
এতদিন আইএস এর ওপর একযোগে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। খুব একটা সাফল্য যে এসেছে তা নয়। যুক্তরাষ্ট্র আসলে "ধীরে চলো" নীতিতে এগুচ্ছিলো। একবারেই সব দিয়ে না দিয়ে কিস্তিতে কিস্তিতে দিয়ে বাড়তি সুবিধা আদায় আর কি! যুক্তরাষ্ট্র চাইছিলো সিস্টেমে সিরিয়ার বাশার আল আসাদ সরকারকে চাপে ফেলে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে নতুন কাউকে বসিয়ে (যে তার কথা শুনবে) তারপর আইএসকে মরণ কামড় দেবে। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে। এক, সোশ্যালিজম উৎখাত করে সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠা। দুই, ক্রমশ যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের হুমকি হয়ে ওঠা আইএসকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সেই সাধ পূরণ হচ্ছে না এত সহজে, অন্তত যতদিন বাশারের বন্ধু কমিউনিস্ট-সোস্যালিস্টদের ভরসা সাম্রাজ্যবাদের শত্রু পুতিন আছেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের আগের সেই জৌলুষ নেই ঠিক, কিন্তু বাঘ তো বাঘই হয়। এতদিন হামলাকারী জোটের বাইরে থেকে কথা বলে এসেছেন পুতিন। তাঁকে বাইরে রাখাটাই হয়তো ভালো ছিলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুট করে বলে বসলেন, পুতিন নাকি খরচ করতে রাজি নয়, শুধু বাইরে থেকেই ফাঁকা বুলি আওড়ান! ব্যাস, এই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলো রাশিয়া। ওদিকে আসাদও বুঝে গেছেন, আইএস উৎখাতের নামে যুক্তরাষ্ট্রের আসল উদ্দেশ্য কী! ক্ষমতা রক্ষায় শেষে রাশিয়াকে হামলায় অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।
মস্কোও যেন এই অপেক্ষাতেই ছিলো। সাথে সাথেই রাশিয়ার পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাশ হয়ে গেলো। ১৯৭৯ সালের আফগান অভিযানের পর এই প্রথম দেশের বাইরে দূরবর্তী কোন স্থানে আবারও সামরিক হামলায় অংশ নিচ্ছে রাশিয়া। পুতিন স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, "জঙ্গিরা রাশিয়ায় আঘাত হানার আগেই মস্কো তাদের ওপর হামলা করবে"। তিনি আরও বলেন, "আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ঠেকানোর একমাত্র যথার্থ উপায় হচ্ছে আগে থেকে সক্রিয় হওয়া, কাছে আসার জন্য অপেক্ষা না করে সন্ত্রাসীদের ইতিমধ্যে দখল করা ভূখণ্ডেই লড়াই করে তাদের ধ্বংস করা"।
সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ওবামা-পুতিন বৈঠকের পরই রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলায় যোগদানের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিলো। এবার সত্যি সত্যিই সামরিক বিমান পাঠানোয় নড়েচড়ে বসেছে ওয়াশিংটন। এবার শুরু হলো আরেক স্নায়ুযুদ্ধ। শুরু হলো আইএস এর বিরুদ্ধে ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা। যে বেশি সফল হবে, সে-ই ঠিক করবে সিরিয়ায় আসাদ ক্ষমতায় থাকবে কি না -ব্যাপারটা যেন এমনই। তবে খোদ আসাদ ক্ষমতায় পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে খবরে প্রকাশ। তাহলে রাশিয়া কী চায়? যেকোন মূল্যে দেশটিতে সোশ্যালিজম টিকিয়ে রাখা, পাশ্চাত্যের আধিপত্য থেকে মুক্ত রাখা? রাশিয়া থেকে যে হাজার হাজার রুশ নাগরিক আইএস এ যোগ দিয়েছে, পুতিন চান না তারা দেশে ফিরে এসে আবার কোন ঝামেলা বাধাক। তাই সিরিয়ার মাটিতেই তাদের সলিল সমাধি রচনার পণ করেছেন তিনি?
এদিকে মার্শাল বাশার-আল-আসাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তে নেমেছে ফ্রান্স। বাশার পড়েছেন নানা জটিলতায়। এই অবস্থায় টিকে থাকাটাই তাঁর জন্য অনেক। আইএস ওদিকে দিনকে দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। কী হবে শেষে? কারা জয়ী হবে? ক্ষমতার প্রদর্শনের লড়াইয়ে কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন?
-দেব দুলাল গুহ
সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




