহার নামে তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থাপিত জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে নেয়ার আবেদন জানিয়েছিল ট্রাইব্যুনালে।
ট্রাইব্যুনাল কোন যুক্তি না শুনে সে জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণও
করেছিল। শুধু গণেশ নয় গনেশের মতো এমন পনের জনের জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে
নেয় ট্রাইব্যুনাল।

সেই অভাগা গণেশ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে প্রমাণ করলেন, তার নামে দেয়া
তদন্ত কর্মকর্তার লিখিত জবানবন্দি ও সরকারপক্ষের দাবি সত্য ছিল না।
সরকারপক্ষের তালিকাভুক্ত সাক্ষী গণেশ চন্দ্র সাহা ট্রাইব্যুনালকে
জানালেন, তদন্ত কর্মকর্তার শেখানো কথামত সাক্ষ্য দিতে রাজি ছিলাম না বলেই
আমাকে পলাতক ও নিখোঁজ দেখিয়েছিল সরকারপক্ষ। তার এমন সাক্ষ্যের ফলে সেদিন চরম বিব্রতকর অবস্থায়
পড়ে সরকার ও ট্রাইব্যুনাল। বলেনতো গণেশের এমন সাক্ষ্যের পর সাঈদীর বিুরদ্ধে
যে ১৫ পনের জনের জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল আদালত, এসবের সবগুলো কি
বরবাদ হয়ে যায় না। পুরো বিষয়টা কি আমাদের কাছে হাস্যকর ঠেকে না?

রাজনৈতিভাবে দুর্বল প্রতিপক্ষ মাওলানা সাঈদীরা। আর মানুষ হিসেবে চেতনাহীন
দেশে বাস আমাদের। তাই এতসবের পরও তিনি কারাগারে আছেন। জেগে উঠেনি মানুষের বিবেক ।
কেউ প্রশ্ন তুলোনি সরকারের এ স্বৈরাচারি আচরণ নিয়ে। কেউ রাজপথে এখনও
মুক্তি চায়নি এ মজলুম জননেতার।

কিন্তু খোদারতো একটা আদালত আছে। সে আদালতের বিচার এড়ায় এমন সাধ্য কার। আজ
লজ্জ্বিত মুখে, শরমের মাথা খেয়ে এ মজলুম মাওলানাকে বলি, ওরে আল্লার আদালতে
বিচার চা। আল্লার কারাগার বড় কারাগার। আর মাওলানা তুমি ক্ষমা করে দিও আমাদের মতো
অথর্বদের। আমরা অন্যায়টা জেনেও প্রতিবাদতো দূরের কথা মুখ ফোটে সত্যটা
বলার সাহসই করলাম না!
৩৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×