এ সংখ্যালঘু ভাগিরথী সাহাকে হত্যা করা। সাঈদীর বিরুদ্ধে সরকারি আইনজীবীদের অন্যতম প্রধান আভিযোগও ছিল এটি। সেই ভাগিরথী সাহার ছেলে গণেশ
চন্দ্র সাহা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে গত ২৪ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে এসে বলে গেলেন ‘আমার
মাকে সাঈদী সাহেব হত্যা করেনি। তাকে হত্যা করেছে পাকিস্তানি আর্মি। সাঈদীর
বিরুদ্ধে আমার মা হত্যার যে অভিযোগ সরকার এনেছে তা মিথ্যা। আমি
ট্রাইব্যুনালে আজ এ সত্য কথাটা বলতে এসেছি। ৭১ এ আমার মা হত্যায় সাঈদী
সাহেবের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোন ভূমিকা ছিল না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তবে কি আপনি এলিয়েন??
একটু চিন্তা করেন, ভাগিরথী সাহাকে কে হত্যা করেছে এ কথাটা তার উদরের সন্তানের নাকি আওয়ামী লীগের টাকায় কেনা আইনজীবীদের ভাল জানার কথা? ছেলে যখন তার মার হত্যার দায়
থেকে একজনকে মুক্তি দেন তখন আদালতে এ হত্যার দায়ে কারো বিচার চলতে পারে
কি? কিন্তু আমাদের ট্রাইব্যুনালে তাই চলছে। এটাকে আর যাই বলা হোক বিচার
বলা যায় না! স্রেফ তামাশা চলছে বিচারের নামে।
মাওলানা সাঈদীকে গণেশের নির্দোশ সার্টিফিকেট দেয়ার পরও তার বিরুদ্ধে
কিভাবে মামলা চলে আমাদের সাধারণ সেন্সে বোঝে আসে না। সরকার মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে
আনা এক বস্তা অভিযোগের মধ্যে একটি অভিযোগের পক্ষেও প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাউকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে
পারেনি। সরকারের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে পুরো ব্যাপারটাই চরম খেলো। মন
চাইলেতো যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কাউকে আটক করলো। তারপর শুরু হলো এক প্রকার ফাজলামি।
সরকার টাকায় ভাড়া করে যেসব সাক্ষীকে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য
দিতে নিয়ে আসলো তারা কেউই নিজ চোখে মাওলানা সাঈদীকে অপরাধ করতে বা কোন অপরাধে
সাহায্য করতে বা ৭১ এর যুদ্ধকালীন নয় মাস নিজ চোখে দেখেননি! দেশ স্বাধীন
হওয়ার পর পত্রিকা পড়ে বা লোকমুখে জেনেছেন মাওলানা সাঈদী অপরাধের সঙ্গে
জড়িত ছিলেন। আচ্ছা বলেনতো এমন সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কি একজন মানুষের বিরুদ্ধে
মামলা চলতে পারে?
অবাক ব্যাপার হচ্ছে, এই গণেশ সাহাকে সরকারি আইনজীবীরা পলাতক, খুঁজে পাওয়া
যাচ্ছে না—দাবি করে মাওলানা সাঈদীকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে গণেশ চন্দ্র সাহার নামে তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থাপিত জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে নেয়ার আবেদন জানিয়েছিল ট্রাইব্যুনালে।
ট্রাইব্যুনাল কোন যুক্তি না শুনে সে জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণও
করেছিল। শুধু গণেশ নয় গনেশের মতো এমন পনের জনের জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে
নেয় ট্রাইব্যুনাল।
সেই অভাগা গণেশ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে প্রমাণ করলেন, তার নামে দেয়া
তদন্ত কর্মকর্তার লিখিত জবানবন্দি ও সরকারপক্ষের দাবি সত্য ছিল না।
সরকারপক্ষের তালিকাভুক্ত সাক্ষী গণেশ চন্দ্র সাহা ট্রাইব্যুনালকে
জানালেন, তদন্ত কর্মকর্তার শেখানো কথামত সাক্ষ্য দিতে রাজি ছিলাম না বলেই
আমাকে পলাতক ও নিখোঁজ দেখিয়েছিল সরকারপক্ষ। তার এমন সাক্ষ্যের ফলে সেদিন চরম বিব্রতকর অবস্থায়
পড়ে সরকার ও ট্রাইব্যুনাল। বলেনতো গণেশের এমন সাক্ষ্যের পর সাঈদীর বিুরদ্ধে
যে ১৫ পনের জনের জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল আদালত, এসবের সবগুলো কি
বরবাদ হয়ে যায় না। পুরো বিষয়টা কি আমাদের কাছে হাস্যকর ঠেকে না?
রাজনৈতিভাবে দুর্বল প্রতিপক্ষ মাওলানা সাঈদীরা। আর মানুষ হিসেবে চেতনাহীন
দেশে বাস আমাদের। তাই এতসবের পরও তিনি কারাগারে আছেন। জেগে উঠেনি মানুষের বিবেক ।
কেউ প্রশ্ন তুলোনি সরকারের এ স্বৈরাচারি আচরণ নিয়ে। কেউ রাজপথে এখনও
মুক্তি চায়নি এ মজলুম জননেতার।
কিন্তু খোদারতো একটা আদালত আছে। সে আদালতের বিচার এড়ায় এমন সাধ্য কার। আজ
লজ্জ্বিত মুখে, শরমের মাথা খেয়ে এ মজলুম মাওলানাকে বলি, ওরে আল্লার আদালতে
বিচার চা। আল্লার কারাগার বড় কারাগার। আর মাওলানা তুমি ক্ষমা করে দিও আমাদের মতো
অথর্বদের। আমরা অন্যায়টা জেনেও প্রতিবাদতো দূরের কথা মুখ ফোটে সত্যটা
বলার সাহসই করলাম না!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


