আজব এক ঘটনা ঘটেছে উগান্ডায়! সেখানে নাকি ঈশ্বরকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এক ব্যাক্তি। তাঁর ইচ্ছা ছিলো, মৃত্যুর পর ঈশ্বর যেন তাঁর অর্জিত টাকা-পয়সার একটা ভাগ নিয়ে শেষ বিচারের দিন তাঁকে তাঁর পাপের জন্য ক্ষমা করে দেন! ইয়ে মানে, এমন পাপমুক্তির পথ আসলেই খোলা আছে নাকি?
.
লোকটার নাম চার্লস অবং। তিনি উগান্ডার জনসেবা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র পারসোনেল অফিসার ছিলেন দীর্ঘ এক দশক। সেখানে থাকাকালীন বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হন তিনি। ইহজগতের কোনো দুদক তাঁকে শাস্তির আওতায় আনতে পারেনি। কিন্তু তাতে কি? তিনি তো জানেন, শেষ বিচারের দিন স্রষ্টা তাঁর পাপকর্মের বিচার ঠিকই করবেন! তাই তিনি ঠিক করলেন, স্রষ্টাকেও ঘুষের একটা অংশ দিয়ে দেশের কর্মকর্তাদের মতো তাঁকেও চুপ করিয়ে দেওয়া যাক! মানে ধরুন সমঝোতার মাধ্যমে স্রষ্টাও একদিন ভরপেট খেলেন বা স্ত্রীকে একটা সোনার গহনা উপহার দিলেন, আবার একটা স্মার্টফোন কিনে নিয়ে ফেসবুকও চালালেন, বিনিময়ে তাঁকেও স্বর্গের টিকিটটা ধরিয়ে দিলেন! কী আজব উদ্ভট আজগুবি চিন্তা!
.
যাহোক, যেই ভাবা সেই কাজ। কীর্তিমানের মৃত্যু নাহলেও এই মহাকীর্তিমান লোকটির মৃত্যু হয়েছে ৫২ বছর বয়সে। দেশটির লিরা জেলার উত্তরের দিকে তাঁর বাড়িতেই তাঁকে দাফন করা হয়েছে। মরার আগে তিনি তাঁর স্ত্রীকে বলে গেছেন তাঁর কফিনে যেন অনেক টাকাসহ তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর ভাইবোনদেরকেও বলে গেছেন স্ত্রী তাঁর কথা রাখেন কিনা খেয়াল রাখতে। স্ত্রী সাহেবা বেঈমানী করেন নি। তিনি স্বামীর কথা রেখে কফিনে ৬ মিলিয়ন টাকা দিয়ে স্বামীকে মুড়িয়ে মাটির নিচে তাঁকে দাফন করেছেন। যে ধাতব কফিনে তাঁকে দাফন করা হয়েছে, সেটার দামও সেদেশের টাকায় ৫ লক্ষ টাকা!
.
যাহোক, সেখানেই ভদ্রলোক শেষ বিচারের দিনের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন স্রষ্টা সেই টাকা এসে নিজে হাতে নিবেন এবং যারপরনাই আপ্লুত হয়ে তাঁকে স্বর্গ পর্যন্ত নিজেই এগিয়ে দিয়ে আসবেন। কিন্তু বিধি বাম! এক সপ্তাহ অপেক্ষায় থাকতে না থাকতেই সেই টাকায় হাত পড়লো ঠিকই, কিন্তু তা স্রষ্টার হাত নয়। সেই টাকা তাঁরই গ্যাং মেম্বারদের হাতে লেগে বেহাত হয়ে গেছে! তাঁকে মাটির নিচ থেকে টেনে তুলে তাঁর থেকে টাকাগুলো ছিনতাই করে নিয়েছে তাঁরই অপকর্মের সাথীরা! এখন বেচারার কী হবে, আমি ভেবে পাচ্ছি না!
লেখাঃ দেব দুলাল গুহ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



